সেতুর উদ্বোধন আটকাতে চেষ্টার ত্রুটি রাখেনি রেল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের আগেই বর্ধমান রেল স্টেশনের উপরে  নব নির্মিত রেল সেতুর উদ্বোধন করে ফেলল রাজ্য় সরকার। এমনকী উদ্বোধনের সময় সরিয়ে দেওয়া হল রেলের দেওয়া ব্যারিকেডও। 

বর্ধমানের নতুন এই রেল সেতুটি রাজ্য সরকার এবং রেল দফতরের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত। প্রায় তিনশো কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি এই রেল সেতুর উদ্বোধন নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক। মঙ্গলবার তড়িঘড়ি রেল সেতুর উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য। রেল দফতর জানায়, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর রেলমন্ত্রী নিজে এসে সেতুর উদ্বোধন করবেন। সেখানে রাজ্যের পদাধিকারীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে। সেতু চালু করার আগে সেতুর লোড টেস্ট, গাড়ি চলাচলের জন্য সিগন্যালিং ব্যবস্থা শেষ করার কথাও বলে রেল। কিন্তু রেলের কোনও আপত্তিই শোনেনি রাজ্য। 

এ দিন প্রথমে পশ্চিম মেদিনীপুরের বীরসিংহ গ্রাম থেকে সেতুর উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতুর উদ্বোধন করার পরে বর্ধমানে ফিতে কেটে সেতুর উদ্বোধন করেন মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। সেতুর উপরে যাতে যান চলাচল না করতে পারে এবং সাধারণ মানুষ উঠতে না পারে তার জন্য ব্যারিকেড করে দিয়েছিল নির্মাণের দায়িত্বে থাকা রেলের অধীনস্থ সংস্থা আরভিএনএল। এ দিন উদ্বোধনের পরেই রাজ্য সরকারের কর্মীরা সেই ব্যারিকেডও সরিয়ে দেয়। 

আরও পড়ুন- রেলের আপত্তি উড়িয়ে রাজ্যের উদ্বোধন, বর্ধমানের নতুন সেতু ঘিরে জোর বিতর্ক

সুব্রতবাবু অবশ্য স্বীকার করে নিয়েছেন, সেতুর উদ্বোধন হয়ে গেলেও কবে থেকে যান চলাচল শুরু হবে তা এখনও ঠিক হয়নি। উদ্বোধন বিতর্ক নিয়ে তাঁর দাবি. 'এর পর কেউ এসে উদ্বোধন করতেই পারেন। কিন্তু রেলমন্ত্রী থাকাকালীন এই সেতুর স্বপ্ন দেখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে মুখ্যমন্ত্রী হয়েও তিনি সেতুর কাজের তদারকি করেছেন। তিনিই আজ সেতুর উদ্বোধন করেছেন। কবে যান চলাচল শুরু হবে, তা পরে জানানো হবে।' মন্ত্রীর এই বক্তব্যেই পরিষ্কার যে এখনও সেতুর কাজ শেষ হয়নি। 

তবে রেলমন্ত্রীকে উদ্বোধন নিয়ে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি সুব্রতবাবু। তিনি বলেন, 'কেউ নাকি বলেছেন আবার  উদ্বোধন হবে। কিন্তু আমার কাছে খবর আর দ্বিতীয়বার উদ্বোধন হবে না।  কেউ যদি আসে, আমার অফিসাররা যেন দেখিয়ে দেয়  আমরা কত ভালো কাজ করেছি।'