আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট:  সাধক বামাখ্যাপা মুলুটির মা মৌলিক্ষাকে বলতেন বড় মা। আর তারাপীঠের মা তারা ছোট মা। সেই রীতি মেনে শুক্লা চতুর্দশীতে আজও  মা মৌলিক্ষার পুজো হয় আগে। তারপর পুজো পান মা তারা। 

 বড় মা অর্থাৎ মৌলিক্ষা দেবীর অধিষ্ঠান করছেন বীরভূম সীমানা লাগোয়া ঝাড়খণ্ডের মুলুটি গ্রামে। এই গ্রামে আবার একাধিক শিব মন্দির আছে। তাই মুলুটি গ্রামটি গুপ্তকাশি নামেও পরিচিত। কথিত আছে,  গৌতম বুদ্ধের সময়ে দেবী মৌলিঙ্গা আর্বিভাব হয়। সেকালে সন্ন্যাসী ও রাজা প্রথম এই দেবীর দর্শন পান। পরবর্তীকালে স্বপ্নাদেশ পেয়ে ঝাড়খণ্ডের মুলুটি গ্রামে দেবী মৌলিঙ্গা বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন রাজা রাখর চন্দ্র। দেবী মৌলিঙ্গা দুর্গারই একটি রূপ। দুর্গার মতোই এই দেবীর বাহনও সিংহ।  

বীরভূম আর ঝাড়খণ্ডে মাঝখান দিয়ে বয়ে গিয়েছে দ্বারকা নদী। নদীর একপাড়ে ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া রামপুরহাট, আর অন্য পাড়ে তারাপীঠ। তারাপীঠ মন্দিরটি একসময়ে ছিল নাটোরের রানীর এলাকায়। মুলুটির মৌলিক্ষাদেবীর মন্দিরের সেবাইত কানাইলাল চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, একবার দ্বারকা নদী পেরিয়ে তারাপীঠে পুজো দিতে গিয়েছিলেন ঝাড়খণ্ডের তৎকালীন রাজা। কিন্তু তারাপীঠের মন্দিরে রাজাকে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখেন নাটোরের রানীর কর্মচারীরা। শেষপর্যন্ত ঝাড়খণ্ডে ফিরে মুলুটি গ্রামে ঘট প্রতিষ্ঠা করে মৌলিঙ্গা দেবীর পুজো শুরু করেন রাজা। এদিকে নাটোরের রানীকে স্বপ্নে দেখা দেন তারাপীঠের মা তারা। বলেন, তাঁর পুজো এখনও হয়নি। রানী যখন কর্মচারীদের কাছে পুজো না হওয়ার কারণ জানতে চান, তখন তাঁরা জানান, ঝাড়খণ্ডের রাজা তারাপীঠে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে পুজো না দিয়েই ফিরে গিয়েছেন।  রানীর নির্দেশে রাজাকে তারাপীঠে এনে পুজোর ব্যবস্থা করা হয়। তারাপীঠ ও মুলুটি, দুই জায়গাতেই ছিল সাধক বামাক্ষ্যাপার অবাধ বিচরণ। তিনি মুলুটির দেবী মৌলিঙ্গাকে বড় মা ও তারাপীঠের তারা-কে ছোট মা বলতেন।  সেই থেকেই দেবী মৌলিক্ষাকে বড় মা হিসাবেই মেনে আসেন সকলে। একমাত্র শুক্লা চতুর্থীর দিন তারাপীঠের বিগ্রহকে পশ্চিমমুখো করে বসানো হয়। মুলুটি গ্রামে দেবী মৌলিঙ্গা পুজো শেষে শুরু পুজো শুরু হয় তারাপীঠে।  কথিত, শুক্ল চতুর্থীর দিনে তারাপীঠে মানত করলে ভক্তদের মনোষ্কামনা পুরণ হয়।