নির্যাতন, তার সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে জোর করে ডিভোর্স পেপারে সই করানোর চেষ্টা। তৃণমূলের দাপুটে নেতা এবং মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সদস্যের বিরুদ্ধে এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন তাঁর স্ত্রী। অভিযোগ জমা পড়েছে খোদ পুলিশ সুপারের কাছেও। গোটা ঘটনায় যথেষ্টই অস্বস্তিতে তৃণমূল নেতৃত্ব। 

রঘুনাথগঞ্জ থানা এলাকার কৃষ্ণসাইলের ওই অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার নাম নাসির শেখ। তাঁর স্ত্রীর নাম রেহেনা বিবি। ২০০১ সালে তাঁদের বিয়ে হয় বলে জানা গিয়েছে। ওই গৃহবধূর অভিযোগ, 'আমাকে দীর্ঘদিন ধরে উনি আমার উপরে মানসিক ও শারীরিক নিগ্রহ করেছে। শুধু তাই নয়, জোর করে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ডিভোর্স পেপারে সই করার জন্য প্রতি মুহূর্তে আমাকে হেনস্থা করেছে। এমন কী, হাত পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে  অসুস্থ দুই সন্তান নিয়ে যথেষ্ট সমস্যায় পড়েছি।' ওই গৃহবধূর অভিযোগ, নিয়মিত তাঁর উপরে নজর রাখছে ওই তৃণমূল নেতার কিছু  অনুগামী। দলের জেলা নেতৃত্বকেও তিনি বিষয়টি জানিয়েছেন বলে দাবি তৃণমূল নেতার স্ত্রীর। বর্তমানে একটি বাড়ি ভাড়া করে সন্তানদের নিয়ে থাকছেন রেহেনা। 

রেহেনা এবং তাঁর পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের সময় পণ হিসেবে লক্ষাধিক টাকা এবং সোনার গয়না দেওয়া হয় নাসিরকে। প্রথম দিকে সুখেই ছিলেন দম্পতি।  অভিযোগ, এর পরে এক বহিরাগত মহিলাকে নিয়ে দম্পতির মধ্যে গন্ডগোল শুরু হয়। ওই মহিলাকে বিয়ে করার জন্য নাসির রেহেনাকে ডিভোর্স দেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ। কিন্তু তাতে রাজি না হওয়াতেই তাঁর উপরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু হয় বলে দাবি তৃণমূল নেতার স্ত্রীর। 

আরও পড়ুন- বাসের মধ্যেই ঝগড়া- হাতাহাতি, বর্ধমানে স্বামীকে পোস্টে বেঁধে রাখলেন স্ত্রী

স্বামীর বিরুদ্ধে রঘুনাথগঞ্জ থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন রেহেনা। অভিযোগ জানাতে চান মুখ্যমন্ত্রীকেও। অসুস্থ সন্তানদের নিয়ে ভাড়া বাড়িতে থাকতে গিয়ে যথেষ্ট সমস্যায় তিনি। শেষ পর্যন্ত পুলিশ সুপারেরও কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। 

অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা নাসির শেখের অবশ্য পাল্টা দাবি, স্ত্রীর উপরে কোনও অত্যাচার করেননি তিনি। আইনি পদ্ধতি মেনেই তাঁকে বিবাহবিচ্ছেদের কাগজ পাঠিয়েছেন। এ বিষয়ে মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূল মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ তথা জেলা তৃণমূল সভাপতি আবু তাহের খান বলেন, 'আমার কাছে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনার কোন অভিযোগ কেউ জানায়নি। যদি অভিযোগ পাই, তাহলে খোঁজ নিয়ে সবদিক খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যাবস্থা গ্রহণ করব।'

 মাস তিনেক  আগেই মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে সানিয়াত চৌধুরী নামে এক যুব তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে এক নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলাও দায়ের হয়।