এবার রাজ্য়পালকেই বেনজির ভাবে কালো পতাকা দেখালেন তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকরা। পাল্টা তাঁদের দিকে হাত নেড়ে সৌজন্যের রাজনীতি করলেন জগদীপ ধনখড়। 

একই দিনে মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যপালের জেলা সফর নিয়ে আশঙ্কায় ছিলেন জেলা প্রশাসনের কর্তারা। সরকারি সফরে এ দিন মুর্শিদাবাদে পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর ডোমকলের একটি কলেজের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। ডোমকল  গার্লস কলজের নতুন ভবনের উদ্বোধনে এসেছিলেন রাজ্যপাল। রাজ্যপাল যে রাস্তা দিয়ে কলেজে পৌঁছন, সেখানেই তাঁর পথ আটকে কয়েক হাজার তৃণমূল কর্মী বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। রাজ্যপালের উদ্দেশে কালো পতাকা দেখানো হয়। সঙ্গে দেওয়া হয় গো ব্যাক স্লোগান। 

রাজ্যপাল অবশ্য তৃণমূল কর্মীদের বিক্ষোভে বিচলিত হননি। উল্টে গাঁধীগিরির পথে হাঁটেন তিনি। জানলার কাচ নামিয়ে হাসিমুখেই বিক্ষোভকারীদের দিকে তাকিয়ে হাত নাড়তে থাকেন তিনি। যদিও, এই ঘটনায় রাজ্যপালের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল। কারণ যে তৃণমূল কর্মীদের ভিড় সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খায় পুলিশ। 

এ দিন সকালেই মুর্শিদাবাদ যাওয়ার পথে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন রাজ্যপাল। তিনি অভিযোগ করেন, তিনি কোথাও গেলে সেখানে পুলিশ সুপারও সৌজন্য দেখিয়ে তাঁকে স্বাগত জানাতে আসছেন না। পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তাও থাকে না বলে অভিযোগ করেন ধনখড়। একই সঙ্গে এবারও ডোমকলে যাতায়াতের জন্য হেলিকপ্টার না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। 

তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ জেলার মুখপাত্র অশোক দাস বলেন, 'রাজ্যপাল সর্বত্রই গেরুয়া শিবিরের হয়ে তৃণমূলের প্রতিপক্ষ হিসেবে লড়াইয়ে নেমেছেন। এ দিন তিনি রাজনীতি করতেই মুর্শিদাবাদে এসেছেন।' পাল্টা তৃণমূলের রাজ্যপাল কে ঘিরে এই বিক্ষোভ প্রদর্শন ও গো ব্যাক স্লোগানকে তীব্র কটাক্ষ করেন মুর্শিদাবাদ দক্ষিণের বিজেপি জেলা সভাপতি গৌরীশংকর ঘোষ। তিনি বলেন,'তৃণমূলের কাছ থেকে ন্যূনতম সৌজন্যবোধ  আশা করা যায় না। তাই তারা আজ রাজ্যপালের পদ আটকে তাঁকে গো ব্যাক স্লোগান দিয়ে হেনস্থার চেষ্টা করল।'