আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার ফের আস্থা ভোট হল ভাটপাড়া পুরসভায়।  ১৯-০ ব্যবধানে জিতে পুরসভার দখল নিল তৃণমূল কংগ্রেসই।  তবে শাসকদলের সমস্ত কাউন্সিলর হাজির থাকলেও, ভোটাভুটিতে অংশ নেননি বিজেপি কাউন্সিলররা। আস্থা ভোটের ফল প্রকাশ্যে আসতেই পুরসভার বাইরে আবির খেলায় মেতে ওঠেন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার আস্থা ভোট হয় ভাটপাড়ায় পুরসভার। সেদিনও ১৯-০ ব্যবধানে জিতে বিজেপি-এর হাত থেকে পুরসভাটি ছিনিয়ে নেয় তৃণমূল। কিন্তু গেরুয়াশিবিরে কাউন্সিলররা ভোটাভুটিতে অংশ নেননি, উল্টে বেআইনিভাবে আস্থা ভোট করানোর অভিযোগে হাইকোর্টের মামলা করে বিজেপি। যেদিন আস্থা ভোট হয়, সেদিনই অনাস্থা প্রস্তাব ও ভোটাভুটি খারিজ করে দেন হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ। পরের দিন অর্থাৎ শুক্রবার সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করেন ভাটপাড়া পুরসভার তিনজন তৃণমূল কাউন্সিলর।  কিন্তু সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ে কপি না থাকায় খারিজ হয়ে যায় দ্রুত শুনানির আর্জি।

সোমবার মামলা শুনানিতে ভাটপাড়া পুরসভায় ফের আস্থা ভোট করানোর পক্ষে মতপ্রকাশ করে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে অন্যতম বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত। সাফ জানিয়ে দেন, 'সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলেও কেউ ক্ষমতায় থাকতে পারে না। গত বৃহস্পতিবার ভাটপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যানের সঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না। সে আস্থা ভোটের ফল যাই হোক না কেন।' শেষপর্যন্ত মঙ্গলবার ভাটপাড়া পুরসভায় ফের আস্থাভোট করানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

উল্লেখ্য, বিজেপি পরিচালিত ভাটপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন তিনজন তৃণমূল কাউন্সিলর।  গেরুয়াশিবিরে দাবি, চেয়ারম্যান নিজে ২০ জানুয়ারি সভা ডেকেছেন। কিন্তু তার আগে বেআইনিভাবে সভা ডেকে অনাস্থা প্রস্তাব পাস করিয়ে নিয়েছেন তৃণমূল কাউন্সিলররা। যদিও সেই দাবি ধোপে টেকেনি আদালতে।