সাইক্লোন যশ আসার আগেই মঙ্গলবার দুপুরে আচমকা টর্নেডো-র কবলে পড়ল হুগলীর ব্যান্ডেল। এদিন ব্যান্ডেলে এরআচমকাই হাতির শুঁড়ের মতো ঘুর্ণি তৈরি হয়। মাত্র ২-৩ মিনিটের সেই ঝড়ে বহু দোকান ও বাড়ির ক্ষতি হয়েছে। ব্যান্ডেল চার্চ এলাকায় বহু দোকানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই ছোট আকারের টর্নেডোকে ঘিরে দারুণ আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয় ব্যান্ডেল এলাকায়। পাণ্ডুয়ায় বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয়এচে ২ জনের।

মঙ্গলবার দুপুরে ব্যান্ডেলের চুনিমিয়া ঘাট সংলগ্ন এলাকা ওই ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয়। হুগলি-চুঁচুড়া পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে, ব্যান্ডেল চার্চ সংলগ্ন এলাকার বেশ কয়েকটি দোকানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। একটি মূর্তির দোকান উড়ে গিয়ে পাশের একটি খালে পড়ে যায় বলে খবর। গাছ পড়ে বহেশ কয়েকটি বাড়ির চালও ভেঙে গিয়েছে। কয়েকটি বাড়ির টিনের চাল পাক খেতে খেতে উড়ে গিয়েছে বহু দূরে। ব্যান্ডেলে গঙ্গার তীরবর্তী বিভিন্ন কল-করাখানারও ক্ষতি হয়েছে।

ব্য়ান্জেলে টর্নেডো চলার সময় এদিন বজ্রাঘাতে দুই ব্যক্তির মৃত্যুও হয়েছে। পাণ্ডুয়ার হড়াল দাসপুরে ২২ বছরের মাঝির মৃত্যু হয়। ঝড়ের সময় তিনি বাড়ির বাইরে ছিলেন। অন্যদিকে পাণ্ডুয়ারই দ্বারবাসিনী পঞ্চায়েতের আটপালা গ্রামের বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী স্বপন বাউল দাস মাঠে কাজ করতে গিয়ে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারাণ।

ছোট আকারের টর্নেডোর দেখা গিয়েছে গঙ্গা উল্টোপাড়ের উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহর এবং নৈহাটি এলাকাতেও। তার জেরে হালিশহরে অন্তত ৪০টি বাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে খবর। এদিন সকাল থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়েছিল হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনায়। এরপর দুপুরে বৃষ্টির মধ্যেই আচমকাই শুরু হয় ওই ঝড়। ঘূর্ণিঝড় যশ ওড়িশার দিকে চলে যাবে ভেবে, বঙ্গবাসী এদিন বেশ নিশ্চিন্ত ছিলেন। তারমধ্যেই এই ঝড়ে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিছু ক্ষণের ছোট ঝড়েই যা ক্ষযক্ষতি হয়েছে এদিন, যশ যদি হঠাৎ রাস্তা পাল্টে বঙ্গের দিকে চলে আসে, তাহলে কী হবে, সেই ভাবনাতেই গায়ের রোম খাড়া হযে যাচ্ছে ব্যান্ডেল ও হালিশহরের মানুষের।

ঘূর্ণিঝড় যশ ওড়িশাগামী হলে এখানে কেন ছোট আকারের টর্নেডো হচ্ছে? আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরাসরি বাংলার দিকে না আসলেও বাংলার একটা বড় অংশ আপাতত এই ঘূর্ণিঝড় ব্যব্স্থার মধ্য়েই রয়েছে। তাই, নিচের দিকে ছোট আকারের এই রকম টর্নেডো তৈরি হতেই পারে। এদিন ব্যান্ডেলে সেরকমই ঘটনা দেখা গিয়েছে।