গ্রিন জোন থাকল না পুরুলিয়া ।পুরুলিয়ার বলরামপুর থানার বলরামপুর এবং রঘুনাথপুর থানার বাঘাডাবর গ্রামে দু জনের দেহে পাওয়া গেলো কোভিড ১৯ ভাইরাস।দুজনেই বর্তমানে ঝাড়খণ্ডের টাটা মেন হসপিটাল এবং দুর্গাপুরের সনকা কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দীর্ঘ দুমাস পর গ্রিন জোন পুরুলিয়ায় করোনা পজিটিভ আসার খবরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে জেলায়। 

বলরামপুরে হৃদরোগ আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা করাতে গিয়ে করোনা পজিটিভ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছেন বলরামপুরের এক ব্যক্তি।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৩ শে মে হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। তারপর তাঁর পরিবারের লোকজন জামশেদপুরে একজন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ইসিজি হয়।তাতে রিপোর্ট নরমাল দেখালেও পরের দিন অর্থাৎ ২৪ সে মে আবার পরিবারের লোকজন টাটার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ইসিজি করার পর দুটো রিপোর্টের মধ্যে পার্থক্য দেখায়। 

তখন একজনের পরামর্শ মতো টাটা মেন হাসপাতালে টেস্ট করাতে গিয়ে তাকে চিকিৎসকরা তার করোনা টেস্ট করতে বলেন। ২৬ তারিখ তার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর তাকে একটি অ্যামবুলেনস করে সোজা টাটা মেন হাসপাতালের আইসোলেশনে  নিয়ে যায়।আক্রান্ত ব্যাক্তির পরিবারের থেকে জানানো হয় তিনি এখন ঠিক রয়েছেন।পরিবারের আরও দুই সদস্যের কোরোনা টেস্ট হলেও তাদের রিপোট এখোনও এসে পৌঁছয়নি। 

টাটাতে থাকা আক্রান্ত ব্যক্তির মোট বারোজনকে কোয়ারান্টাইনে রেখেছেন হাসপাতাল কতৃপক্ষ। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে,  বলরামপুরে আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারকে নজরে রাখা হয়েছে।বলরামপুরের বাড়িতে তার স্ত্রী এবং মাকে নজরে রেখেছে প্রশাসন। দ্রুত ঐ এলাকা স্যানিটাইজেশন করা হবে বলে জানানো হয়। অন্যদিকে, পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর ১ নম্বর ব্লকের বাঘাডাবর গ্রামের মহারাষ্ট্র ফেরত এক পরিযায়ী শ্রমিকের নমুনা পরীক্ষায় ধরা পড়েছে কোরোনা পজিটিভ।

পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, ঐ শ্রমিক গত ১৯সে মে মহারাষ্ট্র থেকে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে আসেন।তাঁকে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়।এরপরে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে  তাঁর নমুনা পাঠানোর পর জানা যায় ওই ব্যাক্তির  করোনা আক্রান্ত।ওই শ্রমিকের সংস্পর্শে থাকা সকলকে শনাক্ত কোরেন্টাইনে রাখা  হবে বলে জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়।ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে ৩৫হাজরের বেশি পরিযায়ী শ্রমিক পুরুলিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে এসে পৌঁছেছেন।আর ভিন রাজ্য ফেরত পরিযায়ী শ্রমিক করোনা আক্রান্ত হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে জেলা জুড়ে।