রেললাইনের পাশে পড়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে এক যুবক। মাথা ফেটে গলগল করে রক্ত পড়ছে, যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন তিনি।  আশেপাশে কৌতুহলী মানুষের ভিড়।  কিন্তু পুলিশের ঝামেলা আর কেই বা পড়তে চায়! তাই আঘাত গুরুতর বুঝেও ওই যুবককে হাসপাতালে নিয়ে এগিয়ে এলেন না কেউ। সকলেই যখন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন, তখন নিজেদের পয়সা খরচ করে আহত যুবকটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেন দুই পড়ুয়া। ব্লক স্বাস্থ্য়কেন্দ্র, হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে এখন তিনি ভরতি কলকাতার আরজিকর হাসপাতালে।  
 

জানা গিয়েছে.  আহত যুবকের নাম ইসলাম বিশ্বাস। বাড়ি, উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায়। বাবার সঙ্গে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কলের মিস্ত্রির কাজ করতেন বছর চৌত্রিশের ওই যুবক।  প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শনিবার শিয়ালদহ-বনগাঁ শাখার মছলন্দপুর থেকে সংহতি স্টেশনের মাঝে রেললাইনের ধারে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিলেন ইসলাম। তাঁর মাথার ফেটে গলগল করে রক্ত পড়ছিল। দাঁড়ানো তো দূর, কথা বলার মতো অবস্থাতেও ছিলেন না তিনি।  ঘটনাটি জানাজানি হতেই রেললাইনের ধারে ভিড় জমান আশেপাশের লোকজন। ইসলামের অবস্থা যে গুরুতর, তা বুঝতে বাকি ছিল না কারওই।  বস্তুত, অনেকে তো এমনও বলতে শোনা যায় যে, মাথার থেকে যেভাবে রক্ত বেরোচ্ছে, তাতে অবিলম্বে চিকিৎসার ব্যবস্থা না হলে ওই যুবক হয়তো মারা যাবেন। কিন্তু, স্রেফ পুলিশি ঝামেলার ভয়ে ইসলাম বিশ্বাসকে হাসপাতালে নিয়ে উদ্যোগ নেননি কেউ।  জটলা দেখে রেললাইনে দিকে এগিয়ে যান নিলয় বিশ্বাস ও রাহুল বিশ্বাস নামে দুই যুবক।  নিলয় দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র, আর রাহুল স্থানীয় একটি বেসরকারি কলেজে তৃতীয় বর্ষের পড়েন। ইসলামের অবস্থা দেখে আর দেরি করেননি তাঁরা। আরও তিন বন্ধুকে ডেকে ওই যুবককে প্রথমে মছলন্দপুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান তাঁরা।  অবস্থার গুরুতর হওয়ার তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয় হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। সেখান থেকে আবার রাতেই রোগীকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় কলকাতার আরজিকর হাসপাতালে।  এদিকে খবর পেয়ে রাতে আরজিকর হাসপাতালে পৌঁছন ইসলাম বিশ্বাসের বাবা খালেক বিশ্বাস। উদ্ধারকারী পাঁচ যুবককে ধন্য়বাদ জানিয়েছেন তিনি।

কিন্তু, আহত যুবকের পরিচয় জানা গেল কীভাবে? রেললাইনের ধারে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি পড়েইবা ছিলেন কেন? বনগাঁ জিআরপি তরফে জানানো হয়েছে, শনিবার বিকেলের মছলন্দপুর ও সংহতি স্টেশনের মাঝে শিয়ালদহগামী চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে যান ইসলাম বিশ্বাস। দুর্ঘটনার পর দীর্ঘক্ষণ রেললাইনের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিলেন তিনি।  উদ্ধারকারী পাঁচ যুবক জানিয়েছেন, ইসলামের পকেট মোবাইল ফোন ছিল। সেই ফোন থেকে নম্বর জোগাড় করে তাঁর বাড়িতে খবর দেন  তাঁরা।