একজন কেশপুরের বিধায়ক, আর একজন দাসপুরের। 'দিদিকে বলো'  কর্মসূচিতে এলাকার মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনতে গিয়ে মেদিনীপুরে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের দুই মহিলা বিধায়ক। 

লোকসভা ভোটের পর জনংযোগের নয়া কৌশল নিয়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। 'দিদিকে বলো' কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলনেত্রীর নির্দেশ, ঠান্ডা ঘরে বসে নয়, গ্রামে গ্রামে গিয়ে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনতে হবে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধিদের। এমনকী, গ্রামের রাতও কাটাতে হবে তাঁদের।  কিন্তু দলনেত্রীর নির্দেশ মানতেই গিয়ে বিপাকে পড়লেন পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের তৃণমূল বিধায়ক শিউলি সাহা ও দাসপুরের বিধায়ক মমতা ভুঁইয়া।

জানা গিয়েছে, সোমবার 'দিদিকে বলো' দাসপুরে গৌরা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় গিয়েছিলেন স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক মমতা ভুঁইয়া।  আর বিধায়কে সামনে পেয়ে ক্ষোভ উগরে দেন গ্রামবাসীরা। রীতিমতো বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়।  গ্রামবাসীদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায়  স্থানীয় সোনামুই গ্রাম থেকে জ্যোৎঘনস্যাম গ্রাম পর্যন্ত একটি রাস্তা তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু বছর তিনেক হতে চলল, সেই কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নিয়ম মেনে রাস্তা তৈরির কাজ হচ্ছিল না। বিষয়টি যখনই তাঁরা প্রশাসনের নজরে আনেন, তখনই রাস্তা তৈরি কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।  বহুবার প্রশাসন জানানো হলেও রাস্তা তৈরির কাজ শুরু হয়নি। এদিকে  রাস্তা তৈরি না হওয়ার সমস্যায় পড়েছেন আশেপাশের ১০ থেকে ১২টি গ্রামের মানুষ। শুধু তাই নয়, ব্লক স্তরের তৃণমূল নেতাদের দুর্নীতির কারণেই কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।  গ্রামবাসীদের রাস্তার দাবি যে ন্যায্য, তা মেনে নিয়েছেন দাসপুরের তৃণমূল বিধায়ক মমতা ভুঁইয়াও।   তবে তাঁর দাবি, গ্রামবাসীরা শুধু রাস্তার তৈরির দাবি জানিয়েছেন। কোনও বিক্ষোভ হয়নি।  প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমস্যার সমাধান করে দেবেন। 

এদিকে 'দিদিকে বলো' কর্মসূচিতে নিজের নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভে মুখে পড়তে হয় কেশপুরের তৃণমূল বিধায়ক শিউলি সাহাকেও।  শনিবার স্থানীয় ঘোষপুর গ্রামে গিয়েছিলেন তিনি।  কিন্তু বিধায়ক গ্রামে ঢোকামাত্রই, তাঁর গাড়ি বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।  অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ। গ্রামবাসীদের বক্তব্য, ইন্দিরা আবাস যোজনা, গীতাঞ্জলীর মতো সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না, গ্রামের রাস্তাঘাটও বেহাল। এমনকী, সিপিএম কর্মীরা তাঁদের গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ।  গ্রামবাসীদের বিক্ষোভে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, একসময় তৃণমূল বিধায়ক শিউলি সাহাকে বলতে শোনা যায়, দলের হাইকমান্ডের নির্দেশেই সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনতে এসেছেন। দিনভর গ্রামে ঘুরবেন তিনি। এমনকী, রাতেও গ্রামেই থাকবেন। আর তাতেই পরিস্থিতি শান্ত হয়।