মালদহের সুজাপুরে অশান্তিকে কেন্দ্র করে বড়সড় অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। অভিযোগ সুজাপুরে বনধকে ঘিরে গন্ডগোল চলাকালীন বেশ কিছু গাড়িতে ভাঙচুর করে পুলিশ। সেই ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। সেখানে বন্দুক দিয়ে পুলিশকেই গাড়ি ভাঙচুর করতে দেখা গিয়েছে। যদিও এই ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করেনি এশিয়ানেট নিউজ বাংলা। 

এই ঘটনায় সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দিকেই আঙুল তুলেছেন বিরোধীরা। তাঁদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর প্ররোচনাতেই এ দিন গাড়ি ভাঙচুর করে বনধ সমর্থকদের দোষারোপ করেছে পুলিশ। 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন গঙ্গাসাগর থেকেই বলেন, বনধ সমর্থকদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। এর কিছুক্ষণ পরেই মালদহের সুজাপুর থেকে অশান্তির খবর আসে। সিপিএম পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিমের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী প্ররোচনা দেওয়ার পরই ভাল পোস্টিং- এর লোভে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে পুলিশ। 

এ দিন মালদহের সুজাপুরে জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন বনধ সমর্থনকারীরা। পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দিতে গেলে দু' পক্ষের মধ্য়ে সংঘর্ষ বাধে। কিছুক্ষণের মধ্যেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। বেশ কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। পুলিশের একটি গাড়িতেও আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে তুমুল ইটবৃষ্টি শুরু হয়ে যায়। পুলিশও পাল্টা লাঠিচার্জ করে, ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাস। 

এই ঘটনার পরেই একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিও-র উল্লেখ করে সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম অভিযোগ করেন, পুলিশই গাড়ি ভাঙচুর করে বনধ সমর্থকদের নামে দোষ দিচ্ছে। যে ভিডিও-র কথা বলা হচ্ছে, সেখানে লাঠি এবং বন্দুক হাতে পুলিশ ও সিভিক ভলেন্টিয়ারদের দাঁড় করিয়ে রাখা গাড়ির কাচ ভাঙতে দেখা গিয়েছে। যদিও এই ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করেনি এশিয়ানেট নিউজ বাংলা। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও অভিযোগ, পুলিশই গাড়ি ভাঙচুর করেছে। 

সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম অভিযোগ করেন, 'খোদ মুখ্যমন্ত্রী ধর্মঘট বানচাল করার চেষ্টা করেছিলেন। উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথের পুলিশ গাড়ি, দোকানপাট ভাঙচুর করে মানুষের নামে মিথ্যে মামলা করেছে। বাংলার পুলিশও উত্তরপ্রদেশের পুলিশকে দেখেই মালদহের সুজাপুরে গাড়ি ভাঙচুর করেছে।'

পুলিশের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র। তিনি স্বাধীন কোনও সংস্থাকে দিয়ে এই ঘটনার তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী নিজে যাতে ওই ভিডিও ফুটেজ দেখেন, সেই দাবিও করেছেন কংগ্রেস নেতা। কংগ্রেস বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তী ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন।  যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, বিরোধীরা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে মালদহের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ওই ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।