পণের দাবিতে খুন হলেন গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে, বসিরহাট মহকুমার মিনাখাঁ ব্লকের হাড়োয়া থানার মোহনপুর অঞ্চলের মল্লিক ঘেরি ঘাট পাড়া গ্রামে। ঘটনায় এলাকার লোক জানতে পেরে বধূকে উদ্ধার করে প্রথমে হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা বছর চব্বিশের মামনি মন্ডলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই তদন্ত শুরু করেছে হাড়োয়া থানার পুলিশ। 

আরও পড়ুন, টালির ঘরে টিমটিমে আলো, ভাগ চাষির বিদ্যুতের বিল এক লক্ষ টাকা

পরিবার সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ মল্লিক ঘেরি গ্রামের বাসিন্দা অজিত পাত্রের একমাত্র কন্যার নয় বছর আগে  বছর চব্বিশের মামনি মন্ডলের সঙ্গে মল্লিক ঘেরি ঘাট পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাধন মন্ডলের বড় পুত্র  প্রবীর মন্ডলের বিবাহ হয়। পেশায় ভ্যান চালক বছর আটাশের প্রবীর মন্ডল। সেই সময় সাধ্যমত নগদ অর্থ সোনার গহনা আসবাবপত্র দিয়েছিল প্রবীর মন্ডলের শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এরপর তাদের একটি পুত্র সন্তান হয়। যার বয়স বর্তমান সাত বছর। বধুর বাপের বাড়ির অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে পণের দাবীতে বধূর উপর নির্মম অত্যাচার চালাত। যার দরুণ মৃতার শ্বশুরবাড়িকে এক বছর আগে তাদের একটি নতুন ইঞ্জিন ভ্যান দেওয়া হয়। এছাড়াও সব মিলিয়ে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা পণ দেন বধুর বাপের বাড়ির লোকেরা। তার পরেও থামেনি অত্যাচার। অভিযোগ, হঠাৎই মঙ্গলবার রাতে বধূর সঙ্গে ঝগড়া করেন এবং বধুকে বেধড়ক মারধর করেন এবং বলতে থাকেন বাপের বাড়ি থেকে আরও কিছু নিয়ে আসতে। অভিযোগ, বধুঁ রাজি না হয় তাঁকে মেরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। 

আরও পড়ুন, ফেব্রুয়ারির শেষেই রাজ্য থেকে পুরোপুরি শীতের বিদায়, বসন্ত এসে গিয়েছে কলকাতায়

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রের খবর, এই ঘটনায় এলাকার লোক জানতে পেরে বধূকে উদ্ধার করে প্রথমে হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা  বছর চব্বিশের মামনি মন্ডল কে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনায় আট জনের বিরুদ্ধে হাড়োয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বধূর বাপের বাড়ির লোকেরা। শ্বশুরবাড়ি লোকেরা পলাতক ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে হাড়োয়া থানার পুলিশ। মৃত দেহটি ময়না তদন্তের জন্য বসিরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য় এর আগেও বসিরহাটে পণের বলি হয়েছিলেন এক গৃহবধু। ঘটনাটি ঘটেছিল  বসিরহাট মহকুমার বসিরহাট থানার জিরাকপুর এলাকায়। পণের চাহিদা পূরণ করতে না পারায় বছরে একুশের মুক্তা আইচকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ ওঠে শ্বশুর ও শাশুড়ি বিরুদ্ধে। শ্বশুর ও শাশুড়ি বিরুদ্ধে  বসিরহাট থানা অভিযোগ দায়ের করেন মৃতার বাপের বাড়ি তরফে। এরপরই অভিযুক্ত শ্বশুর -শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।