
দীপাবলি উপলক্ষ্যে অনেকেই নতুন বাইক কেনার পরিকল্পনা করেন। তবে শুধু বাইকের দাম নয়, রেজিস্ট্রেশন, ইনস্যুরেন্স, রোড ট্যাক্স, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পেট্রোলের খরচও মাথায় রাখতে হয়। বিশেষ করে যারা প্রতিদিন অফিস, কলেজ বা কাছাকাছি কোথাও যাতায়াত করেন, তাদের জন্য বেশি সিসির বাইকের চেয়ে কম দামি এবং ভালো মাইলেজ দেয় এমন বাইক বেশি উপকারী। এই ক্যাটাগরিতে ১০০ থেকে ১১০ সিসির বেশ কয়েকটি মডেল ক্রেতাদের নজর কাড়ছে।
কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কম দামের বাইকের তালিকায় হিরো এইচএফ ১০০, হিরো এইচএফ ডিলাক্স, টিভিএস স্পোর্ট, হন্ডা শাইন ১০০ এবং বাজাজ প্ল্যাটিনা ১০০ বেশ জনপ্রিয়। তবে শহর, ভ্যারিয়েন্ট এবং শোরুমের ওপর ভিত্তি করে এগুলোর দাম আলাদা হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, হিরোর বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, দিল্লিতে এইচএফ ১০০-এর এক্স-শোরুম দাম প্রায় ৫৯,৪৭৭ টাকা।
এই তালিকায় প্রথমেই রয়েছে হিরো এইচএফ ১০০। যারা কম দামে নতুন বাইক কিনতে চান, তাদের জন্য এটি দারুণ একটি বিকল্প হতে পারে। ৪-স্পিড গিয়ারবক্স এবং শহরের রাস্তায় চালানোর উপযোগী ডিজাইন এর মূল আকর্ষণ। এরপরই রয়েছে হিরো এইচএফ ডিলাক্স। হিরোর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট অনুযায়ী, বাইকটির বর্তমান দাম ৫৯,৪৭৭ টাকা। ৯৭.২ সিসি ইঞ্জিনের এই মডেলের কয়েকটি ভ্যারিয়েন্টে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য অটোমেটিক স্টার্ট-স্টপ প্রযুক্তিও রয়েছে।
কোম্পানির দাবি অনুযায়ী, এই বাইকের একটি ভ্যারিয়েন্ট লিটারে ৭২ কিলোমিটার পর্যন্ত মাইলেজ দেয়। তাই যারা প্রতিদিন অফিস বা কলেজে যাতায়াত করেন এবং দীর্ঘমেয়াদে পেট্রোলের খরচ বাঁচাতে চান, তাঁরা এই দুটি মডেলের মধ্যে তুলনা করে দেখতে পারেন।
যারা একটু বেশি পাওয়ারের বাইক খুঁজছেন, তারা টিভিএস স্পোর্ট দেখতে পারেন। এতে রয়েছে ১০৯.৭ সিসির ইঞ্জিন, ৪-স্পিড গিয়ারবক্স এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, এটির ইঞ্জিন সর্বোচ্চ ৬.০৩ কিলোওয়াট পাওয়ার এবং ৮.৭ নিউটন মিটার টর্ক তৈরি করতে পারে। এছাড়া নির্দিষ্ট স্পিডে বাইক চালিয়ে মাইলেজ বাড়ানোর জন্য এতে একটি ইকোনোমিটারও দেওয়া হয়েছে।
তালিকায় এরপর রয়েছে হন্ডা শাইন ১০০। হোন্ডার এই আপডেটেড মডেলটির দিল্লিতে প্রারম্ভিক এক্স-শোরুম দাম ৬৮,৭৬৭ টাকা। এটিতে রয়েছে ৯৮.৯৮ সিসির ইঞ্জিন এবং ৪-স্পিড গিয়ারবক্স। পরিবেশের নিয়ম মেনে বাইকটির ইঞ্জিন তৈরি করা হয়েছে। যারা প্রতিদিন ব্যবহারের জন্য একটি সাধারণ ও টেকসই বাইক চান, তাদের জন্য এটি একটি ভালো বিকল্প।
তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে বাজাজ প্ল্যাটিনা ১০০। বাজাজের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট অনুযায়ী, দিল্লিতে মডেলটির প্রারম্ভিক দাম ৭২,৯৪২ টাকা। এতে রয়েছে ৯৯.৫৯ সিসির সিঙ্গেল-সিলিন্ডার ইঞ্জিন, যা ৮.২ হর্সপাওয়ার শক্তি তৈরি করে। বাইকটিতে ১১ লিটারের ফুয়েল ট্যাঙ্ক দেওয়া হয়েছে। লম্বা ও আরামদায়ক সিট, উন্নত সাসপেনশন, ইলেকট্রিক স্টার্ট এবং ডিআরএল-এর মতো ফিচার রয়েছে এতে। বিশেষ করে খারাপ রাস্তায় যাঁরা একটু বেশি আরাম চান, তাঁদের জন্য প্ল্যাটিনা ১০০ সেরা পছন্দ হতে পারে।
তাই শুধু দাম দেখে বাইক না কিনে, আপনার প্রতিদিনের যাতায়াতের দূরত্ব, রাস্তার অবস্থা, প্রত্যাশিত মাইলেজ এবং প্রয়োজনীয় ফিচারগুলো মিলিয়ে দেখা উচিত। এই ৫টি বাইকের মধ্যে কোনটি আপনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হবে, তা আপনার ব্যবহারের ওপরই নির্ভর করছে।
যদি আপনার বাজেট একদমই কম হয়, তবে এইচএফ ১০০-এর মতো মডেল দেখতে পারেন। কম দামে বেশি ফিচার ও ভালো মাইলেজ চাইলে এইচএফ ডিলাক্স দারুণ একটি অপশন। একটু বড় ইঞ্জিন এবং রোজকার যাতায়াতে মাইলেজকে গুরুত্ব দিলে টিভিএস স্পোর্ট বেছে নিতে পারেন। আর ১০০ সিসির একটি নির্ভরযোগ্য বাইক চাইলে হোন্ডা শাইন ১০০ আপনার তালিকায় থাকতেই পারে।
খারাপ রাস্তায় আরামদায়ক যাত্রার জন্য প্ল্যাটিনা ১০০ বেশ মানানসই। মনে রাখবেন, এক্স-শোরুম দামই কিন্তু শেষ কথা নয়। রেজিস্ট্রেশন, রোড ট্যাক্স, ইনস্যুরেন্স এবং অন্যান্য চার্জ যোগ করলে অন-রোড দাম অনেকটাই বেড়ে যায়। এছাড়া দীপাবলিকে কেন্দ্র করে কোম্পানি ও ডিলাররা নানা ধরনের ছাড় দিয়ে থাকে। তাই উৎসবের আবহে তাড়াহুড়ো না করে, বাইকের আসল দাম এবং আনুষঙ্গিক খরচ হিসাব করে তবেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিন।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।