
২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র বা সাধারণতন্ত্র দিবস। ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে শুরু হয়েগেছে প্রস্তুতি। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা- সর্বত্র দিনটি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হয়। সরকারি অফিসের পাশাপাশি স্কুল কলেজের মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এই দিনটি গুরুত্বসহকারে পালন করা হয়। স্কুলগুলিতে ২৬ জানুয়ারি বা সাধারণতন্ত্র দিবস অবশ্যই পাঠ্য বিষয়। এই দিনটি নিয়ে রচনা আসে। সাধারণ প্রশ্নও আসে।
সাধারণতন্ত্র দিবস বা প্রজাতন্ত্র দিবসের রচনা - সাধারণত যে কোনও রচনা বইতেই পাওয়া যায়। কিন্তু সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ার রমরমার কারণে এই বিষয়ে রচনা সোশ্যাল মিডিয়াতেও পাওয়া যায়। রইল তারই একটি নমুনা।
২৬ জানুয়ারি ভারতে পালন করা হয় প্রজাতন্ত্র বা সাধারণতন্ত্র দিবস। কারণ ১৯৫০ সালের এই দিনটিতেই ভারতের সংবিধান কার্যকর করা হয়েছিল। এই বিশেষ দিনেই ভারত একটি সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক, প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়েছিল। যা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাহ ও দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিল। নয়াদিল্লি-সহ দেশের সবকটি রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলেই প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ হয়।
ভূমিকা, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, গুরুত্ব ও তাৎপর্য, কীভাবে উদযাপন করা হয় এইগুলি অবশ্যই রাখতে হবে। আর থাকবে উপসংহার।
২৬ জানুয়ারি কেন প্রজানতন্ত্র দিবস বা সাধারণতন্ত্র দিবস পালন করা হয় তা লিখতে হবে। একই সঙ্গে লিখতে হবে এই দিনটি ভারতবাসীর কাছে জাতীয় গর্ব আর সার্বভৌমত্বের প্রতীক। সেই কারণে এই দিনটিকে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়।
দিনটির ইতিহাস লেখা প্রয়োজন। সেখানেই লিখবতে হবে ১৯৩০ সালে ২৬ জানুয়ারি জাতীয় কংগ্রেস পূর্ণ স্বরাজ ঘোষণা করেছিল, যা ছিল সম্পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি। সেই ঐতিহাসিক দিনটিকে সম্মান জানাতেই ১৯৫০ সালে ২৬ জানুয়ারি থেকে ভারতের নিজস্ব সংবিধান কার্যকর করা হয়। এই সংবিধানের মাধ্যমেই ভারত একটি সার্বভৌম, ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়।
গুরুত্ব ও তাৎপর্য
এই পর্যায় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা, সংবিধানের শ্রেষ্ঠত্ব, ঐক্যের উৎসব- এই তিনটি বিষয় থাকবে। এখানে লিখতে হবে ভারতের জনগণই ক্ষমতার উৎস। দেশের শাসনভার দেশের মানুষের হাতেই রয়েছে। সংবিধানই শেষ কথা বলে। একই সঙ্গে বিআর আম্বেদকরের নেতৃত্বে সংবিধান কীভাবে রচনা করা হয়েছিল তাও লিখতে হবে। পাশাপাশি থাকবে ভারত বৈচিত্রময় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মিলনক্ষেত্র। এই দেশে জাতি, ধর্ম, বর্ণ- নির্বিশেষে সকল মানুষই সমান।
দিল্লির পাশাপাশি প্রত্যেক রাজ্য এই দিনটি বিশেষভাবে উদযাপন করে। কর্তব্যপথের প্যারেড থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতির ভাষণ সবই থাকে। দিনটি সেনা বাহিনীর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এই দিনটিতে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের কথাও স্মরণ করা হয়।
প্রজাতন্ত্র দিবস শুধু একটি ছুটির দিন নয়, এটি আমাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ঐক্য ও সংহতির এক মহোৎসব। এই দিনটি আমাদের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দেয় যে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের কর্তব্য হলো সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।