
ওড়িয়া চলচ্চিত্র জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। জনপ্রিয় সঙ্গীত পরিচালক ও গায়ক অভিজিৎ মজুমদার আর নেই। রবিবার সকাল প্রায় ৯টা নাগাদ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৫৪ বছর। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা ওড়িয়া ইন্ডাস্ট্রিতে। অভিজিৎ মজুমদার দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে হঠাৎ করেই তিনি কোমায় চলে যান। তখন তাঁকে তড়িঘড়ি ভুবনেশ্বরের এইমস হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং আইসিইউতে রাখা হয়।
চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে মাস দুয়েক পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। সেই সময় তাঁকে মেডিসিন ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অভিজিতের একাধিক শারীরিক জটিলতা ছিল। তিনি স্নায়ুর সমস্যা, নিউমোনিয়া ছাড়াও লিভারের অসুখ, ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা, পুষ্টির ঘাটতি এবং রক্তজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। নভেম্বর মাসে কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি ট্র্যাকিওস্টোমি টিউবের মাধ্যমে সাধারণ নির্দেশে সাড়া দিচ্ছিলেন। এমনকি তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছিল। কিন্তু পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কারণে সেই পরিকল্পনা পিছিয়ে যায়।
এরপর ২৩ জানুয়ারি হঠাৎ আবার তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। দ্রুত তাঁকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত রবিবার সকালে তিনি সকলকে কাঁদিয়ে চলে যান। অভিজিৎ মজুমদার ওড়িয়া সিনেমায় একের পর এক জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন। তাঁর সুরে বহু ছবির গান শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।
সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে তাঁর অবদান ওড়িয়া ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি চিরদিন মনে রাখবে। তাঁর প্রয়াণে ওড়িয়া ইন্ডাস্ট্রির বহু তারকা, পরিচালক ও শিল্পীরা শোকপ্রকাশ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে তাঁরা অভিজিতের স্মৃতিচারণ করে তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ওড়িয়া সঙ্গীত জগত আজ এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হারাল। অভিজিৎ মজুমদারের সুর ও গান চিরকাল শ্রোতাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।