
ডিজিটাল যুগে ভাইরাল হওয়ার নেশা এখন আট থেকে আশি—সবার মধ্যেই। সেই বাস্তবতাকেই মজার মোড়কে বড়পর্দায় তুলে ধরতে চলেছেন অভিনেতা-পরিচালক রাজু মজুমদার। আদিকা প্রোডাকশন্সের প্রযোজনায়, আদিত্য অশোকের প্রযোজকত্বে তৈরি হচ্ছে তাঁর নতুন ছবি ‘ফনীবাবু ভাইরাল’। এই ছবির গল্পের পটভূমি আজকের আধুনিক গ্রাম। যেখানে প্রযুক্তি পৌঁছে গেছে ঘরে ঘরে, সবার হাতেই রয়েছে মুঠোফোন। এমনই এক গ্রামের আশির কোঠার বৃদ্ধ ফনী ঘোষ ওরফে ফনীবাবুকে ঘিরেই আবর্তিত হয় গল্প।
তাঁর স্ত্রী সুন্দরী, পরিবার ও প্রতিবেশীদের সম্পর্কের মধ্য দিয়েই ধীরে ধীরে এগোয় কাহিনি। জীবনসংগ্রামে বহু ওঠানামার মধ্যেও ফনীবাবু সারাজীবন নিজের পরিবারের প্রতি ছিলেন দায়বদ্ধ। কষ্ট করে জমিজমা, বাড়িঘর সবই তৈরি করেছেন পরিবারের ভবিষ্যতের জন্য। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বয়সের ভারে আজ তিনিই হয়ে উঠেছেন পরিবার ও সমাজের কাছে ‘বোঝা’। এই অবহেলার ছবিটাই আমাদের চারপাশের কঠিন বাস্তবকে তুলে ধরে। এই পরিস্থিতির মাঝেই হঠাৎ একদিন রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যান ফনীবাবু। ভারচুয়াল দুনিয়ায় তিনি হয়ে ওঠেন স্টার। প্রশ্ন উঠে আসে—এই ভাইরাল হওয়া কি তাঁর জীবনে সত্যিই পরিবর্তন আনে? তিনি কি আগের মতোই অবহেলিত থাকেন, না কি সমাজে নতুন করে সম্মান পান? রীল আর রিয়েল লাইফের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ফনীবাবুর অতীত ও বর্তমানের গল্পই মজার ছলে বলা হবে ‘ফনীবাবু ভাইরাল’ ছবিতে।
ছবির কাহিনি দর্শকদের সামনে তুলে ধরছেন অভিনেতা-পরিচালক রাজু মজুমদার নিজেই। চিত্রগ্রহণে রয়েছেন সুদীপ্ত মজুমদার। আর্ট ডিরেকশনের দায়িত্বে অমিত দে। সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন সমীধ মুখার্জি ও দেবদীপ মুখার্জি। কণ্ঠ দিয়েছেন রূপঙ্কর বাগচী, উর্ভী মুখার্জি, পৌষালী ব্যানার্জি ও সমীধ মুখার্জি। সম্পাদনায় রয়েছেন অমিত রায়। ছবির অভিনয়শিল্পীদের তালিকাও বেশ সমৃদ্ধ। রয়েছেন শুভাশিস মুখার্জি, রশ্মনি ভট্টাচার্য, খরাজ মুখার্জী, কাঞ্চন মল্লিক, সঞ্জীব মুখার্জী, মনীশ চক্রবর্তী, তমালি দে মজুমদার, অনিন্দিতা ভদ্র, দ্বীপান্বিতা নাথ, মন্টু মল্লিক, রানা পাল, সমীর কুন্ডু, প্রবীর দত্ত, দেবাশিষ গাঙ্গুলী, অচ্যিন্ত দত্ত সহ আরও অনেকেই। পরিচালক রাজু মজুমদার জানিয়েছেন, লকডাউনের সময় লেখালেখির চর্চা করতে গিয়েই ‘ফনীবাবু ভাইরাল’-এর ভাবনা আসে তাঁর মাথায়।
আজকের দিনে প্রায় সকলের হাতেই স্মার্টফোন, আর সেই ফোনকে ঘিরেই সবাই রাতারাতি স্টার হতে চায়। কেউ ইচ্ছে করে ভাইরাল হয়, আবার কেউ হঠাৎ করেই। সেই ভাইরাল হওয়ার পর মানুষের সম্পর্ক, মূল্যবোধ আর চারপাশের বদলে যাওয়া আচরণ—এই প্রশ্নগুলোরই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন তিনি এই ছবিতে। রাজু মজুমদার শুধু চিত্রনাট্য লেখাই নয়, পরিচালনার দায়িত্বও নিজেই সামলেছেন। তাঁর কথায়, ‘ফনীবাবু ভাইরাল’ শুধুই একটি কমেডি নয়, বরং সমাজের আয়নায় নিজেকে দেখার সুযোগ। ডিজিটাল দুনিয়ার চকচকে আলো আর বাস্তব জীবনের অবহেলার সংঘাত নিয়ে তৈরি এই ছবি দর্শকদের ভাবাবে, হাসাবে এবং সম্পর্কের নতুন মানে খুঁজতে সাহায্য করবে—এমনটাই আশা করছে টিম ‘ফনীবাবু ভাইরাল’।