প্রয়াত রাজনীতিবিদ মুকুল রায়কে অনুসরণ করে তৃণমূলে ফিরেছিলেন অভিনেতা সোহেল দত্ত। সোহেলের মতে, বিজেপিতে যোগ দিয়ে মানসিক ভাবে ভালো ছিলেন না মুকুল রায়। মুকুল রায়ের থেকেই রাজনীতিতে মানুষের কথা শোনার শিক্ষা পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

অভিনয় জগতের পাশাপাশি রাজনৈতিক জগতেও নিজের জায়গা পাকা করতে কঠিন পরিশ্রম করতে দেখা দিয়েছে সোহেল দত্তকে। এক সময় মুকুল রায়ের পথে হেঁটেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নিয়েছিলেন সোহেল। ২০১৭ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন মুকুল। সে সময়ই তাঁকে অনুসরণ করেছিলেন অভিনেতা। তবে, বর্তমানে তিনি ফের তৃণমূলেই যোগ দিয়েছেন।

মুকুল রায়ের প্রয়াণ এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে বিশেষ মন্তব্য করেন সোহেল। তিনি জানান, ‘মুকুল রায়ের মতো এত বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারানো নিঃসন্দেহে একটা ক্ষতি। তবে শুভ্রাংশ রায় শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ঈশ্বরের ওপর তো কেউ নেই। অনেক কষ্ট পেলেন শেষ জীবনে। একটা সময় চেনা যাচ্ছিল না তাঁকে, এই মুকুল রায়ই কি তিনি? বার বার মনে হত, বিজেপিতে যাওয়াটা কি তবে…? আসলে বিজেপিতে মানসিক ভাবে ভালো ছিলেন না উনি, সেই জন্যই ফিরে এসেছিলেন তৃণমূলে।’ তিনি জানান, মুকুল রায়ের থেকেই শিখেছেন, রাজনীতিতে বড় কিছু করতে গেলে লোকের কথা শুনতে হবে। সেটাই তিনি অনুসরণ করছেন।

প্রসঙ্গত, রবিবার গভীর রাতে প্রয়াত হন মুকুল রায়। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি সমস্যা-সহ একাধিক শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এই বর্ষীয়ান নেতা। ভর্তি ছিলেন নিউটাউনের এক বেসরকারি হাসপাতালে।

সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বযস হয়েছিল ৭১ বছর। তাঁর প্রয়াণে রাজনৈতিক মহলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ছেলে শুভ্রাংশু বাবার মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করেন। সোমবার মুকুল রায়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হাসপাতালের বাইরে ভিড় করতে শুরু করতে দেখা গিয়েছিল অসংখ্য মুকুল অনুরাগী। মুকুল রায় তৃণমূলে এক সময় সেকেন্ড ইন কমান্ডের দায়িত্বে ছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরেই যদি কোনও নেতার কথা বলা হত, সেটা ছিলেন মুকুল রায়। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে রাজ্য এবং জাতীয় রাজনীতিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ২০১১ সালে বাংলায় বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটানোর পর দলকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। আজ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন এই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ।