
8th Pay Commission: আলোচনা ও পরামর্শের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) যোগ্য ইউনিয়ন, সমিতি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক বৈঠকটি ৭ অক্টোবর বুধবার থেকে বেঙ্গালুরুতে আয়োজন করতে যাচ্ছে।
আগামীকাল শুরু হতে যাওয়া এই বৈঠকের জন্য নির্দিষ্ট কোনও আলোচ্যসূচি (এজেন্ডা) কমিশন এখনও চূড়ান্ত করেনি। তবে গত কয়েক মাসে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও সংগঠনের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া স্মারকলিপিগুলোতে বেতন, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, ভাতা, পেনশন সংস্কার এবং কর্মজীবনের অগ্রগতি বা ক্যারিয়ার প্রগ্রেশন—এই বিষয়গুলোকে প্রধান উদ্বেগের ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যেসব উল্লেখযোগ্য সংগঠন তাদের দাবি পেশ করেছে, তাদের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্ডিয়ান রেলওয়েজ টেকনিক্যাল সুপারভাইজারস অ্যাসোসিয়েশন’ (IRTSA) এবং ‘রেলওয়ে সিনিয়র সিটিজেনস ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ (RSCWS)। বছরের শুরুর দিকে জমা দেওয়া তাদের স্মারকলিপিগুলোতে রেলওয়ে কর্মী ও পেনশনভোগীদের বিভিন্ন উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়েছিল। সেখানে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, পেনশন সংস্কার এবং ভাতার মতো বিষয়গুলোর ওপর আলোকপাত করা হয়েছিল।
মুম্বাইতে অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী বৈঠকগুলোতেও একই ধরনের বিষয় উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে, কারণ কর্মী ইউনিয়নগুলোর মৌলিক দাবি ও প্রত্যাশা মূলত এই বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হবে।
আসুন দেখে নেওয়া যাক IRTSA এবং RSCWS-এর প্রস্তাবিত প্রধান পরিবর্তনগুলো কী কী।
IRTSA টেকনিক্যাল সুপারভাইজারদের জন্য বিদ্যমান বেতন ও ক্যারিয়ার কাঠামোতে পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছে। তারা ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতি, ‘মডিফাইড অ্যাসিওর্ড ক্যারিয়ার প্রগ্রেশন স্কিম’ (MACPS) এবং কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং কর্মপরিবেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভাতার বিষয়ে বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করেছে।
সংগঠনটি ন্যূনতম বেতন ৫২,৬০০ টাকা এবং বিভিন্ন বেতন স্তরের (pay levels) জন্য আলাদা আলাদা ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া, তারা জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার (JEs) এবং সিনিয়র সেকশন ইঞ্জিনিয়ারদের (SSEs) ক্যারিয়ারের অগ্রগতির সুযোগ বাড়ানো এবং কঠিন দায়িত্ব পালনের জন্য উন্নত বেতন কাঠামোর দাবিও জানিয়েছে।
RSCWS মূলত অবসরকালীন নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক বেতন ও ভাতা কাঠামোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। তাদের স্মারকলিপিতে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, পারিশ্রমিকের একটি বড় অংশ মূল বেতনের (basic pay) অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, কারণ কিছু ভাতা পেনশনের হিসাবের সময় বিবেচনায় নেওয়া হয় না। এর পাশাপাশি, কর্মরত কর্মী ও পেনশনভোগীদের ক্রয়ক্ষমতা বজায় রাখার লক্ষ্যে ভাতার পর্যায়ক্রমিক পর্যালোচনা এবং মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে অধিকতর সুরক্ষার দাবিও জানানো হয়েছে। RSCWS অবসর-পরবর্তী চলমান খরচ—যেমন আবাসন, যাতায়াত ও স্বাস্থ্যসেবা—এর বিষয়গুলো তুলে ধরেছে এবং পেনশনভোগীদের জন্য আরও ভালো আর্থিক নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে।
মূল বিষয় / IRTSA-র দাবি / RSCWS-এর দাবি
দ্রষ্টব্য: এই দাবিগুলো মূলত উদাহরণস্বরূপ। বিস্তারিত তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোর স্মারকলিপি দেখুন।
আসন্ন বৈঠকগুলোতে মূলত একই মূল বিষয়গুলোর ওপর আলোচনার আশা করা হচ্ছে: ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, বেতন সংশোধন এবং পেনশন সংস্কার ইত্যাদি।
তবে, কর্মরত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য এটি মনে রাখা জরুরি যে, বিভিন্ন ইউনিয়নের দাবিগুলোকে অষ্টম বেতন কমিশনের প্যানেলের চূড়ান্ত সুপারিশ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে চূড়ান্ত সুপারিশ পেশ করার আগে কমিশন বিভিন্ন অংশীজনদের (stakeholders) মতামত ও প্রস্তাব বিবেচনা করবে। কমিশনের প্রতিবেদনটি ২০২৭ সালের মে-জুন নাগাদ—অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের ১৮ মাস পর—পেশ করা হবে বলে প্রাথমিকভাবে আশা করা হচ্ছে।