
8th Pay Commission: অষ্টম বেতন কমিশন দশমীর ঠিক পরপরই, ২২ ও ২৩ অক্টোবর মুম্বাইতে তাদের পরবর্তী বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ৮ অক্টোবর বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর, এটি অক্টোবর ২০২৬-এ আয়োজিত দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে চলেছে।
গত কয়েক মাস ধরে সারা দেশে আয়োজিত এই বৈঠকগুলোতে, বিভিন্ন কর্মচারী ইউনিয়ন ও সংগঠনগুলো মূল বেতন (basic pay), গ্রেড পে (grade pay) এবং বেতন স্তর (pay level)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর তাদের মতামত, অভিযোগ ও প্রত্যাশা তুলে ধরেছে। এর পাশাপাশি ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর (fitment factor), পেনশন সংস্কার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী, সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং পেনশনভোগীদের জন্য এটি বোঝা অত্যন্ত জরুরি যে, উপরে উল্লিখিত প্রতিটি পরিভাষার আলাদা অর্থ রয়েছে এবং একজন কর্মীর বেতন নির্ধারণে এগুলোর ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকা আছে। অষ্টম বেতন কমিশনের পক্ষ থেকে সংশোধিত বেতন ও পেনশনের সুপারিশের অপেক্ষায় থাকা কর্মীদের জন্য এই বিষয়গুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উদাহরণস্বরূপ, ন্যাশনাল কাউন্সিল (জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি) বা NC-JCM-এর ‘স্টাফ সাইড’ (কর্মচারী পক্ষ) অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে যে, কর্মীদের ন্যূনতম মূল বেতন ৬৯,০০০ টাকা করা হোক। তারা ৩.৮৩৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের ভিত্তিতে এই দাবি জানিয়েছে।
ষষ্ঠ ও সপ্তম বেতন কমিশনে অনুমোদিত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ছিল যথাক্রমে ১.৮৬ এবং ২.৫৭। এবার ইউনিয়নগুলো আরও বড় গুণক (multiplier) বা ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবি জানাচ্ছে, যাতে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির মোকাবিলা করতে সক্ষম হন। এই প্রেক্ষাপটে, আসুন মূল বেতন, গ্রেড পে এবং বেতন স্তরের মধ্যে মৌলিক পার্থক্যগুলো বুঝে নেওয়া যাক।
মূল বেতন (Basic pay) হলো একজন কর্মীর বেতনের প্রধান অংশ, যার মধ্যে মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance বা DA) বা বাড়ি ভাড়া ভাতার (House Rent Allowance বা HRA) মতো অন্যান্য ভাতা অন্তর্ভুক্ত থাকে না। সাধারণত মূল বেতনের ওপর ভিত্তি করেই এই ভাতাগুলো হিসাব করা হয়। কর্মীর বেতন স্তর, মুদ্রাস্ফীতির প্রবণতা এবং বেতন কাঠামোতে তাঁর অবস্থানের ওপর নির্ভর করে এই অর্থের পরিমাণ ভিন্ন ভিন্ন হয়।
অন্যদিকে, গ্রেড পে (Grade pay)-এর বিষয়টি কিছুটা আলাদা; এটি ষষ্ঠ বেতন কমিশনের অধীনে প্রবর্তিত হয়েছিল। কোনো কর্মীর পদমর্যাদা ও জ্যেষ্ঠতা প্রতিফলিত করার লক্ষ্যে এটিকে 'পে ব্যান্ড'-এর (pay band) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তবে, সপ্তম বেতন কমিশন 'গ্রেড পে' (grade pay) ব্যবস্থাটি বাতিল করে ১৮টি স্তরবিশিষ্ট একটি 'পে ম্যাট্রিক্স' (pay matrix) চালু করে, যার ফলে বেতন ও বেতন বৃদ্ধি (increment) নির্ধারণ করা সহজতর হয়।
ব্যাংকবাজার (BankBazaar)-এর সিইও আধিল শেঠি, মূল বেতন (basic pay), গ্রেড পে এবং পে লেভেলের (pay level) মধ্যে পার্থক্য বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, "মূল বেতন হলো একজন সরকারি কর্মীর বেতনের প্রধান অংশ; এর ওপর ভিত্তি করেই ডিএ (DA - মহার্ঘ ভাতা) এবং এইচআরএ (HRA - গৃহভাড়া ভাতা)-র মতো ভাতাগুলো হিসাব করা হয়।
ষষ্ঠ বেতন কমিশনের অধীনে গ্রেড পে ব্যবস্থাটি আনা হয়েছিল, যা একটি নির্দিষ্ট পে ব্যান্ডের মধ্যে কর্মীর জ্যেষ্ঠতা নির্দেশ করত। সপ্তম বেতন কমিশন এই কাঠামোর পরিবর্তে ১৮টি স্তরবিশিষ্ট একটি পে ম্যাট্রিক্স চালু করে। উদাহরণস্বরূপ, লেভেল ১-এ বেতন শুরু হয় ১৮,০০০ টাকা থেকে, আর লেভেল ৭-এ তা শুরু হয় ৪৪,৯০০ টাকা থেকে। অষ্টম বেতন কমিশনের অধীনে, প্রতিটি স্তরে সংশোধিত মূল বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে 'ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর' (fitment factor) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।"
বর্তমানে, অষ্টম বেতন কমিশন ২০২৬ সালের ২২ অক্টোবর থেকে মুম্বাইতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সভার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ৩ নভেম্বর, ২০২৫-এ গঠিত হওয়ার পর থেকে, অষ্টম বেতন কমিশন দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, লাদাখ এবং পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সম্পন্ন করেছে।
'টার্মস অফ রেফারেন্স' (ToR) বা কার্যপরিধি অনুযায়ী, বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের এই অষ্টম বেতন কমিশনকে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ১৮ মাস সময় দেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালের মে-জুন মাসের দিকে এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হতে পারে।
অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশগুলোর ওপর ভিত্তি করে বিদ্যমান বেতন কাঠামো, বিভিন্ন ভাতা, মূল বেতন এবং ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর গুণক (multiplier)-এ পরিবর্তন আসতে পারে; তবে এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করবে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, অভ্যন্তরীণ হিসাব-নিকাশ এবং ব্যয়ের মূল্যায়নের ওপর।
উল্লেখ্য যে, অষ্টম বেতন কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশগুলো সরকার কর্তৃক গৃহীত ও কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত সংশোধিত বেতনের পরিমাণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। সুতরাং, চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ না হওয়া পর্যন্ত কর্মীদের উচিত প্রস্তাবিত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর এবং সম্ভাব্য বেতনের অঙ্কগুলোকে নিশ্চিত বেতন বৃদ্ধির পরিবর্তে কেবল প্রাক্কলন হিসেবে গণ্য করা।