
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রবিবার বলেন, সোনারপুরে তাঁর ওপর যে হামলা হয়েছে, তা বিজেপির ঘটানো "রাজনৈতিক হিংসা এবং রাষ্ট্রীয় মদতে সন্ত্রাস"। এই ঘটনায় পাশে থাকার জন্য তিনি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ অভিষেক লেখেন, "রাহুলজি, আপনার উদ্বেগ ও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। ভারতের আত্মাকে রক্ষা করতে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাঁচাতে এবং সংবিধানের মূল্যবোধকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে আমাদের এই লড়াইয়ে আমরা একজোট এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।"
তিনি 'অপারেশন সিন্দুর'-এর কথা উল্লেখ করে আরও বলেন, "গত বছর আমি সর্বদলীয় প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে 'অপারেশন সিন্দুর'-এর জন্য পাঁচটি দেশ সফর করেছিলাম। আমি আমার দেশের হয়ে সওয়াল করেছি এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে দাঁড়িয়েছি। আর আজ আমি নিজেই রাজনৈতিক হিংসা এবং রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার। আর এটা তাদেরই কাজ, যারা নিজেদের জাতীয়তাবাদের রক্ষক বলে দাবি করে। এটাই আজকের বিজেপির আসল সত্যি।"
অভিষেক অভিযোগ করেন যে শাসক দলকে প্রশ্ন করলেই বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের নিশানা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, "আপনি যদি ওদের সমর্থন করেন, তাহলে আপনি দেশপ্রেমিক। আর প্রশ্ন করলেই আপনি ওদের টার্গেট। ওদের পাশে থাকলে খাতিরযত্ন, আর বিরুদ্ধে গেলেই আপনার মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করা হবে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "নিজের নীতির সঙ্গে আপস করে আরামে থাকার চেয়ে গণতন্ত্র রক্ষা করতে গিয়ে ভয়ভীতির মুখে পড়া আমার কাছে অনেক বেশি শ্রেয়। ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু মানুষের ইচ্ছাই শেষ কথা। আমি শুধু মানুষের কাছেই মাথা নত করব, ক্ষমতায় থাকা লোকেদের কাছে নয়।"
তাঁর কথায়, "যারা গণতন্ত্রকে দুর্বল করতে এবং দেশকে ভাগ করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে। ইন্ডিয়া জোট একজোট হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং আমরা একসঙ্গে এটা নিশ্চিত করব যে ভয়, ঘৃণা, হিংসা এবং ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতি পরাজিত হবে এবং মানুষের কণ্ঠ জয়ী হবে।"
এই এক্স পোস্টটিতে অভিষেক তাঁর সম্পূর্ণ বার্তা দেন।
রাহুল গান্ধীর বার্তার জবাবেই অভিষেক এই কথাগুলো বলেন। রাহুল এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছিলেন। এক্স-এ তিনি লেখেন, "সোনারপুরে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। একজন সাংসদের ওপর হামলা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয়, এটা সেই মানুষদের ওপর আক্রমণ যাঁরা তাঁকে নির্বাচিত করেছেন এবং আমাদের সকলের উত্তরাধিকার, এই গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ।"
তিনি আরও বলেন, "এটা বিজেপির প্রতিহিংসার রাজনীতির কুৎসিত মুখ। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে কখনওই হিংসাকে সমর্থন করা যায় না।"
লোকসভার বিরোধী দলনেতা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, "কেন্দ্রীয় সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার—উভয়েরই উচিত দোষীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া এবং এটা নিশ্চিত করা যে, দলমত নির্বিশেষে কোনও জনপ্রতিনিধিকে যেন নিজের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে না হয়।"
রাহুল আরও লেখেন, "অভিষেক, আমি এবং আমার পরিবার তোমার পাশে আছি। তোমার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।"
উল্লেখ্য, এর আগের দিন দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে ভোট-পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ইট, পাথর ও ডিম নিয়ে হামলা চালানো হয়। তাঁর চোখে আঘাত লাগে। তিনি দাবি করেন, এই হামলা "বিজেপি-sponsored" এবং তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। অভিষেক আরও অভিযোগ করেন যে পুলিশ তাঁকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।