সংসদের বাদল অধিবেশন চলছে। শুক্রবার লোকসভা আর রাজ্যসভায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে আলোচনা হবে। লোকসভায় জন্ম-মৃত্যু নথিভুক্তিকরণ এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সংখ্যা সংক্রান্ত বিল পেশ করা হবে। রাজ্যসভায় পেশ হবে MSME সংক্রান্ত একটি বিল।

সংসদের বাদল অধিবেশন এখন পুরোদমে চলছে। শুক্রবার লোকসভা আর রাজ্যসভা, দুই কক্ষেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ হতে চলেছে। লোকসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জন্ম-মৃত্যু নথিভুক্তিকরণ (সংশোধনী) বিল, ২০২৬ পেশ করবেন। এই বিলটি ১৯৬৯ সালের পুরনো আইনটিকে সংশোধন করার জন্য আনা হচ্ছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র আন্দোলন ও নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে গত কয়েক দিন উত্তাল ছিল সংসদ। বিরোধীরা অমিত শাহ ও নরেন্দ্র মোদীর থেকে গোটা বিষয়ের ওপর জবাবদেহী চেয়েছেন। আজ সংসদে যেতে পারেন অমিত শাহ।

এর পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সংখ্যা (সংশোধনী) বিল, ২০২৬ নিয়েও আলোচনা হবে। কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল এই বিলটি পেশ করবেন। বিল পেশের আগে মন্ত্রীরা বিভিন্ন দপ্তরের কাগজপত্র হাউসের টেবিলে রাখবেন। গ্রামোন্নয়ন ও পঞ্চায়েতি রাজ সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির রিপোর্টও পেশ করা হবে।

এছাড়াও, একটি জয়েন্ট কমিটির রিপোর্টের সময়সীমা বাড়ানোর জন্য একটি প্রস্তাব আনা হবে। এই কমিটি তিনটি বিল নিয়ে কাজ করছে - সংবিধান (একশো ত্রিশতম সংশোধনী) বিল, ২০২৫, জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন (সংশোধনী) বিল, ২০২৫ এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সরকার (সংশোধনী) বিল, ২০২৫।

অন্যদিকে, রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতন রাম মাজী ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প উন্নয়ন (সংশোধনী) বিল, ২০২৬ পেশ করবেন। এই বিলটি ২০০৬ সালের মূল আইনটিকে সংশোধন করবে। উচ্চকক্ষে বিভিন্ন সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির সুপারিশ কার্যকর করা নিয়ে মন্ত্রীরা বিবৃতিও দেবেন।

দুটি কক্ষেরই অধিবেশন আজ সকাল ১১টা থেকে শুরু হবে।

প্রসঙ্গত, পাবলিক এগজামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬ বুধবার লোকসভায় পাশ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাজ্যসভাতেও পাশ হয়ে গিয়েছে। ভোটাভুটির সময় বিরোধীরা ওয়াকআউট করেন।

এর পাশাপাশি, লোকসভায় ধ্বনিভোটে পাশ হয়েছে প্রিভেনশন অফ ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (সংশোধনী) বিল, ২০২৬। এই বিল অনুযায়ী, জাতীয় সঙ্গীত 'বন্দে মাতরম'-কে অপমান করা বা বাধা দেওয়া ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। বিরোধীদের হট্টগোলের মধ্যেই বিলটি পাশ হয়। এর একদিন আগেই বিলটি রাজ্যসভায় পাশ হয়েছিল।