
অমরনাথ যাত্রার ইতিহাসে এই প্রথমবার নিরাপত্তার দায়িত্বে নামানো হল CRPF-এর একটি সম্পূর্ণ মহিলা টিম। পহেলগামের কাছে নুনওয়ান বেস ক্যাম্পে এই টিমকে মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের প্রধান কাজ হল মহিলা তীর্থযাত্রীদের তল্লাশি করা এবং তাদের সবরকম সাহায্য করা। এর ফলে অমরনাথ যাত্রার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি নতুন পালক যোগ হল।
এই মহিলা জওয়ানরা মূলত মহিলা ভক্তদের তল্লাশি, লাইনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, বয়স্ক মহিলাদের সাহায্য করা এবং নিরাপত্তা চৌকিগুলিতে মসৃণভাবে তীর্থযাত্রীদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বে থাকবেন।
এই টিমে রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা মুসকান ত্যাগী, যিনি ২০২৩ সালে CRPF-এ যোগ দেন। তার সঙ্গে রয়েছেন আরও এক ডজনেরও বেশি মহিলা জওয়ান। ঐতিহ্যবাহী পহেলগাম রুটের অন্যতম প্রধান বেস ক্যাম্প এই নুনওয়ান।
মুসকানের সঙ্গে এই টিমে আরও আছেন উত্তরপ্রদেশের আরতি সিং, অন্ধ্রপ্রদেশের সন্ধ্যা রানি, নাগাল্যান্ডের কিরণ, পশ্চিমবঙ্গের সোমাশ্রী এবং রাজস্থানের আশা বাই মীনা। এই টিমে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের জওয়ানরা একসঙ্গে কাজ করছেন, যা CRPF-এর বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে। তাদের মূল লক্ষ্য মহিলা তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা এবং সুবিধা নিশ্চিত করা।
নিরাপত্তা তল্লাশির পাশাপাশি, এই মহিলা জওয়ানরা তীর্থযাত্রীদের পথ দেখানো, ক্যাম্পে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং প্রবীণ ও প্রথমবার আসা যাত্রীদের সাহায্য করছেন। মহিলা তীর্থযাত্রীরাও এই পদক্ষেপে বেশ খুশি। তাদের মতে, মহিলা নিরাপত্তা কর্মী থাকায় তল্লাশির প্রক্রিয়াটি অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক হয়েছে।
পহেলগাম থেকে পবিত্র গুহা পর্যন্ত ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী রুটের প্রধান বেস ক্যাম্প হল এই নুনওয়ান। যাত্রা চলাকালীন হাজার হাজার তীর্থযাত্রী এই ক্যাম্পের মধ্যে দিয়ে যাবেন, তাই এখানকার নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
CRPF, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, ভারতীয় সেনা এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সঙ্গে মিলে পহেলগাম এবং বালতাল উভয় রুটেই একটি বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে রোড ওপেনিং পার্টি, বম্ব ডিটেকশন অ্যান্ড ডিসপোজাল স্কোয়াড, ডগ স্কোয়াড, ড্রোন নজরদারি, রাতের টহল এবং কুইক রিঅ্যাকশন টিম। মূল উদ্দেশ্য হল একটি নির্বিঘ্ন তীর্থযাত্রা নিশ্চিত করা।
এবারের অমরনাথ যাত্রা ৩ জুলাই থেকে শুরু হওয়ার কথা। তীর্থযাত্রীরা অনন্তনাগ জেলার পহেলগাম এবং গান্দেরবাল জেলার বালতাল—এই দুটি রুট দিয়েই হিমালয়ের পবিত্র গুহায় পৌঁছবেন।
নুনওয়ান বেস ক্যাম্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। ৩ জুলাই থেকে শুরু হতে চলা যাত্রার জন্য হাজার হাজার তীর্থযাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা বাহিনী কড়া নজরদারি চালাচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্যাম্পে প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। নিরাপত্তা কর্মীরা নিয়মিত টহল, তল্লাশি এবং যানবাহন পরীক্ষা করছেন।
জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, CRPF এবং অন্যান্য সহযোগী সংস্থাগুলিকে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানোর জন্য মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে যেকোনো নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
ফুলপ্রুফ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি সরঞ্জাম এবং চেকপয়েন্টও বসানো হয়েছে।
বম্ব ডিটেকশন অ্যান্ড ডিসপোজাল স্কোয়াড (BDDS) এবং ডগ স্কোয়াডকেও নুনওয়ান বেস ক্যাম্পে মোতায়েন করা হয়েছে। তারা নিয়মিত অ্যান্টি-স্যাবোটাজ চেক, বিস্ফোরক সনাক্তকরণ এবং এলাকা স্যানিটাইজেশনের কাজ করছে।
এইবারের যাত্রা ৩ জুলাই শুরু হয়ে ২৮ আগস্ট শেষ হবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তীর্থযাত্রীরা প্রথমে নুনওয়ান বেস ক্যাম্পে থামবেন এবং তারপর ঐতিহ্যবাহী পহেলগাম রুট ধরে গুহার দিকে ট্রেক শুরু করবেন।
নুনওয়ান ক্যাম্পে বিপুল সংখ্যক তীর্থযাত্রীর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানে আবাসন, চিকিৎসা, শৌচালয়, পানীয় জল এবং খাবারের মতো জরুরি পরিষেবা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিশেষ দল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা কর্মীদেরও প্রস্তুত রেখেছে।
অমরনাথ যাত্রা ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক ধর্মীয় তীর্থযাত্রা, যেখানে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত সমাগম হয়। বালতাল রুটের চেয়ে বেশি সময় লাগলেও, ধীর চড়াই এবং মনোরম দৃশ্যের জন্য অনেকেই ঐতিহ্যবাহী পহেলগাম রুট পছন্দ করেন।
৫৭ দিনের এই যাত্রা শুরুর আগে, কর্তৃপক্ষ একটি নিরাপদ, মসৃণ এবং ঝামেলাহীন তীর্থযাত্রা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী নুনওয়ান এবং পুরো রুটে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।