New Export Markets: কেন্দ্রীয় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী জিতিন প্রসাদ লোকসভায় জানিয়েছেন, রপ্তানির বাজার বাড়াতে একাধিক পদক্ষেপ করছে সরকার। তার মধ্যে রয়েছে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) বৃদ্ধি, ই-কমার্সে জোর দেওয়া এবং জেলা ভিত্তিক বিশেষ উদ্যোগ।
New Export Markets: বিশ্বের অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। এই অবস্থায় ভারতের রপ্তানির বাজারকে আরও ছড়িয়ে দিতে একগুচ্ছ নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে কেন্দ্রীয় সরকার। তার মধ্যে রয়েছে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) বৃদ্ধি, সীমান্ত পেরিয়ে ই-কমার্সের প্রচার এবং রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন বাজার খুঁজে বের করা। মঙ্গলবার, লোকসভায় একটি লিখিত জবাবে এই কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প প্রতিমন্ত্রী জিতিন প্রসাদ (India export policy)।
বাণিজ্য চুক্তি ও প্রচার বাড়ানো
জিতিন প্রসাদ জানান, ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) এবং ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব/সহযোগিতা চুক্তি (CEPA/CECA)-র নেটওয়ার্ক আরও বড় করার চেষ্টা চলছে। বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্যিক আলোচনা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি, এক্সপোর্ট প্রোমোশন মিশন, বিদেশে থাকা ভারতীয় দূতাবাস, এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিল এবং বিভিন্ন শিল্প সংগঠনের মাধ্যমে রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। সরকার 'ডিস্ট্রিক্টস অ্যাজ এক্সপোর্ট হাবস' (DEH) কর্মসূচির অধীনে জেলা ও নির্দিষ্ট শিল্পক্ষেত্র ভিত্তিক উদ্যোগ নিচ্ছে। দেশের রপ্তানির পরিকাঠামোকে আরও মজবুত করতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মশালারও আয়োজন করা হচ্ছে।
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্য বৃদ্ধি
তাঁর মতে, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রধান লক্ষ্য হল, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে আরও বাড়ানো। কারণ, তার মাধ্যমে ভারতীয় শিল্প ও কৃষকদের জন্য রপ্তানির আরও বেশি সুযোগ তৈরি হবে, বিনিয়োগ বাড়বে এবং নতুন বাজার পাওয়া সহজ হবে। এই চুক্তিগুলির মাধ্যমে বস্ত্র, পোশাক এবং চামড়ার মতো শ্রম-নির্ভর শিল্পগুলির জন্য অগ্রাধিকারমূলক বাজার পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি শরিক দেশগুলির সঙ্গে নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে অশুল্ক বাধাও দূর করার চেষ্টা চলছে।
সীমান্ত পেরিয়ে ই-কমার্সে জোর
বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি সংস্থা (MSME), স্টার্টআপ, কারিগর এবং ছোট রপ্তানিকারকদের জন্য সীমান্ত পেরিয়ে ই-কমার্সকে জনপ্রিয় করতে একাধিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রসাদ। তিনি জানান, ২০২৫-২৬ থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষের জন্য ২৫,০৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে 'এক্সপোর্ট প্রোমোশন মিশন' চালু করা হয়েছে। যার প্রধান লক্ষ্য হল, আর্থিক সহায়তা ও অন্যান্য সুবিধার মাধ্যমে রপ্তানির প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা বৃদ্ধি। সরকার পাইলট প্রোজেক্টের উপর নির্ভর করে 'ই-কমার্স এক্সপোর্ট হাব' উদ্যোগও চালু করেছে। তার মাধ্যমে লজিস্টিকস, কাস্টমস ছাড়পত্র এবং রপ্তানি সংক্রান্ত অন্যান্য পরিষেবা আরও সহজ করা হবে। এছাড়াও, ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত রপ্তানির ক্ষেত্রে নিয়মকানুন শিথিল করা হয়েছে, ক্যুরিয়ারের মাধ্যমে রপ্তানির ক্ষেত্রে পণ্যের মূল্যের ঊর্ধ্বসীমা তুলে দেওয়া হয়েছে এবং বাতিল বা ফেরত আসা পণ্য পুনরায় আমদানি করার প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে।
অন্যান্য সহায়ক উদ্যোগ
ক্যাবিনেট মন্ত্রী আরও জানান, পিএম গতি শক্তি ন্যাশনাল মাস্টার প্ল্যান, RoDTEP স্কিম, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প মন্ত্রকের তৈরি করা ৬৫টি এক্সপোর্ট ফেসিলিটেশন সেন্টার এবং ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন স্কিমের মতো উদ্যোগগুলি লজিস্টিকস খরচ কমাতে, রপ্তানিকারকদের সাহায্য করতে এবং বিশ্ব বাজারে ভারতের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করছে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

