সিকিমের নামচি জেলায় নির্মীয়মাণ তিস্তা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে মিথেন গ্যাস বিস্ফোরণে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর উদ্ধারকাজে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, ভিতরে প্রায় ২৫ জন আটকে ছিলেন।
সিকিমের নামচি জেলায় নির্মীয়মাণ তিস্তা স্টেজ-সিক্স জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে গ্যাস বিস্ফোরণের পর উদ্ধারকাজে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর। মঙ্গলবার তিনি এই দুর্ঘটনার জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। খট্টর জানান, কেন্দ্র পুরো পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং উদ্ধার অভিযানে সম্ভাব্য সবরকম সাহায্য করা হচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'X'-এ একটি পোস্টে খট্টর লেখেন, "দক্ষিণ সিকিমের নামচিতে নির্মীয়মাণ তিস্তা-সিক্স জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে যে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, তাতে আমি অত্যন্ত ব্যথিত। এই দুর্ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। টানেলে আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদে বের করে আনার জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চলছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং রাজ্য সরকার সবরকম সাহায্য করছে। আমি সকলের নিরাপদ উদ্ধারের জন্য প্রার্থনা করছি এবং ঈশ্বর যেন শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলিকে এই কঠিন সময়ে শক্তি দেন।"
প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা সংস্থা NHPC জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটে ২০ জুলাই। সামারদুং-এ নির্মীয়মাণ হেড রেস টানেলের (HRT) ভিতরে পাথরের স্তরে জমে থাকা মিথেন গ্যাস হঠাৎ ফেটে গিয়ে এই বিস্ফোরণ হয়। এর ফলে টানেলের ভিতর ঘন ধোঁয়া এবং বিষাক্ত গ্যাসে ভরে যায়।
সংস্থাটি আরও জানায়, দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF), স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ মাইনস সেফটি (DGMS)-র একটি বিশেষ দল একসঙ্গে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে NHPC-র শীর্ষ আধিকারিকরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন।
NHPC-র বিবৃতি অনুযায়ী, টানেলের ভিতরে মোট ২৫ জন কর্মী আটকে পড়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ঘটনার আসল কারণ জানতে একটি বিস্তারিত তদন্ত করা হবে বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে। পাশাপাশি, উদ্ধারকারী দল এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে তারা।
এই দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং-এর সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০,০০০ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে উদ্ধারকাজ চালানো বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। ভারী বৃষ্টি, টানেলের ভিতরে জল জমে যাওয়া এবং আরও গ্যাস জমার আশঙ্কায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য বিশেষ রাসায়নিক ও গ্যাস বিশেষজ্ঞদের আনা হচ্ছে। আপাতত আটকে থাকা বাকি কর্মীদের নিরাপদে বের করে আনাই মূল লক্ষ্য।


