
বদ্রীনাথ ধামের দানের টাকা নয়ছয়ের অভিযোগে তদন্ত আরও জোরদার করল স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT)। শনিবার তদন্তকারী দল মন্দিরে গিয়ে নতুন করে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অভিযুক্তের সিসিটিভি ফুটেজ এবং কল রেকর্ড।
উত্তরাখণ্ড পুলিশের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে বদ্রীনাথ-কেদারনাথ টেম্পল কমিটির (BKTC) সাসপেন্ড হওয়া কর্মী প্রমোদ নৌটিয়ালকে সন্দেহজনকভাবে টাকা সরাতে দেখা গেছে। অভিযোগ, মন্দিরের দান গোনার ঘর থেকে নগদ টাকা, সোনা-রুপোর মুদ্রা, শালগ্রাম শিলা এবং প্রণামীর খাম তিনি "চুরি বা লুকিয়ে" ফেলছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ফুটেজে নৌটিয়ালকে দান গোনার ঘর আর নিজের অফিসের মধ্যে বারবার যাতায়াত করতে দেখা যায়। তদন্তকারীদের সন্দেহ, ঘর থেকে টাকা ও অন্যান্য জিনিস চুরি করে তিনি নিজের অফিসে লুকিয়ে রাখতেন। উত্তরাখণ্ড পুলিশ আরও জানিয়েছে, "২ জুলাইয়ের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, অভিযুক্ত প্রমোদ নৌটিয়াল ৫০০ এবং ১০০ টাকার নোটের বান্ডিল, সোনা-রুপোর মুদ্রা, শালগ্রাম শিলা এবং প্রণামীর খাম (যাতে আনুমানিক ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা ছিল) সন্দেহজনকভাবে লুকিয়ে ফেলছেন বা চুরি করছেন। এই কাজ করার সময় তাঁকে দু-তিনবার নিজের অফিস ও গোনার ঘরের মধ্যে যাতায়াত করতে দেখা যায়। পুলিশের সন্দেহ, গোনার ঘর থেকে টাকা, সোনা-রুপোর মুদ্রা ইত্যাদি চুরি করে তিনি নিজের অফিসে রাখতেন।"
এই তথ্যের ভিত্তিতে সিট এখন তদন্তের পরিধি আরও বাড়িয়েছে। ২৫ এবং ২৯ জুনের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, সাসপেন্ড হওয়া ওই কর্মীর কল রেকর্ডও পরীক্ষা করা শুরু হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত ২ জুলাই। সেদিন বদ্রীনাথ মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া দানের টাকা গোনার সময় গরমিলের অভিযোগ ওঠে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায়, নিয়ম ভেঙে গোনার জায়গা থেকে নগদ টাকা সরানো হয়েছিল।
এই ঘটনায় বদ্রীনাথ থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়। অভিযোগটি দায়ের করেন বিকেটিসি-র ভারপ্রাপ্ত টেম্পল অফিসার যুদ্ধবীর পুষ্পওয়ান। সিট তাঁর বয়ানও রেকর্ড করেছে। এছাড়া, সিসিটিভি কন্ট্রোল অফিসার পানোয়ার এবং টাকা গোনার সময় উপস্থিত হরেন্দ্র কোঠারি সহ অন্যান্য বিকেটিসি আধিকারিকদেরও বয়ান নেওয়া হয়েছে। এদিকে, নিজের সাসপেনশন এবং এফআইআর-কে চ্যালেঞ্জ করে উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রমোদ নৌটিয়াল। বিচারপতি অলোক মেহরার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। আদালত বিকেটিসি-কে তাদের জবাব দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি ১৬ জুলাই।
বর্তমানে এই মামলার তদন্ত একসঙ্গে চালাচ্ছে পুলিশ, সিট, বিকেটিসি-র নিজস্ব বিভাগীয় তদন্ত কমিটি এবং গাড়োয়াল কমিশনারের নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি।