
Balen Shah India Visit: নেপালের প্রধানমন্ত্রী (Nepal Prime Minister) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দ্বিপাক্ষিক বিদেশ সফরের জন্য ভারতকেই বেছে নিচ্ছেন বালেন শাহ। তিনি আগামী মাসে ভারত সফরে আসতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। এ বছরের মার্চে নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় আট মাস পর এই সফর হতে চলেছে। তিন দিনের সফরে ভারতে আসতে চলেছেন বালেন। নভেম্বরের তৃতীয় অথবা চতুর্থ সপ্তাহে ভারতে আসতে পারেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর এই সফরে পরিকাঠামো উন্নয়ন, সীমান্ত সমস্যা এবং বন্যা-পরবর্তী পুনর্গঠন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এই সফরের মাধ্যমে ভারত-নেপাল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি হতে পারে বলে আশা তৈরি হয়েছে। গত মাসে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে (UNGA) যোগ দিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে (USA) গিয়েছিলেন বালেন। এবার তিনি ভারতে আসছেন।
কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক, পরিকাঠামো-সহ বিভিন্ন বিষয়ে ভারতের উপর নির্ভর করে থাকে নেপাল। দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। এই কারণে নেপালের প্রধানমন্ত্রীরা দায়িত্ব নেওয়ার পর সাধারণত প্রথম বিদেশ সফরে ভারতে আসেন। তবে গত দু'দশকে ভারত-নেপাল সম্পর্কে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই সময়ে নেপালের একাধিক প্রধানমন্ত্রী প্রথম বিদেশ সফরে ভারতের বদলে অন্য দেশে গিয়েছেন। ২০০৮ সালে পুষ্পকমল দাহাল প্রচণ্ড প্রথম বিদেশ সফরে চিনে গিয়েছিলেন। ২০১১ সালে ঝলনাথ খানাল রাষ্ট্রপুঞ্জের একটি বহুপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দিতে তুরস্কে যান। ২০২১ সালে শের বাহাদুর দেউবা প্রথম বিদেশ সফরে ব্রিটেনে গিয়ে কপ২৬ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, কে পি শর্মা ওলি এর আগে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ভারত সফর করলেও, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ক্ষমতায় ফেরার পর প্রথম বিদেশ সফরের জন্য চিনকে বেছে নেন। ভারত তাঁকে সরকারি সফরের আমন্ত্রণ জানায়নি বলেও দাবি করেছিলেন ওলি। তবে বালেন রীতি মেনে ভারত সফরে আসছেন।
চলতি বছরের অগাস্টে ভয়াবহ হড়পা বান ও বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে নেপাল। সেই সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় ভারত। কয়েকদিন আগেই ফের হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত হয় নেপাল। এই পরিস্থিতিতে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ও নেপালের প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে দোধারা চাঁদনিতে সমন্বিত চেকপোস্ট, লোয়ার অরুণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং শিলিগুড়ি-ঝাপা পেট্রোলিয়াম পাইপলাইনের নির্মাণকাজের সূচনা করতে পারেন। দুই দেশের সহযোগিতার ক্ষেত্রে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এনএইচপিসি-র সঙ্গে যুক্ত ৭৫০ মেগাওয়াটের পশ্চিম সেতী, ৪৮০ মেগাওয়াটের ফুকোট কর্ণালী এবং ৪৫০ মেগাওয়াটের সেতী রিভার-৬ প্রকল্প নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। এছাড়া কোশী নদী প্রকল্প, প্রস্তাবিত অযোধ্যা-জনকপুর রেলপথ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ক্ষেত্রে নেপালের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভারতের সহযোগিতার বিষয়টিও আলোচনার তালিকায় রয়েছে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।