
ছত্তিশগড়ের উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা বুধবার বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ মানবজাতির উন্নতি ও সুরক্ষার জন্য একটি বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের বিষয়, যার বিরুদ্ধে সকলকে একজোট হয়ে লড়তে হবে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় উপ-মুখ্যমন্ত্রী শর্মা বলেন, "এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। মানবজাতির উন্নতি এবং সুরক্ষার জন্য সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়টির ওপর জোর দিয়েছেন, কারণ যখন সব দেশ একটি ইস্যুতে একজোট হয়, তখন অপরাধীরা পালানোর কোনো জায়গা পায় না এবং তাদের বিচারের আওতায় আনা যায়।"
অন্ধ্রপ্রদেশে, বিজেপির মুখপাত্র সাদিনেনি যামিনী শর্মা SCO সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদীর কড়া অবস্থানের প্রশংসা করেছেন এবং সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানের দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আরও একবার SCO বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানের দুমুখো নীতিকে একেবারে ধুইয়ে দিয়েছেন। শেহবাজ শরিফের মুখোমুখি হয়ে নরেন্দ্র মোদী জোড়া আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি বিশ্বকে সেই সব দেশের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন, যারা সন্ত্রাসবাদকে নিজেদের রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে ব্যবহার করে। একইসঙ্গে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন এবং নিয়োগে যারা মদত দেয়, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন... পাকিস্তান SCO বৈঠকের অফিসিয়াল গ্রুপ ফটো এডিট করে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং ইরানের রাষ্ট্রপতিকে বাদ দিয়ে দিয়েছে... সন্ত্রাসবাদের পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর নির্ভীক এবং শক্তিশালী কূটনীতি পাকিস্তানের দ্বিচারিতা এবং জঙ্গিদের জন্য তাদের রক্ষাকবচকে সবার সামনে তুলে ধরছে," ANI-কে জানান শর্মা।
প্রসঙ্গত, বিশকেকে ২৬তম সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সন্ত্রাসবাদের অর্থায়ন, নিয়োগ, মৌলবাদ ছড়ানো এবং নিরাপদ আশ্রয় সহ "সন্ত্রাসবাদের গোটা পরিকাঠামো" ভেঙে ফেলার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোনও "দুমুখো নীতি" চলতে পারে না।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, সন্ত্রাসবাদ "সমগ্র মানবজাতির জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ" হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এর বিরুদ্ধে লড়াই শুধুমাত্র "অ্যাকশন-রিঅ্যাকশন" মানসিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। তিনি বলেন, "আমাদের সন্ত্রাসবাদের গোটা পরিকাঠামো—এর অর্থায়ন, নিয়োগ, মৌলবাদ ছড়ানো এবং নিরাপদ আশ্রয়—ভেঙে ফেলতে হবে। আমাদের এক সুরে বলতে হবে যে এই গুরুতর বিষয়ে কোনো দ্বিমুখী নীতির স্থান নেই।"
প্রধানমন্ত্রী আরও যোগ করেন, "যেসব দেশ সন্ত্রাসবাদকে তাদের নীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এবং জঙ্গিদের আশ্রয় ও সমর্থন দেয়, তাদের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠাতে হবে যে সন্ত্রাসবাদ কারও জন্য 'কৌশলগত সম্পদ' হতে পারে না।"