BRICS Summit 2026: সফলভাবে শেষ হল ১৮ তম ব্রিকস সম্মেলন, 'উইমেন ইন ইনোভেশন' থেকে ডিজিটাল প্রযুক্তি! কোন কোন বিষয়ে আলোচনা হল?

Published : Sep 15, 2026, 02:39 PM IST
BRICS Summit 2026

সংক্ষিপ্ত

BRICS Summit 2026: ১২-১৩ সেপ্টেম্বর, ভারত মণ্ডপমে সম্পন্ন হল নানা দেশের রাষ্ট্রনায়কদের নিয়ে এই মেগা সম্মেলন। যে মঞ্চে উপস্থিত হয়েছিলেন বিভিন্ন দেশের তাবড় তাবড় রাষ্ট্রনেতারা। উল্লেখ্য, ব্রিকস (BRICS) আসলে উদীয়মান প্রধান অর্থনৈতিক দেশগুলির একটি জোট।

BRICS Summit 2026: ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ১৮ তম ব্রিকস সম্মেলন (BRICS Summit 2026)। ১২-১৩ সেপ্টেম্বর, ভারত মণ্ডপমে সম্পন্ন হল নানা দেশের রাষ্ট্রনায়কদের নিয়ে এই মেগা সম্মেলন। যে মঞ্চে উপস্থিত হয়েছিলেন বিভিন্ন দেশের তাবড় তাবড় রাষ্ট্রনেতারা। সেই ব্রিকস সম্মেলনের খবর একনজরে। উল্লেখ্য, ব্রিকস (BRICS) আসলে উদীয়মান প্রধান অর্থনৈতিক দেশগুলির একটি জোট। এই নামটি মূলত ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা, এই সবকটি দেশের ইংরেজি নামের প্রথম অক্ষর দিয়ে তৈরি করা হয়। তবে ২০২৬ সালের ব্রিকস সম্মেলনে ব্রিকস জোটের অনেকটাই সম্প্রসারণ ঘটেছে। এই বছর জিল, রাশিয়া, ভারত, চিন, দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়াও এই মেগা সম্মেলনে অংশ নেয় মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ইন্দোনেশিয়া এবং সৌদি আরব। মূলত, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়নের জন্য অর্থের জোগান এবং বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলির ভূমিকা আরও জোরালো করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে এই সম্মেলনে। এককথায় বলতে গেলে, ব্রিকস আউটরিচের  প্রধান লক্ষ্য হল, গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধিত্বকে আরও মজবুত করে তোলা (BRICS Summit 2026 discussions)।

সামগ্রিক এবং বৃহত্তর স্বার্থে অন্যান্য মহাদেশের কাছে পৌঁছনো এবারের ব্রিকস সম্মেলনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। যা দেশের বিদেশমন্ত্রকও স্পষ্ট করে দিয়েছে। সেই কারণেই, আসিয়ান (ASEAN), আফ্রিকান ইউনিয়ন (African Union), লাতিন আমেরিকান ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের সিইএলএসি (CELAC), এবং গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (GCC) ও বিমসটেকের (BIMSTEC) মতো উন্নয়নশীল দেশগুলির গোষ্ঠীর চেয়ারপার্সনদের আমন্ত্রণ জানানো হয় এবারের সম্মেলনে। বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়টিকে বেশ ভালো এবং ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন।

সফলভাবে শেষ হল ১৮ তম ব্রিকস সম্মেলন

এই সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের থেকে একটি বার্তা বারবার স্পষ্ট হয়েছে। তা হল, ব্রিকসের উপর গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির আস্থা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ, এখানে প্রত্যেকটি দেশের কথা সমানভাবে গুরুত্ব পায় এবং সমস্ত দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমাধান তৈরি করা হয়। আলোচনায় উঠে এসেছে, স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা, স্থায়িত্ব এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধির জন্য ভবিষ্যৎ গঠনের মতো ভীষণ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি। পাশাপাশি এমএসএমই (MSME) সহযোগিতা এবং পরিবেশ সংক্রান্ত উদ্যোগের কথাও উঠে আসে এই সম্মেলনে।

BRICS Summit 2026: দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট রামাপোসার সঙ্গে মোদীর বৈঠক, আলোচনায় অর্থনৈতিক পার্টনারশিপ

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, শক্তি বৃদ্ধি, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সংস্কারের মতো বিষয়গুলিও অন্তর্ভুক্ত ছিল এই সম্মেলনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে। নিঃসন্দেহে রাশিয়া এবং চিন থেকে শুরু করে ইরান এবং আফ্রিকা, দেশের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ১৮ তম ব্রিকস সম্মেলনের পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কূটনৈতিক ব্যস্ততা ছিল তুঙ্গে। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে মোট ১৫টি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সেরে ফেলেছেন।

ব্রিকস সম্মেলনের পাশাপাশি এই বৈঠকগুলিও ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতাকে এক নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলির মধ্যে ছিল রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একান্ত মিটিং। এরপর চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে গভীর আলোচনা। এই বৈঠকগুলিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক সংঘাত, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা, সীমান্তে শান্তি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং গ্লোবাল সাউথের অগ্রাধিকারের মতো বিষয়গুলি উঠে আসে বলে সূত্রের খবর। এমনকি, সংক্রামক রোগের জন্য ব্রিকসের ইন্টিগ্রেটেড আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য আর্লি ওয়ার্নিং ডেটা ইন্টিগ্রেশন গাইডলাইন এবং ব্রিকস লজিস্টিকস সাপ্লাই চেইন কো-অপারেশন ফ্রেমওয়ার্কের কথাও উঠে আসে এই সম্মেলন থেকে।

অন্যদিকে, উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ব্রিকস ইনকিউবেটর নেটওয়ার্ক, প্রস্তাবিত ব্রিকস স্টার্টআপ ইনোভেশন ফান্ড এবং ব্রিকস নেটওয়ার্ক অন ডিজিটাল এগ্রিকালচারের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), জিওস্পেশিয়াল প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারকে কৃষকদের প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করতে সক্ষম। সেইসঙ্গে, সম্মেলন শুরুর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর, ব্রিকস সম্মেলনের মাঝেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের রাষ্ট্রনেতা মূলত, রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা, শক্তি, মহাকাশ, দক্ষ কর্মী তৈরি এবং উভয় দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগের মতো ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। জানা যাচ্ছে, তারা ৯-১১ সেপ্টেম্বর ভারতে অনুষ্ঠিত রাশিয়ার আন্তর্জাতিক শিল্প প্রদর্শনী "ইন্নোপ্রম ইন্ডিয়া"-কেও স্বাগত জানান। পশ্চিম এশিয়া এবং কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলের সংঘাতের মতো আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয় নিয়েও মত বিনিময় এবং আলোচনা হয়েছে বলে খবর। এক্ষেত্রে কূটনৈতিক সিদ্ধান্তই একমাত্র পথ এবং ভারত শান্তি প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে প্রস্তুত বলে জানান মোদী।

'উইমেন ইন ইনোভেশন' থেকে ডিজিটাল প্রযুক্তি! কোন কোন বিষয়ে আলোচনা হল?

১২ সেপ্টেম্বর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ব্রিকস সম্মেলনের মাঝেই চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দেখা করেন। উভয় দেশের রাষ্ট্রনায়করা তাদের সম্পর্ককে একটি কৌশলগত এবং দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পারস্পরিক সংবেদনশীলতা এবং পারস্পরিক স্বার্থ—এই তিনটি বিষয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, সীমান্ত এলাকায় শান্তি এবং স্থিতিশীলতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্রমাগত বিকাশের জন্য একটি অপরিহার্য ভিত্তি। সেই কথা মেনে নেন চিনের প্রেসিডেন্টও। সীমান্ত সংক্রান্ত বিদ্যমান চুক্তি ও বোঝাপড়া মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন মোদী এবং জিনপিং। তারা সীমান্ত প্রশ্নের একটি ন্যায্য, যুক্তিসঙ্গত এবং পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন বলে জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি দুটি দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক বিনিময়, ব্যবসায়িক সংযোগ এবং আরও বেশি যাতায়াতের সঙ্গেই বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা, সাপ্লাই চেইনের সমস্যা এবং অর্থবহ বাজার পাওয়ার মতো অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিষয়গুলি নিয়েও আলোচনা করেন তারা।

রাশিয়া এবং চিন ছাড়াও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও দেখা করেন নরেন্দ্র মোদী। যে বৈঠক আক্ষরিক অর্থেই এই মুহূর্তে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বস্তুত, দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এটি ছিল তাদের মধ্যে দ্বিতীয় বৈঠক। দুই দেশের রাষ্ট্রনেতারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন বলে জানা গেছে। কঠিন পরিস্থিতি সত্ত্বেও ব্রিকস সম্পর্কিত বৈঠকে ইরানের নিয়মিত এবং উচ্চ-পর্যায়ের অংশগ্রহণের জন্য ইরানকে ধন্যবাদ জানায় ভারত। তারা পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়েও মতবিনিময় করেন। অপরদিকে, বুরুন্ডির প্রেসিডেন্ট এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের চেয়ারপার্সন এভারিস্তে এনদায়িশিমিয়ের সঙ্গেও দেখা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ভারত-আফ্রিকান ইউনিয়ন অংশীদারিত্ব গ্লোবাল সাউথের মধ্যে সহযোগিতার একটি অন্যতম প্রধান স্তম্ভ বলে উল্লেখ করেন তারা। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার সঙ্গেও মোদী বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন।

BRICS Summit 2026: মালয়েশিয়া এবং ইথিওপিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক মোদীর, জোর প্রতিরক্ষা-বাণিজ্যে

ব্রিকস দেশগুলিকে নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর পাশাপাশি আরও গভীর উৎপাদক স্তরের অর্থনৈতিক পার্টনারশিপ গড়ে তোলার দিকে নজর দিতে হবে। বহুদিন ধরে উন্নয়নশীল দেশগুলো বিশ্ব বাজারে শুধু কাঁচামাল সরবরাহকারী এবং অন্যত্র তৈরি হওয়া পণ্যের ক্রেতা হিসেবেই অংশ নিয়েছে। পণ্যের মূল্য সংযোজন, প্রযুক্তি এবং উচ্চমানের উৎপাদন অন্য কোথাও কেন্দ্রীভূত থেকেছে। সম্প্রসারিত ব্রিকসের মধ্যে আমাদের এই ধারা আর চালানো উচিত নয় বলে জানান তারা। নাইজেরিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশিম শেট্টিমা মুস্তাফার সঙ্গেও মোদী ভারত-নাইজেরিয়া সম্পর্ক পর্যালোচনা করেন। উগান্ডার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেসিকা রোজ এপাল আলুপোর সঙ্গে বৈঠকে প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব, বিনিয়োগ সুবিধা এবং বেসরকারি খাতের সহযোগিতার উপর জোর দেওয়া হয়। মোদী উগান্ডার 'ভিশন ২০৪০'-এর প্রতি ভারতের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ আর. মার্কোস জুনিয়রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, মহাকাশ, রেল পরিকাঠামো সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ, মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসি, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ, ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী লে মিন হুং, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলির সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।

নয়াদিল্লি ব্রিকস লিডারস ডিক্লারেশন

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইব্রাহিমকে ভারতে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী মোদী। ব্রিকস সম্মেলনে 'পার্টনার কান্ট্রি' হিসেবে মালয়েশিয়ার অংশগ্রহণেরও প্রশংসা করেন তিনি। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর মালয়েশিয়া সফরের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কতটা অগ্রগতি হয়েছে, তা নিয়ে দুই নেতা পর্যালোচনা করেন। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, পরিকাঠামো, ডিজিটাল অর্থনীতি, জ্বালানি, ফিনটেক, শিক্ষা, পর্যটন এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর মতো বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলির সঙ্গে বৈঠকে মোদী দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী মোদীর আদ্দিস আবাবা সফরের পর থেকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে কতটা অগ্রগতি হয়েছে, তা পর্যালোচনা করেন দুই নেতা। বিদেশ মন্ত্রক অনুসারে, দুই নেতা পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন। বহুপাক্ষিক মঞ্চে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও তাঁরা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। মোদী ব্রিকস সম্মেলনে ইথিওপিয়ার অংশগ্রহণের প্রশংসা করে বলেন, তাদের উপস্থিতি 'গ্লোবাল সাউথ'-এর সম্মিলিত কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করেছে।

ভারত এবং ভিয়েতনামের মধ্যে একটি 'বর্ধিত সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্ব' (Enhanced Comprehensive Strategic Partnership) রয়েছে। এই সম্পর্কের ভিত্তি হলো দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, ফিনটেক, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ ও অন্যান্য আধুনিক ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা। ভিয়েতনামের সরকারি সংবাদমাধ্যম 'ভয়েস অফ ভিয়েতনাম'-এর মতে, এই সম্মেলনকে তারা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। পাশাপাশি, ব্রিকসের সদস্য ও সহযোগী দেশগুলির সঙ্গেও সম্পর্ক জোরদার করতে চায় ভিয়েতনাম। প্রধানমন্ত্রী লে মিন হাং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, স্থিতিশীল উন্নয়ন এবং বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়ে ভিয়েতনামের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

টেলিকম শিল্প ইতিমধ্যেই অনুসরণ করতে শুরু করেছে?

এই বৈঠকগুলির পাশাপাশি নয়াদিল্লি ব্রিকস লিডারস ডিক্লারেশন গৃহীত হয়। সেখানে পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমাগত উত্তেজনা বৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং পরিস্থিতি আরও গুরুত্ব নিয়ে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা করা উচিত বলে মনে করেন ব্রিকস সম্মেলনে উপস্থিত হওয়া সমস্ত দেশের রাষ্ট্রনেতারা। নিউ দিল্লি ডিক্লারেশনে পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা উত্তেজনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সমস্ত পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আবেদন করা হয়েছে, যাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ না হয়। ইজরায়েল-প্যালেস্তাইন সংঘাতের স্থায়ী দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের পক্ষে ব্রিকস তার সমর্থন জানিয়েছে। সেইসঙ্গে, প্যালেস্তাইনের জন্য আন্তর্জাতিক প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এবং গাজায় মানবিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়া যে ইজরায়েলের আইনি বাধ্যবাধকতা, সেটাও মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব পরিচালনার ক্ষেত্রে সমসাময়িক বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করতে হবে এবং বিশেষ করে, রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মতো প্রতিষ্ঠানগুলিতে আরও বেশি প্রতিনিধিত্ব থাকা দরকার বলে মনে করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

উদ্ভাবন এবং বিজ্ঞানে মহিলাদের নেতৃত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে বলে মোট পোষণ করা হয় ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে। যার মধ্যে আর্থিক এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি যেমন রয়েছে, তেমনই উদ্যোগপতি হওয়ার সুযোগও রয়েছে। ‘উইমেন ইন ইনোভেশন', 'সায়েন্স অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ' (WISE) উদ্যোগের কথাও উঠে আসে। এই উদ্যোগের তিনটি মূল ভিত্তি হল— উদ্ভাবন ও সহযোগিতা, ফান্ডের জোগান এবং নীতি নির্ধারণে সাহায্য করা। দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ব্রাজিলের মতো দেশে এই উদ্যোগ প্রশংসা পেয়েছে এবং এটি BRICS+ গোষ্ঠীর মধ্যে মহিলাদের নেতৃত্বে উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

ডিজিটাল এবং টেলিকম পরিকাঠামোয় অগ্রগতির দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। টেলিকম শিল্পও এই ঘোষণাপত্রকে স্বাগত জানিয়েছে। কারণ, এটিতে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। টেলিকমিউনিকেশন, পারস্পরিকভাবে ব্যবহারযোগ্য আইসিটি সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং সাবমেরিন কেবলের পরিকাঠামোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা টেলিকম শিল্প ইতিমধ্যেই অনুসরণ করতে শুরু করেছে।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

TMC On Supreme Court: ঋতপন্থী ১০ বিধায়কের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে কালীঘাট তৃণমূল, কী বলল আদালত?
Dengue Fever: বর্ষায় কেন ডেঙ্গুর এত বাড়াবাড়ি? বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?