
CBSE Class 12 Result Row: সিবিএসই (Central Board of Secondary Education)-এর দ্বাদশ শ্রেণির ফলাফল নিয়ে বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে। ফল প্রকাশের পর বহু পড়ুয়া অভিযোগ করেন, তাঁদের উত্তরপত্রের কিছু অংশ মূল্যায়নই করা হয়নি অথবা প্রত্যাশার তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে কম নম্বর দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। ফলাফলের নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করতেই নতুন করে চাপে পড়েছে বোর্ড। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সিবিএসই-র নতুন চালু হওয়া অন-স্ক্রিন মার্কিং বা OSM পদ্ধতি ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা দফতরের সচিব সঞ্জয় কুমার।
শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্বীকার করেন, এবারের মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় কিছু ত্রুটি ছিল। কম নম্বর, উত্তরপত্র ঠিকভাবে না দেখা এবং মূল্যায়নে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বহু পড়ুয়া ও অভিভাবক। এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর OSM ব্যবস্থা, যেখানে পরীক্ষকদের কম্পিউটারের স্ক্রিনে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে হয়েছে। যদিও সিবিএসই (CBSE)-এর দাবি, এই পদ্ধতি মূল্যায়নে স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা এবং মানের সামঞ্জস্য বাড়ানোর লক্ষ্যেই আনা হয়েছে। সঞ্জয় কুমার জানান, ওএসএম (OSM)পদ্ধতি নতুন নয়। ২০১৪ সালেও এই ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু তখন পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো না থাকায় তা বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে এই পদ্ধতি ফের চালু করা হয়েছে এবং ইনস্টিটিউট অফ চার্টার্ড অ্যাকাউন্টস অফ ইন্ডিয়া সহ আন্তর্জাতিক স্তরের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডেও একই ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে শিক্ষা সচিব বলেন, এত বড় পরিসরে পরীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন ভুল হওয়া অস্বাভাবিক নয়। প্রতি বছর প্রায় ১.২৫ কোটি উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে সিবিএসই। এবছর দ্বাদশ শ্রেণির জন্য মূল্যায়ন করা হয়েছে প্রায় ৯ কোটি ৮৬ লক্ষেরও বেশি উত্তরপত্র। তিনি জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই প্রায় ১৩ হাজার কপি পুনর্মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে। পড়ুয়াদের সুবিধার্থে বহুস্তরীয় পোস্ট-রেজাল্ট রিভিউ ব্যবস্থাও চালু করেছে বোর্ড। আগামী ১৯ মে থেকে ২২ মে পর্যন্ত পরীক্ষার্থীরা স্ক্যান করা উত্তরপত্রের কপি চেয়ে আবেদন করতে পারবেন। পাশাপাশি ২৬ মে থেকে ২৯ মে পর্যন্ত যাচাই এবং পুনর্মূল্যায়নের আবেদন গ্রহণ করা হবে।
বোর্ড সূত্রে জানানো হয়েছে, যাচাই সংক্রান্ত আবেদন এবং উত্তরপত্রের কপির জন্য ১০০ টাকা ফি নেওয়া হবে। তবে পুনর্মূল্যায়নের পর নম্বর বাড়লে সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। পাশাপাশি পরীক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছিল। প্রায় ৩ লক্ষ শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন করেছিলেন, যার মধ্যে এবছর প্রায় ৭৭ হাজার শিক্ষক মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। সিবিএসই-এর দাবি, OSM ব্যবস্থায় প্রতিটি উত্তরের প্রতিটি ধাপ আলাদা করে মূল্যায়ন করা হয়। এর ফলে মূল্যায়নে মানবিক ভুল কমে এবং মান নির্ধারণে একরকম সামঞ্জস্য বজায় থাকে। যদিও প্রথম দিকে কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিয়েছিল বলে স্বীকার করেছে বোর্ড। পরে সেগুলি সমাধান করা হয় বলে জানানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, পূর্ণ মাত্রায় চালুর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাঁচটি স্কুলে এই ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়েছিল। সরকারি এবং বেসরকারি স্কুলগুলিকেও এই পদ্ধতি নিয়ে ডেমো দেখানো হয়। বোর্ড স্পষ্ট জানিয়েছে, নম্বর দেওয়ার নিয়মে কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি এবং পাশের হারের ওঠানামাকে সরাসরি OSM পদ্ধতির সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক হবে না।
তবুও বিতর্ক থামছে না। কারণ লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার উচ্চশিক্ষায় ভর্তি এখন এই ফলাফলের উপর নির্ভর করছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষ হেল্পলাইনও চালু করেছে CBSE। বোর্ডের তরফে আবেদন করা হয়েছে, আতঙ্কিত না হয়ে নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর জন্য। সব মিলিয়ে, সিবিএসই-র নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন জাতীয় স্তরে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে এই পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেয় বোর্ড, সেদিকেই নজর শিক্ষামহলের।