
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় নতুন মোড় এসেছে। বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার রায় প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জমা পড়েছে। বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। এ দিকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বিরোধীরা।
২০২৩ সালে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ নিয়ে নতুন আইন আনে মোদি সরকার। সেই আইনে কমিশনার বাছাইয়ের প্যানেল থেকে ভারতের প্রধান বিচারপতিকে বাদ দেওয়া হয়। প্যানেলে রাখা হয় প্রধানমন্ত্রী, তাঁর মনোনীত একজন প্রতিনিধি এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে। অভিযোগ, এর ফলে কেন্দ্র যাঁকে চাইবে, তিনিই কমিশনার হবেন। এই আইনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা দায়ের হয়।
মামলাগুলি সাংবিধানিক বেঞ্চে পাঠানো হবে কি না, তা নিয়ে দ্বিমত হয়েছিলেন বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মা। শুনানিতে বিচারপতি দত্ত বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত কেউ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভোট দেবেন, এটা আশা করা যায় না। ক্রিকেটের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যে দল ব্যাট করছে, তারাই আম্পায়ার ঠিক করলে সেই আম্পায়ার সঠিক সিদ্ধান্ত নিলেও সন্দেহের ছায়া থেকে যায়। অন্য দিকে বিচারপতি শর্মার মত ছিল, ২০২৩ সালের আইনের সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্নটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য সংবিধানের ১৪৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাংবিধানিক বেঞ্চ প্রয়োজন।
এর পরেই নতুন আবেদনটি জমা পড়ে। তাতে দাবি করা হয়েছে, বিচারপতি শর্মা তাঁর ছেলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের পেশাগত সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ করেননি। বুধবার আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে উল্লেখ করেন। এর পর মামলা কোন দিকে গড়ায়, সেটাই এখন দেখার।