Civic Satyagraha: হায়দ্রাবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশপ্রেমের এক নতুন সংজ্ঞা দিয়েছেন। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিরতার আবহে তিনি প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিককে দেশের অর্থনীতিকে রক্ষা করার জন্য একজোট হওয়ার ডাক দিয়েছেন।
রবিবার হায়দ্রাবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশপ্রেমের এক নতুন সংজ্ঞা দিলেন। তিনি প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিককে দেশের অর্থনীতিকে মজবুত করতে এক সম্মিলিত আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। বিশ্বজুড়ে সাপ্লাই চেনের সমস্যা এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের কারণে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সংকট শুধু সরকারের একার চ্যালেঞ্জ নয়, বরং এটি জাতির চরিত্রের পরীক্ষা।
27
মোদীর দেওয়া দেশপ্রেমের নতুন সংজ্ঞা
প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, "শুধু সীমান্তে জীবন উৎসর্গ করাই দেশপ্রেম নয়। এই সময়ে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে দায়িত্বশীলভাবে বেঁচে থাকা এবং দেশের প্রতি আমাদের কর্তব্য পালন করাই আসল দেশপ্রেম।"
প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণকে "অর্থনৈতিক আত্মরক্ষা"-র একটি গাইডলাইন বলা যেতে পারে। দেশের আর্থিক স্বাস্থ্য রক্ষা করার জন্য তিনি নাগরিকদের দৈনন্দিন অভ্যাস পরিবর্তনের আহ্বান জানান।
37
জ্বালানির সংকট মোকাবিলায় মোদীর টোটকা
জ্বালানির দামের অস্থিরতা মোকাবিলা করতে মোদী যাতায়াতের পদ্ধতিতে বদল আনার কথা বলেন। তিনি নাগরিকদের পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমাতে মেট্রো এবং গণপরিবহন ব্যবহারের অনুরোধ করেন। ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করলেও কার-পুলিংয়ের ওপর জোর দেন। পণ্য পরিবহনের জন্য রেলের ব্যবহার এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি।
কোভিড-১৯-এর সময়কার দক্ষতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে, প্রধানমন্ত্রী দেশের কার্বন ফুটপ্রিন্ট এবং শক্তির খরচ কমাতে ভার্চুয়াল পরিকাঠামো পুনরায় চালুর আহ্বান জানান। তাঁর কার্যকালের অন্যতম সরাসরি আবেদনে মোদী নাগরিকদের বৈদেশিক মুদ্রার বহির্গমন সম্পর্কে সচেতন থেকে "টাকার পাহারাদার" হিসাবে কাজ করতে বলেন।
তিনি নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ, বিদেশে ছুটি কাটানো এবং বিদেশে বিয়ের অনুষ্ঠান এড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণে সাহায্য করার আবেদন জানান। পাশাপাশি, দেশের অভ্যন্তরে পর্যটন এবং ভারতেই উৎসব-অনুষ্ঠান করার জন্য উৎসাহিত করেন। বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমাতে তিনি এক বছরের জন্য অপ্রয়োজনীয় সোনা কেনা এড়িয়ে চলারও অনুরোধ করেন।
57
সত্যাগ্রহের ডাক মোদীর
প্রধানমন্ত্রী নাগরিকদের 'মেড-ইন-ইন্ডিয়া' এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি পণ্য, যেমন জুতো, ব্যাগ এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসকে অগ্রাধিকার দিতে উৎসাহিত করেন। তিনি পরিবারগুলিকে ভোজ্য তেলের ব্যবহার কমাতেও বলেন, যা দেশের অর্থনীতি এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য উভয়ের জন্যই উপকারী।
67
কৃষকদের কাছে আর্জি
কৃষক সম্প্রদায়ের উদ্দেশে মোদী প্রাকৃতিক চাষে স্থানান্তরিত হওয়ার কথা বলেন। রাসায়নিকের ব্যবহার ৫০% কমানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি ভারতীয় কৃষককে পরিবেশগত স্থায়িত্ব এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতার লড়াইয়ে এক জন প্রথম সারির সৈনিক হিসাবে তুলে ধরেন।
77
১৪০ কোটি মানুষের কাছে আবেদন
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্য শেষ করেন এই বলে যে, বিশ্ব পরিস্থিতি যতই টালমাটাল হোক না কেন, ভারতের আসল শক্তি তার ১৪০ কোটি মানুষের "ছোট ছোট প্রচেষ্টার" মধ্যেই নিহিত। বার্তাটি ছিল স্পষ্ট: ভারতের অগ্রগতির পরবর্তী অধ্যায় শুধু সরকারি নীতিপত্রে লেখা হবে না, বরং পেট্রোল পাম্প, গয়নার দোকান এবং ডাইনিং টেবিলে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলির মাধ্যমে লেখা হবে।