Ayodhya Temple Theft: রাম মন্দিরে প্রণামী চুরি! সিটের চার্জশিট নিয়ে সরব জয়রাম রমেশ, পাল্টা ভিএইচপি

Saborni Mitra   | ANI
Published : Sep 26, 2026, 02:53 PM IST
Ram Mandir Woman Congress Leader Jairam Ramesh Questions SIT Chargesheet In Ayodhya Ram Temple Theft Case

সংক্ষিপ্ত

অযোধ্যার রাম মন্দিরে প্রণামী চুরির ঘটনায় সিটের চার্জশিট নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। তাঁর অভিযোগ, এই তদন্তে অনেক কিছু আড়াল করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে নতুন করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, ভিএইচপি নেতা অলোক কুমারের দাবি, তদন্ত শেষ এবং দোষীরা শাস্তি পাবে।

অযোধ্যার রাম মন্দিরে প্রণামী চুরির ঘটনায় জমা পড়া চার্জশিট নিয়ে এবার একগুচ্ছ প্রশ্ন তুললেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। তাঁর অভিযোগ, এই তদন্তে আসল সত্যিটা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। তাই সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP)-এর আন্তর্জাতিক সভাপতি অলোক কুমার জানিয়েছেন, তদন্তের কাজ শেষ। প্রণামী চুরি ছাড়া আর কোনও অনিয়ম হয়নি বলেই দাবি তাঁর।

কংগ্রেস Vs বিশ্ব হিন্দু পরিষদ

এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে রমেশ লেখেন, রাম মন্দিরে চুরির তদন্তে সরকার যে সিট (SIT) গঠন করেছিল, তার ওপর সাধারণ মানুষের কোনও দিনই ভরসা ছিল না। আর এখন চার্জশিট থেকে যা যা তথ্য সামনে আসছে, তাতে সন্দেহ আরও বাড়ছে। তিনি বলেন, "আমরা প্রথম দিন থেকেই বলে আসছি, রাম মন্দিরে প্রণামী চুরির তদন্তে সরকার যে সিট বানিয়েছে, তাতে দেশের মানুষের কোনও আস্থা নেই। এখন চার্জশিট থেকে যে তথ্যগুলো বেরিয়ে আসছে, তা এই তদন্ত এবং সরকারের ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার দিকেই আঙুল তুলছে।" প্রমাণ মেলার পর এফআইআর (FIR) দায়ের করতে কেন এত দেরি হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রমেশ। তাঁর কথায়, "চার্জশিট অনুযায়ী, ৪ জুন বাথরুমে ২ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা পাওয়ার একটি ভিডিও চম্পত রাইকে পাঠানো হয়েছিল। ৫ জুন তাঁকে সিসিটিভি ফুটেজও দেখানো হয়। তা সত্ত্বেও এফআইআর দায়ের হয় ২৫ জুন। যখন সিসিটিভি ফুটেজ, টাকা উদ্ধার এবং সন্দেহভাজন কর্মীদের পরিচয় আগেই সামনে এসেছিল, তখন আইনি ব্যবস্থা নিতে এত দেরি কেন হল? এই ২১ দিনে ঠিক কাকে বাঁচানোর সুযোগ দেওয়া হল, আর কী কী লুকোনো হল?" চুরির বহর বোঝাতে চার্জশিটের আরও কিছু তথ্য তুলে ধরেন তিনি। রমেশ বলেন, "চার্জশিট বলছে, সিসিটিভি ফুটেজে ১০৫ বার প্রণামী সরানোর ঘটনা ধরা পড়েছে। এক অভিযুক্তকে ৮৫ বার টাকা সরাতে দেখা গিয়েছে। বাকি অভিযুক্তদেরও বারবার জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে।"

ট্রাস্টের শীর্ষ কর্তাদের কেন অভিযুক্ত করা হয়নি, সেই প্রশ্নও তোলেন রমেশ। তিনি বলেন, "সব কিছু সামনে আসার তিন দিন পরেও চম্পত রাই প্রণামী চুরির কথা অস্বীকার করেছিলেন, এটা সিট জানত। তবুও চম্পত রাই, অনিল মিশ্র এবং গোপাল রাওকে কেন অভিযুক্ত করা হল না? কেন তাঁদের শুধু সাক্ষী করা হল? মানুষের বিশ্বাস হারানোর পরেও তাঁরা এখনও ট্রাস্টে কীভাবে বহাল তবিয়তে আছেন?"

এত বড় ঘটনা হওয়া সত্ত্বেও তদন্তের পরিধি কেন এত ছোট, তা নিয়ে সরব হন তিনি। রমেশ বলেন, "৭০ থেকে ১০৫টি চুরির ঘটনা সামনে এসেছে, হাজার হাজার ডিজিটাল মেসেজ খতিয়ে দেখা হয়েছে, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং সম্পত্তির হিসেব নিকেশের কথাও বলা হয়েছে। তবুও তদন্তের জাল কেন মাত্র আটজন অভিযুক্তের মধ্যেই আটকে থাকল? সিট কি পুরো সিস্টেমের জবাবদিহি নিশ্চিত করেছে, নাকি শুধু চুনোপুঁটিদের ধরে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলতে চাইছে?"

তিনি আরও বলেন, "সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল: এই পুরো ঘটনার শিকড় কি বিজেপি-আরএসএস-এর শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যন্ত পৌঁছেছে?"

এই পরিস্থিতিতে আদালতের নজরদারিতে নতুন করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন রমেশ। তাঁর কথায়, "প্রভু শ্রীরামের নামে দেওয়া প্রণামী চুরির আসল দায় কার, তা যতদিন না ঠিক হচ্ছে, ততদিন এই মামলা বন্ধ করা যাবে না। সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে এর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া উচিত।" প্রধানমন্ত্রীকেও এই বিষয়ে মুখ খোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রমেশ বলেন, "প্রধানমন্ত্রী, আপনার নীরবতা ভাঙুন। নাহলে বুঝতে হবে, চোরেরা আপনারই সুরক্ষা পাচ্ছে।"

অন্যদিকে, এই অভিযোগের বিষয়ে ভিএইচপি-র আন্তর্জাতিক সভাপতি অলোক কুমারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, তদন্ত শেষ হয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্ট নিজেই এর ওপর কড়া নজর রেখেছিল।

তিনি বলেন, "অযোধ্যার রাম মন্দির মামলার তদন্ত শেষ। আদালতে ১৭ হাজার পাতার বেশি একটি চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট এই তদন্তের নজরদারি করেছে এবং একজন ফরেনসিক অডিটরকে নিয়ে সিট নতুন করে গঠন করা হয়েছিল।" অলোক কুমার আরও জানান, তদন্তে প্রণামী চুরির প্রমাণ মিলেছে ঠিকই, তবে অন্য কোনও অনিয়ম পাওয়া যায়নি। তাঁর কথায়, "তদন্তে প্রণামী চুরির বিষয়টি সামনে এসেছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের বিচার হবে। প্রণামী ছাড়া আর কোনও অনিয়ম হয়নি। রামলালাকে দেওয়া সমস্ত মূল্যবান জিনিসপত্র একদম সুরক্ষিত আছে।"

বিষয়টি এখানেই শেষ হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। অলোক কুমার বলেন, "আমার মনে হয়, এবার এই বিতর্ক শেষ হওয়া উচিত। যারা দোষী সাব্যস্ত হবে, তারা ঠিকই বিচারের মুখোমুখি হবে।"

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Nagaland Liquor Death: ভেজাল মদ খেয়ে বিষক্রিয়ায় ১৯ জনের মৃত্যু, তদন্তে SIT গঠন পুলিশের
Bengaluru: চার রাজ্যের পুরুষ কর্মীদের কাজে নিয়োগে 'না', বেঙ্গালুরুর উদ্যোক্তার সিদ্ধান্তে বিতর্ক