
Cyclone Arnab: ওড়িশার গঞ্জাম ও গজপতি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির কারণে রাস্তাঘাট বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং শত শত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর, ২০২৬) ওড়িশা সরকার বন্যায় আটকা পড়া মানুষদের আকাশপথে উদ্ধারের প্রস্তুতি নিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর তীব্রতা কমে আসার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির সঙ্গে কথা বলেছেন।
ওড়িশা রাজ্যের মুখ্য সচিব অনু গর্গ জানিয়েছেন, “আমাদের কাছে খবর এসেছে যে গঞ্জাম জেলায় প্রায় ২,০০০ মানুষ আটকা পড়েছেন; বন্যার জল তাঁদের চারপাশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। জেলা কালেক্টর নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধারকাজ তদারকি করছেন। আমরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি।”
অনু গর্গ জানান, ভারতীয় কোস্ট গার্ড উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে। তবে অবিরাম বৃষ্টিপাত এবং নিচু মেঘের কারণে আকাশপথে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে, ওড়িশা ডিজাস্টার র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (ওডিআরএএফ)-এর দলগুলো আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
মুখ্য সচিব বলেন, “গত ২৪ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিপাতে গঞ্জাম ও গজপতি জেলার বেশ কিছু গ্রাম ও শহর তলিয়ে গেছে। আমরা আশা করছি, আগামী পাঁচ-ছয় ঘণ্টার মধ্যে জলর স্তর নেমে আসবে। এরপর সরকার ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করবে।”
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর, ২০২৬) ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যার পর, ওড়িশার গঞ্জাম জেলার সোরাদা এলাকায় ওড়িশা ডিজাস্টার র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের কর্মীরা মানুষদের উদ্ধার করছেন। |
ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের (আইএমডি) তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় গঞ্জাম জেলার পাত্রাপুর ও সোরাদা বৃষ্টিমাপক কেন্দ্রগুলোতে যথাক্রমে ৫৪৬ মিলিমিটার ও ৫০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কান্ধামাল জেলার জি. উদয়গিরি এবং গজপতি জেলার মহেন্দ্রগড়েও এই সময়ে ৪০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ওড়িশার মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের তিনটি স্থানে ৩০০ মিলিমিটারের বেশি এবং আরও আটটি স্থানে ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ওড়িশার দক্ষিণাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। গঞ্জাম ও গজপতি জেলার ২২টি ব্লকের ২০০টিরও বেশি গ্রাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করার জন্য রাজ্য সরকার গঞ্জামে অতিরিক্ত ১৫টি ওডিআরএএফ (ODRAF) ইউনিট মোতায়েন করেছে।
গঞ্জামকে মোহনার সঙ্গে সংযুক্তকারী জাতীয় সড়ক ৩২৬-এর একটি অংশ বন্যার তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে, যার ফলে ওই অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। গজপতি জেলাতেও সড়ক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
পাহাড়ি ভূখণ্ডের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে; বৃষ্টির তীব্র স্রোত পাহাড় থেকে নিচু এলাকার দিকে নেমে আসায় ছোটখাটো ভূমিধসের ঘটনা ঘটে এবং অবকাঠামোর ক্ষতি হয়। বিভিন্ন স্থানে প্রধান সড়কগুলোর ওপর দিয়ে বন্যার জল প্রবাহিত হওয়ায় এই দুই জেলায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বন্যার ফলে ওড়িশার দক্ষিণাঞ্চলের কিছু অংশে ফসল কাটার ঠিক আগের মুহূর্তে ধানক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা কৃষকদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। পাশাপাশি, এর ফলে জনজীবন ও পরিবহন ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।