Cyclone Arnab: অন্ধ্রপ্রদেশে অর্ণব ঘূর্ণিঝড়ে যাদের ফসল, ঘরবাড়ি বা ব্যবসার ক্ষতি হয়েছে, তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেকে যাতে ন্যায্য সাহায্য পান, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
Cyclone Arnab: মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু জানিয়েছেন, অর্ণব ঘূর্ণিঝড়ের দাপট কতটা হতে পারে, তা আগে থেকেই আঁচ করা হয়েছিল। গত তিন দিন ধরে পরিস্থিতির ওপর টানা নজর রাখা হয়েছে। সচিবালয়ের আরটিজিএস (RTGS) সেন্টারে বসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ঝড়ের প্রভাব বুঝে আগেভাগেই অফিসারদের সতর্ক করা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী সব ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রাণহানি কমানো এবং দুর্যোগের পর দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনাই ছিল সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি মনে করিয়ে দেন, আগে ঘূর্ণিঝড় হলে অনেক বেশি মানুষের মৃত্যু হতো। তবে এবার অর্ণব ঘূর্ণিঝড়ের জেরে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের পরিবারের প্রতি তিনি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকার সবরকম সাহায্য করবে বলেও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
স্থলভাগ পেরিয়েছে ঘূর্ণিঝড়, তবে বৃষ্টি চলছে বেশ কিছু জেলায়
চন্দ্রবাবু নাইডু জানান, রাত ১১টা ১৫ মিনিট নাগাদ অর্ণব ঘূর্ণিঝড় স্থলভাগে আছড়ে পড়ে। এরপর অন্ধ্রপ্রদেশ পেরিয়ে তা প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর দিকে এগিয়ে যায়। তা সত্ত্বেও ঝড়ের প্রভাবে রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় এখনও বৃষ্টি চলছে। শ্রীকাকুলাম, আল্লুরি সীতারামারাজু, পার্বতীপুরম মান্যম এবং অনাকাপল্লী জেলার মানুষদের বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে অফিসারদের প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকার সাধারণ মানুষকেও অফিসারদের কথা মেনে নিরাপদ জায়গায় থাকার অনুরোধ করেছে।
বিদ্যুৎ ফেরানোর কাজ চলছে, দুই জেলায় ব্যাহত উদ্ধারকাজ
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। তা দ্রুত স্বাভাবিক করার কাজ চলছে। তবে আবহাওয়া খারাপ থাকায় কোনাসীমা এবং পশ্চিম গোদাবরী জেলায় উদ্ধারকাজ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। এই দুটি জেলা ছাড়া বাকি সব জায়গায় সন্ধ্যার মধ্যেই বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে তিনি জানিয়েছেন। আবহাওয়া একটু ভালো হলেই বাকি এলাকাগুলোতেও দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হবে। মানুষের কাছে যাতে দ্রুত বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া যায়, সেদিকে অফিসারদের বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ে মৃতদের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ
চন্দ্রবাবু নাইডু ঘোষণা করেছেন, ঘূর্ণিঝড়ে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। যাদের ঘরবাড়ি ভেঙেছে, তারা ১০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ পাবেন। ঝড়ের কারণে যারা বিপদে পড়ে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন, তাদেরও আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। জনপ্রতি ১ হাজার টাকা করে, একটি পরিবারকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত সাহায্য করা হবে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যাতে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে, তার জন্যই এই সাহায্যের ব্যবস্থা করেছে সরকার।
ব্যবসায়ী, গাড়িচালক ও মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ সাহায্য
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঝড়ের কারণে যে সব ছোট ব্যবসায়ী, এমএসএমই (MSME) শিল্প, গাড়ির মালিক এবং মৎস্যজীবীরা রোজগার হারিয়েছেন, ক্ষতির পরিমাণ বুঝে তাদেরও আর্থিক সাহায্য করা হবে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, মুদি দোকান বা রেস্তোরাঁর ক্ষতি হলে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে। ৪০ লাখ টাকার কম টার্নওভার থাকা এমএসএমই-গুলোকে ৫০ হাজার টাকা, ৪০ লাখ থেকে ১.৫ কোটি টাকা টার্নওভার থাকলে ১ লাখ টাকা এবং ১.৫ কোটি টাকার বেশি টার্নওভার থাকলে ১.৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত দু-চাকার গাড়ির জন্য ৩ হাজার টাকা এবং তিন-চাকার গাড়ির জন্য ১০ হাজার টাকা সাহায্য মিলবে। এছাড়া, মাছ ধরার নৌকা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ৯ হাজার টাকা, জাল সারানোর জন্য ৫ হাজার টাকা এবং জাল সমেত নৌকা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ২৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।






