
দাউদ ইব্রাহিমের ঘনিষ্ট সহযোগী সেলিম দোলাকে ভারতে আনা হয়েছে। ইস্তাম্বুল থেকে ভারতে প্রত্যার্পণ করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দেশে মাদক পাচারের অভিযোগ রয়েছে। সেলিম দোলা বড় ধরনের মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ উঠেছ। ভারতীয় সংস্থাগুলির তথ্যের ভিত্তিতে সেলিম দোলাকে শনিবার তুরস্কের গোয়েন্দার আটক করে। তাঁর বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল। মঙ্গলবার সেলিমকে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে দিয়ে নিয়ে আসা হয়।
সেলিম দোলা হল ডি-কোম্পানি ও দাউদ ইব্রাহিমের একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, সে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীকে কেন্দ্র করে কয়েকশো কোটি টাকার সিন্থেটিক ড্রাগ নেটওয়ার্ক পরিচালনা করত। গত দুই বছরে ১০০ কোটি টাকারও বেশি আয় করেছে সেলিম নিজে।
মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে হেরোইন, চরস, মেফেড্রোন, ম্যান্ড্রাক্স ও মেথামফেটামন-সহ একাধিক মাদক পাচারে সেলিমের হাত ছিল। ভারতে যে মাদক পাচারের ব়্যাকেট চলে তাতেই সেলিম ছিল অন্যতম সরবরাহকারী।
মুম্বই পুলিশ, গুজরাট এসটিএফ- দীর্ঘ দিন ধরেই সেলিমকে খুঁজাচ্ছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, বহু বছর ধরেই সেলিম মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও ইউরোপে ড্রাগ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। সেলিম একটি আন্তর্জাতিক ড্রাগ চক্রের প্রধান হিসেবেই কাজ করত। ২০২৫ সাল থেকেই সেলিমকে ভারতে ফেরাতে কথা বলছিল ভারত সরকার। এর আগে আরব আমিরশাহী থেকেই সেলিমের ছেলে তাহিল সেলিম দোলা ও তার দুই সহযোগীকে মুম্বাই পুলিশ গ্রেফতদার করেছিল।
একাধিক প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী সেলিম দোলা যে আন্তর্জাতিক মাদক সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করত যার বার্ষিক মূল্য ছিল প্রায় ৫০০০ কোটি টাকা বা ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেলিমের নিজস্ব সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি টাকা। সেলিমের বিরুদ্ধে মুম্বইয়ে যে সিন্থেটিক ড্রাগ নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার মূল্য ২৫২ কোটি টাকা। পুলিশের বিভিন্ন অভিযানে ২৫৬.৪৯ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যারমধ্যে রয়েছে ফ্ল্যাট ,বাড়ি , নগদ অর্থ।