বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পৌরোহিত্যে নীতি আয়োগের ১১তম গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 'বিকশিত ভারত@২০৪৭'-এর লক্ষ্যে রাজ্যগুলির ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অগ্রগতির জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির একসঙ্গে কাজ করা অপরিহার্য।
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে নীতি আয়োগের ১১তম গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। এবারের বৈঠকের মূল বিষয় ছিল 'বিকশিত ভারত@২০৪৭-এর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক মানব উন্নয়ন' (Inclusive Human Development for Viksit Bharat@2047)।

বৈঠকের পর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান, এই বৈঠকে আত্মনির্ভরতা, বিশ্বসেরা পদ্ধতি গ্রহণ এবং সংস্কার প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করার মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সমবায় যুক্তরাষ্ট্রীয়তার (cooperative federalism) প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতার কথা আবারও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের সার্বিক অগ্রগতিতে রাজ্যগুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মোদীর বার্তা
পোস্টে তিনি লেখেন, "'বিকশিত ভারত@২০৪৭-এর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক মানব উন্নয়ন' থিমের ওপর নীতি আয়োগের ১১তম গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে সভাপতিত্ব করলাম। আত্মনির্ভরতার ওপর জোর দেওয়া, বিশ্বসেরা পদ্ধতি গ্রহণ এবং সংস্কারের যাত্রাকে শক্তিশালী করার মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। আমরা সমবায় যুক্তরাষ্ট্রীয়তার প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতার কথা আবারও জানিয়েছি, কারণ আমাদের সরকার বিশ্বাস করে যে জাতীয় অগ্রগতিতে রাজ্যগুলি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।"
<br>এদিন নতুন দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবন কালচারাল সেন্টারে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ২৮টি রাজ্য এবং ৫টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রী, লেফটেন্যান্ট গভর্নর এবং প্রশাসকরা উপস্থিত ছিলেন। এই প্রথমবার নীতি আয়োগের গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে ২৮টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীই অংশ নিলেন।</p><div type="dfp" position=3>Ad3</div><h2>নীতি আয়োগের প্রতিক্রিয়া </h2><p>নীতি আয়োগের তরফে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বলেন, যখন বিশ্বের অনেক বড় অর্থনীতি অনিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন ভারতের অগ্রগতির কাহিনি বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করছে। তিনি আত্মনির্ভর হওয়ার সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন। বিশেষ করে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ক্ষেত্রে বিশ্বসেরা পদ্ধতিগুলি গ্রহণ ও প্রয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।</p><h2>যেগুলির ওপর জোর দিয়েছেন মোদী</h2><p>সমবায় যুক্তরাষ্ট্রীয়তার গুরুত্ব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বিকশিত ভারত'-এর লক্ষ্য পূরণে কেন্দ্র ও রাজ্যগুলিকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'বিকশিত ভারত'-এর স্বপ্ন প্রতিটি রাজ্য, জেলা, ব্লক এবং গ্রামের সম্মিলিত সংকল্প হওয়া উচিত।</p><p>ভারতের জনসংখ্যার বিন্যাসের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের যুবসমাজই সবচেয়ে বড় সম্পদ। বর্তমানে প্রায় ৭০ কোটি ভারতীয়র বয়স ২৫ বছরের কম। এই 'ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড'-কে 'ডেভেলপমেন্ট ডিভিডেন্ড'-এ রূপান্তরিত করার জন্য তিনি রাজ্যগুলিকে শিক্ষা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সক্ষমতা তৈরির ওপর জোর দিতে বলেন।</p><div type="dfp" position=4>Ad4</div><p>সম্প্রতি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী রাজ্যগুলিকে যুব ও MSME-দের জন্য সুযোগ তৈরি করতে উৎসাহিত করেন। তিনি অংশীদার দেশগুলি থেকে বিনিয়োগ আকর্ষণ করার জন্যও রাজ্যগুলিকে সক্রিয় হতে বলেন।</p><p>নারী-নেতৃত্বাধীন উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী 'লাখপতি দিদি'র সংখ্যা ৩ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৬ কোটি করার জন্য রাজ্যগুলিকে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি 'নারী শক্তি'র জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্বের কথাও বলেন।</p><p>প্রধানমন্ত্রী 'এক জেলা এক পণ্য' (ODOP) উদ্যোগের ওপর মনোযোগ দিতে এবং এটিকে কেন্দ্র করে রপ্তানিমুখী কৌশল তৈরির পরামর্শ দেন। তিনি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকে একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং রাজ্যগুলিকে এই ক্ষেত্রের সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য নীতি তৈরির আহ্বান জানান।</p><p>মাদকাসক্তি এবং সাইবার জালিয়াতির মতো সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, সচেতনতামূলক প্রচার এবং কার্যকর শাসনের মাধ্যমে সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।</p><p>এল নিনোর কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী রাজ্যগুলিকে জল সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক ও জৈব চাষে উৎসাহ দেওয়ার আবেদন জানান। তিনি উল্লেখ করেন, চলতি খরিফ মরশুমে কৃষকদের ১১ লক্ষ টন জৈব সার কেনাটা সুস্থায়ী কৃষির প্রতি ক্রমবর্ধমান আস্থারই প্রতিফলন।</p><p>প্রধানমন্ত্রী জেলা স্তরে, বিশেষ করে 'অ্যাস্পিরেশনাল ডিস্ট্রিক্ট' কর্মসূচির মাপকাঠিতে অগ্রগতির মূল্যায়নের ওপর জোর দেন। তিনি পরামর্শ দেন, একই ধাঁচে কৃষিক্ষেত্রে ১০০টি জেলাকে চিহ্নিত করে ইতিবাচক ফল আনার চেষ্টা করা উচিত।</p><p>বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী, লেফটেন্যান্ট গভর্নর এবং প্রশাসকরা প্রধানমন্ত্রী মোদীকে তাঁর ১২ বছরের কার্যকাল পূর্তির জন্য অভিনন্দন জানান। তাঁরা বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং ভারতের শক্তি সুরক্ষা ও বৃদ্ধির গতি বজায় রাখতে কেন্দ্রের সঙ্গে একযোগে কাজ করার কথা বলেন।</p><p>সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আলোচনা অত্যন্ত গঠনমূলক হয়েছে। তিনি বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য সকল মুখ্যমন্ত্রী, লেফটেন্যান্ট গভর্নর এবং প্রশাসকদের ধন্যবাদ জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে সহযোগিতা, উদ্ভাবন এবং উন্নয়নের প্রতি যৌথ দায়বদ্ধতার মাধ্যমে ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি 'বিকশিত ভারত' হয়ে ওঠার যাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে পারবে। </p>


