Gujarat Tourism: দার্জিলিং-মানালির ভিড় আর খরচ সামলাতে পারছেন না? তাহলে পাহাড়ি শহর সাপুতার কথা ভাবুন। গুজরাট-মহারাষ্ট্র বর্ডারে, সহ্যাদ্রি পাহাড়ের কোলে এই হিল স্টেশনকে বলে ‘গুজরাটের দার্জিলিং’। বর্ষায় মেঘ-কুয়াশা, লেক, ঝরনা আর চা বাগান – সব মিলিয়ে অপার সৌন্দর্য। কলকাতা থেকে ফ্লাইট+গাড়ি ৬ ঘণ্টা। কম খরচে ২ দিনের পারফেক্ট উইকেন্ড ট্রিপ।

Travel and Tourism: বর্ষা মানেই মন চায় পাহাড়। কিন্তু দার্জিলিং-মানালির ট্রেন-ফ্লাইটের টিকিট নেই, হোটেলের দাম আকাশছোঁয়া, ম্যালে পা ফেলার জায়গা নেই। অথচ ২ দিনের ছুটিতে মনটা একটু ঠান্ডা করতে ইচ্ছা করে। তাহলে উপায়? উপায় আছে। ভারতের পশ্চিমে লুকিয়ে আছে এক টুকরো স্বর্গ - সাপুতারা। গুজরাটের একমাত্র হিল স্টেশন। দার্জিলিংয়ের মতো খাড়াই নেই, মানালির মতো বরফ নেই, কিন্তু আছে মেঘ-কুয়াশা, লেক, ঝরনা আর অপার শান্তি। খরচও দার্জিলিং এর অর্ধেক। চলুন জেনে নিই সব ডিটেইল।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সাপুতারা কোথায় আর কেন বিখ্যাত? 

সাপুতারা গুজরাটের ডাং জেলায়, মহারাষ্ট্র বর্ডারের একদম কাছে। উচ্চতা ১০৮৫ মিটার। ‘সাপুতারা’ শব্দের মানে হল সাপের মতো আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা। গাড়িতে যেতে গা ছমছম করবে। সহ্যাদ্রি পর্বতের কোলে এই শহরকে লোকে বলে ‘গুজরাটের দার্জিলিং’। বর্ষায় চারপাশের জঙ্গল সবুজ হয়ে ওঠে। মেঘ এসে রাস্তা ছুঁয়ে যায়। দার্জিলিং যেতে না পারলে মন খারাপ না করে এখানেই চলে আসুন।

দার্জিলিং-মানালির থেকে কেন আলাদা? 

ভিড় নেই একদম: দার্জিলিং ম্যালের মতো হুড়োহুড়ি, হকার, ট্রাফিক জ্যাম নেই। এখানে সকালে ঘুম ভাঙবে পাখির ডাকে। নিরিবিলিতে লেকের ধারে বসে চা খাবেন। খরচ অর্ধেক: দার্জিলিং-মানালিতে হোটেল ভাড়া ৩০০০ টাকা থেকে শুরু। সাপুতারায় ৮০০ টাকায় ভালো রুম পেয়ে যাবেন। খাওয়া-ঘোরা মিলিয়ে খরচ ৫০% কম। বাজেট ট্রিপের জন্য বেস্ট। সারাবছর সুন্দর: বরফ না পড়লেও ক্ষতি নেই। বর্ষায় মেঘ, শীতে কুয়াশা, গরমে ২৫ ডিগ্রি ঠান্ডা হাওয়া। ১২ মাস যাওয়া যায়। অফ সিজন বলে ভিড়ও কম।

বর্ষায় দেখার মতো জায়গা সাপুতারা লেক

শহরের মাঝখানে পাহাড় ঘেরা নীল জলের লেক। বোটিং করতে পারবেন। বর্ষায় লেকের জল টইটম্বুর। চারপাশ কুয়াশায় ঢাকা থাকে। বিকেলে সানসেট দেখার জন্য আদর্শ জায়গা। সানসেট পয়েন্ট: সাপুতার সবচেয়ে সুন্দর ভিউপয়েন্ট। সূর্য ডোবার সময় আকাশ লাল-কমলা-বেগুনি রঙে রাঙিয়ে যায়। নিচে মেঘের সমুদ্র। মনে হবে স্বর্গে বসে আছেন। ক্যামেরা রেডি রাখুন। গিরা ফলস: সাপুতারা থেকে 52 কিমি দূরে ২৫০ ফুট উঁচু ঝরনা। বর্ষায় জলের তোড় দেখলে ভয় লাগবে। জলের ছাঁট এসে গা ভিজিয়ে দেবে। পিকনিকের জন্য দারুণ জায়গা। হাতগড় দুর্গ: পাহাড়ের মাথায় ৪০০ বছরের পুরনো দুর্গ। ৫০০ টা সিঁড়ি ভেঙে উঠতে হবে। ওপরে উঠলে ক্লান্তি ভুলে যাবেন। পুরো সাপুতারা শহর আর জঙ্গল এক নজরে দেখা যায়।

টেবল পয়েন্ট

নামেই বোঝা যায় টেবিলের মতো সমান পাহাড়ের মাথা। এখানে প্যারাগ্লাইডিং হয়। বর্ষায় মেঘের মধ্যে দিয়ে হাঁটার ফিল পাবেন। অ্যাডভেঞ্চার প্রেমীদের জন্য মাস্ট। স্টেপ গার্ডেন: ধাপে ধাপে সাজানো ফুলের বাগান। বর্ষায় রং-বেরঙের ফুল ফোটে। বাচ্চাদের নিয়ে ঘুরতে দারুণ লাগবে। ইনস্টাগ্রামের জন্য পারফেক্ট স্পট।

কীভাবে যাবেন আর খরচ কত?

কলকাতা থেকে: সবচেয়ে সহজ রাস্তা ফ্লাইট। কলকাতা থেকে সুরাট এয়ারপোর্ট ২ ঘণ্টা। সুরাট থেকে গাড়ি ভাড়া করে সাপুতারা ৪ ঘণ্টা, ১৬০ কিমি। মোট ৬ ঘণ্টায় পৌঁছে যাবেন। ট্রেনে: কলকাতা থেকে সুরাটের ট্রেন ২৪ ঘণ্টা। সুরাট থেকে বাস বা গাড়ি ৪ ঘণ্টা। যাদের সময় আছে তারা ট্রেনে যেতে পারেন। থাকা: MTDC-র রিসোর্ট সবচেয়ে ভালো। এছাড়া প্রাইভেট হোটেল, হোমস্টে আছে। ভাড়া ৮০০ টাকা থেকে শুরু। বর্ষায় অফ সিজন, তাই ৩০% ডিসকাউন্ট পেয়ে যাবেন। ২ দিনের খরচ: ২ জন মিলে থাকা-খাওয়া-গাড়ি-এন্ট্রি সব মিলিয়ে ৬০০০-৮০০০ টাকা। দার্জিলিং-মানালিতে এটা ১৫০০০ টাকার নিচে ভাবাই যায় না।

বর্ষায় যাওয়ার জরুরি টিপস আঁকাবাঁকা রাস্তা 

সুরাট থেকে সাপুতার রাস্তা ২৫ কিমি একদম আঁকাবাঁকা। গাড়ি বমির ধাত থাকলে মোশন সিকনেসের ওষুধ সাথে রাখুন। জোঁক-পোকা: জঙ্গল এলাকা। বর্ষায় জোঁক থাকে। ফুল প্যান্ট, মোজা, জুতো পরে ঘুরুন। ব্যাগে নুন আর কর্পূর রাখুন। ২ রাত থাকুন: ১ রাতে সাপুতার আসল রূপ দেখতে পাবেন না। ২ রাত থাকলে একদিন লেক-সানসেট, আরেকদিন গিরা ফলস-হাতগড় কভার হবে। তাড়াহুড়ো করবেন না।

শেষ কথা-দার্জিলিং-মানালির টিকিট কাটার আগে একবার সাপুতার কথা ভাবুন। ভিড় নেই, খরচ কম, অথচ পাহাড়ি সৌন্দর্য একটুও কম না। বর্ষায় মেঘ-কুয়াশা, লেক, ঝরনা – সব পাবেন এক জায়গায়। কম দিনের ছুটিতে মন ভরিয়ে আসার মতো জায়গা। প্রকৃতিকে কাছ থেকে ছুঁতে চাইলে সাপুতারা আপনার জন্যই।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।