Delhi Air Pollution: ভয়ংকর বায়ুদূষণ দিল্লিতে, সার্বিক AQI ১৫৩২; শহরের একাধিক এলাকার মাত্রা ৪০০ পার

Saborni Mitra   | ANI
Published : Nov 08, 2026, 11:21 PM IST
Delhi Air Quality Worsens to Severe Category AQI Crosses 1532 Mark Many Areas Affected

সংক্ষিপ্ত

দিল্লিতে বায়ুদূষণ মারাত্মক আকার নিয়েছে। রবিবার রাতে সামগ্রিক একিউআই ১৫৩২-তে পৌঁছে 'ভয়ংকর' পর্যায়ে চলে যায়। বাওয়ানা, আরকে পুরম, রোহিণীর মতো অনেক এলাকায় মাত্রা ৪০০ পার করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিএকিউএম গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যানের (গ্র্যাপ) তৃতীয় পর্যায় কার্যকর করেছে, যার ফলে নির্মাণ কাজ ও পুরনো গাড়ির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ জারি হয়েছে।

দিওয়ালির রাতে দিল্লির বায়ু দূষণ মারাত্মক আকার নিয়েছে। রবিবার রাতে দিল্লির AQI ১৫৩২তে পৌঁছে গেছে। রবিবার সকালে দিল্লির বায়ুর মান তীব্রভাবে অবনতি হয়েছে। সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ড (সিপিসিবি)-এর ডেটা অনুযায়ী, সকাল ৮টা ১০ মিনিটে সামগ্রিক এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ৪৮৩-তে পৌঁছে 'ভয়ংকর' (severe) পর্যায়ে চলে গেছে। রাজধানী দিল্লির একাধিক এলাকায় দূষণের মাত্রা ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে।

দীপাবলির দু’দিন আগে শুক্রবার কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট (সিএকিউএম) দিল্লি-এনসিআর জুড়ে গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান (গ্র্যাপ)-এর তৃতীয় পর্যায় বা স্টেজ থ্রি কার্যকর করেছে। দূষণ মাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কার কারণেই এই সিদ্ধান্ত।

সিপিসিবি ডেটা বলছে, বাওয়ানা এলাকায় একিউআই ৪৪৬, পাঞ্জাবি বাগে ৪৪৯, আরকে পুরমে ৪৪৮, আইআইটি দিল্লি ও রোহিণীতে ৪৪৫, চাঁদনি চকে ৪২০, পটপড়গঞ্জে ৪২১ এবং আলিপুরে ৪১৩ রেকর্ড করা হয়েছে। এই সব এলাকাই 'ভয়ংকর' ক্যাটাগরির মধ্যে পড়ছে।

একই সময়ে আনন্দ বিহারে একিউআই ৩২৮ এবং নরেলায় ৩৯৫ রেকর্ড হয়েছে। এই দুটি এলাকাই 'ভেরি পুওর' বা অতি খারাপ পর্যায়ে রয়েছে।

ইন্ডিয়া গেটের চারপাশের বাতাসের মান ৩৯৮, যা 'ভেরি পুওর' ক্যাটাগরিতে পড়ে। অক্ষরধাম মন্দির সংলগ্ন এলাকায় একিউআই ৩৩৬, এটাও 'ভেরি পুওর' পর্যায়েই থাকছে বলে সিপিসিবি ডেটা জানিয়েছে।

শীত পড়ার সাথে সাথে রবিবার সকালে দিল্লির বেশ কয়েকটি অংশে পুরু ধোঁয়াশা দেখা গেছে। দৃশ্যমানতা কমার পাশাপাশি দূষিত বাতাস বাসিন্দাদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়েছে।

শনিবার সকাল ৮টায় দিল্লির একিউআই ছিল ৩৬৪ ('ভেরি পুওর')। সেখান থেকে রবিবার ৪৮৩-তে পৌঁছনো মানে দূষণ পরিস্থিতির বড়সড় অবনতি।

সিপিসিবি-র শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, ০-৫০ পর্যন্ত একিউআই 'ভাল', ৫১-১০০ 'সন্তোষজনক', ১০১-২০০ 'মাঝারি', ২০১-৩০০ 'খারাপ', ৩০১-৪০০ 'অতি খারাপ' এবং ৪০১-৫০০ 'ভয়ংকর' বলে গণ্য করা হয়।

সিএকিউএম-এর নির্দেশে স্টেজ থ্রি চালু হওয়ায় দূষণ নিয়ন্ত্রণে কড়া পদক্ষেপ এবং নিয়মবিধি জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি আরও যাতে না খারাপ হয় তার জন্য সংশ্লিষ্ট সব এজেন্সিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই জরুরি অ্যাকশন প্ল্যান দিল্লি এবং সংলগ্ন হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থানের জেলাগুলোতে কার্যকর হয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি) এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মেটিওরোলজি (আইআইটিএম)-এর আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ভিত্তিতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যাতে শহরের একিউআই 'ভয়ংকর' মাত্রায় পৌঁছনোর আগেই বিধিনিষেধ আরোপ করা যায়।

গ্র্যাপ হলো সিএকিউএম পরিচালিত চার পর্যায়ের একটি জরুরি ব্যবস্থা। দূষণের মাত্রা যত বাড়ে, বিধিনিষেধ তত কঠোর হয়।

একিউআই ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে ('খারাপ' পর্যায়) থাকলে স্টেজ ওয়ান চালু হয়। এর লক্ষ্য থাকে রাস্তার ধুলো নিয়ন্ত্রণ, দূষণ বিধি মান্য করানো এবং খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো নিষিদ্ধ করা।

একিউআই ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে ('অতি খারাপ' পর্যায়) থাকলে স্টেজ টু কার্যকর হয়। এর ফলে পার্কিং ফি বাড়ানো, অফিসে যাওয়ার সময় পরিবর্তন করা এবং ধুলো নিয়ন্ত্রণে বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

৪০১-৪৫০ একিউআই অর্থাৎ 'ভয়ংকর' পর্যায়ে স্টেজ থ্রি লাগু হয়। এই সময় গাড়ির উপর কঠোর বিধিনিষেধ, নির্মাণ কাজ বন্ধ এবং প্রাইমারি স্কুলের বাচ্চাদের জন্য হাইব্রিড ক্লাস চালু করা হয়।

একিউআই ৪৫০ পার করলে তা 'ভয়ংকর প্লাস' পর্যায়ে পৌঁছয় এবং তখন স্টেজ ফোর লাগু হয়। ভারী পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা এবং ট্রাফিক ও শিল্প দূষণ মোকাবিলায় জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

স্টেজ থ্রি চালু হওয়ায় গাড়ি থেকে দূষণ ও ধুলো নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি স্টেজ ওয়ান ও টুর নিয়মবিধিও চালু থাকছে।

স্টেজ থ্রি অনুযায়ী, বিএস-থ্রি পেট্রোল ও বিএস-ফোর ডিজেলের চার চাকার গাড়িগুলি দিল্লি এবং এনসিআরের নির্দিষ্ট জেলাগুলোতে চলতে পারবে না।

দিল্লিতে রেজিস্টার্ড নয় এমন ডিজেল কমার্শিয়াল গাড়ি এবং পুরোনো হালকা ও মাঝারি পণ্যবাহী গাড়ি ঢোকার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা কঠোর করা হয়েছে।

ধুলো ছড়াতে পারে এমন সমস্ত অপ্রয়োজনীয় নির্মাণ কাজ, যেমন খোঁড়াখুঁড়ি, মাটি কাটা, বিল্ডিং ভাঙা এবং রাস্তা তৈরি বন্ধ রাখা হয়েছে। শুধু জরুরি কাজ নির্দিষ্ট ধুলো নিয়ন্ত্রণের নিয়ম মেনে করা যাবে।

স্টোন ক্রাশার এবং মাইনিংয়ের মতো প্রবল ধুলো তৈরি করে এমন কাজগুলোকেও অবিলম্বে বন্ধ বা সীমিত করতে বলা হয়েছে।

আজকের দীপাবলি উদযাপনের পর দিল্লি-এনসিআরে দূষণের মাত্রা যাতে আরও না বাড়ে, সেই উদ্দেশ্যেই এই সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Mallikarjun Kharge: 'দীপাবলি খুশির ঈদ!' মল্লিকার্জুন খাড়গেকে 'সনাতন-বিরোধী' তোপ বিজেপি-র
Karnataka Police: বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় বান্ধবীকে খুনের অভিযোগ, গ্রেফতার পুলিশ কনস্টেবল