
Delhi High Court: দিল্লি পুলিশের আচরণ নিয়ে হাইকোর্টে মামলা। শুক্রবার, দিল্লি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলার (PIL) শুনানি হতে চলেছে। আইনজীবী ও পুলিশের মধ্যে চলমান বিবাদের জেরে এসিপি মনস্বী বশিষ্ঠ এবং অন্যান্য পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে আইনজীবীদের হুমকি দেওয়া ও কুরুচিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে (Delhi High Court)। এই বিষয়ে দ্রুত শুনানির জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নীতিন বাসুদেও সামব্রে এবং বিচারপতি সঞ্জয় শর্মার ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জানানো হয়েছিল। বেঞ্চ শুক্রবার, এই মামলার শুনানিতে রাজি হয়েছে।
আইনজীবী করণ বীর সিং এই পিটিশনটি দায়ের করেছেন। সেখানে কর্মরত পুলিশ আধিকারিকদের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনজীবীদের সম্মান, নিরাপত্তা এবং পেশাগত স্বাধীনতা রক্ষার দাবি জানানো হয়েছে। এই মামলায় ভারত সরকার, দিল্লি পুলিশ কমিশনার, স্পেশাল পুলিশ কমিশনার (ভিজিল্যান্স), এসিপি মনস্বী বশিষ্ঠ এবং সাব-ইন্সপেক্টর বিশাল যাদবকে রেসপন্ডেন্ট বা জবাবদিহিকারী হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।
পিটিশনে বলা হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে এসিপি বশিষ্ঠকে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে হুমকি ও অবমাননাকর মন্তব্য করতে দেখা গেছে। আবেদনকারীর দাবি, ওই ভিডিওতে বলা হয়েছে যে আইনজীবীরা দল বেঁধে থানায় গেলে তাঁদের আটক করা হতে পারে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এছাড়া সাব-ইন্সপেক্টর বিশাল যাদবের একটি ভিডিওর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা গেছে, কোনও আইনজীবী তাঁর গায়ে হাত তুললে তিনি একে-৪৭ রাইফেল ব্যবহার করবেন।
আইনজীবী সিংয়ের দাবি, এই বক্তব্যগুলো যদি সত্যি হয়, তবে তা পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধমূলক হুমকি এবং আইনজীবীদের পেশাগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দেয়। সাম্প্রতিক বিক্ষোভে কর্মরত পুলিশকর্মীদের অংশগ্রহণ নিয়েও পিটিশনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ১৯৬৬ সালের পুলিশ ফোর্সেস (রেস্ট্রিকশন অফ রাইটস) অ্যাক্ট এবং অন্যান্য সার্ভিস রুল অনুযায়ী বিষয়টি খতিয়ে দেখার আর্জি জানানো হয়েছে।
'শৃঙ্খলা ভঙ্গের' অভিযোগে এসিপি বশিষ্ঠকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে। তবে আবেদনকারীর যুক্তি, শুধু সাসপেন্ড করলেই পুলিশ আধিকারিকদের আচরণ এবং আইনজীবীদের দেওয়া হুমকির মতো বড় অভিযোগগুলোর সমাধান হয় না। পিটিশনে আইনজীবীদের নিরাপত্তা, সম্মান ও পেশাগত স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে মূল ইলেকট্রনিক প্রমাণ সংরক্ষণ এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বেআইনি হুমকির ভিডিওগুলো সরিয়ে ফেলারও আবেদন করা হয়েছে।
অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে একটি স্বাধীন ও সময়বদ্ধ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন আবেদনকারী। প্রয়োজন হলে উপযুক্ত ফৌজদারি ও বিভাগীয় ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে। আইনজীবীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পুলিশ সদর দফতরের বাইরে দিল্লি পুলিশের বিক্ষোভে এসিপি বশিষ্ঠ অংশ নিয়েছিলেন বলে খবর। এরপরই এই বিতর্কের সূত্রপাত। পরে 'শৃঙ্খলা ভঙ্গের' দায়ে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়। শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্টে এই জনস্বার্থ মামলার শুনানি হওয়ার কথা।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।