Delhi Murder: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা খুনে বড় মোড়, বাংলা থেকে ধরা পড়ল এক দম্পতি

Published : Jun 07, 2026, 05:33 PM IST
Delhi University Professor Murder Case Couple Arrested in West Bengal

সংক্ষিপ্ত

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর দেবস্মিতা পালের খুনের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ৪ জুন দিল্লির ফ্ল্যাট থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দিল্লিতে আনা হচ্ছে। 

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর দেবস্মিতা পালের খুনের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করল পুলিশ। গত ৪ জুন বসুন্ধরা এনক্লেভের সত্যম অ্যাপার্টমেন্টে নিজের ফ্ল্যাট থেকে দেবস্মিতার দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দিল্লিতে আনা হচ্ছে।

অধ্যাপিকা খুন

পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৪ জুন দুপুর ২:৩৫ নাগাদ নিউ অশোক নগর থানায় একটি ফোন আসে। দেবস্মিতার দিদি, দেবারতি পাল (৪৯) পুলিশকে জানান যে তাঁর বোনকে খুন করা হয়েছে এবং দেহ ফ্ল্যাটের ভেতরেই পড়ে আছে। তিনি আরও জানান, ফ্ল্যাটটি সকাল থেকে বাইরে থেকে তালাবন্ধ ছিল। দেবস্মিতা একা থাকতেন এবং বারবার ফোন করেও তাঁকে পাওয়া যাচ্ছিল না। এতেই সন্দেহ হয় পরিবারের।

সন্দেহ হওয়ায় দেবারতি নিজেই তালা ভেঙে ফ্ল্যাটের ভেতরে ঢোকেন এবং দেখেন তাঁর বোন মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশের ক্রাইম টিম। ঘটনাস্থল থেকে ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং ছবি ও ভিডিওগ্রাফির পর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিস বাজেয়াপ্ত করা হয়।

তদন্তের গতিপ্রকৃতি

পুলিশ জানিয়েছে, দেবস্মিতা গত চার-পাঁচ বছর ধরে ওই ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বেশিরভাগ সময়েই অনলাইন ডেলিভারি সার্ভিসের মাধ্যমে আনাতেন। তদন্তকারীরা ঘটনার আগের দু-তিন দিনে কারা ফ্ল্যাটে এসেছিলেন, তা জানতে অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স ও আশেপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি, অনলাইন ডেলিভারি এজেন্ট এবং অন্যান্য সম্ভাব্য ব্যক্তিদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

খুনি দম্পতি

প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান দেবস্মিতার সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার জন্যই তাঁকে খুন করা হয়েছিল। এই ঘটনায় বর্ধমানের এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দেবস্মিতার ফ্ল্যাটের সিসিটিভি ফুটেজ দেখেই তাদের শনাক্ত করেছে পুলিশ। বর্ধমান শহরের বাদামতলা এলাকায় দেবস্মিতা পালের দাদুর বাড়ি থেকে রামপ্রসাদ দাস ও বনশ্রী দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের নাবালক পুত্রকেও আটক করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ধৃত দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে দেবস্মিতার দাদুর বাড়িতেই ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।

দিল্লিতে একাই থাকতেন দেবস্মিতা। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন শিবাজী কলেজে পড়াতেন । বিয়ের পাঁচ বছরের মাথায় ২০২২ সালে স্বামীর সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ হয়ে যায়। তাঁর স্বামী থাকেন বেঙ্গালুরুতে। তাঁর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও চলছিল। বর্ধমানে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বাড়ি ছিল দেবস্মিতার। সেখানেই অভিযুক্ত দম্পতি ভাড়াটে হিসাবে থাকতেন। পুলিশ সূত্রের খবর, দীর্ঘ দিন ধরেই সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার ছক কষছিলেন তাঁরা। ওই বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য দেবস্মিতা তাঁদের চাপ দিচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ। আর বাড়ি নিজেদের দখলে রাখতের সন্তানকে নিয়ে দিল্লিতে গিয়ে দেবস্মিতাকে খুন করে দম্পতি। প্রথমিক রিপোর্টে তেমনই তথ্যপ্রমান হাতে এসেছে পুলিশের।

শেষ কথা মায়ের সঙ্গে

সূত্রের খবর, খুন হওয়ার আগে শেষবার মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন ওই অধ্যাপিকা। এরপর থেকেই তাঁর ফোন সুইচড অফ ছিল। বারবার ফোন করে না পেয়ে সন্দেহ হওয়ায় তাঁর দিদি ফ্ল্যাটে এসে দেবস্মিতার মৃতদেহ দেখতে পান।

ময়নাতদন্তের জন্য দেহ লাল বাহাদুর শাস্ত্রী (LBS) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিউ অশোক নগর থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১০৩(১) ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ আগে জানিয়েছিল, অপরাধীকে খুঁজে বের করতে একাধিক টিম গঠন করা হয়েছে।

 

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

TMC Vs TMC: দলবদলের কাঁটা বনাম 'INDIA' জোটের আশা: সোমবার দিল্লি পাড়ি দিচ্ছেন মমতা
Twisha Sharma Case: গোপন কেস ডায়েরি ফাঁস? পুলিশের নথি কীভাবে পৌঁছল অভিযুক্তদের হাতে!