হিমাচল প্রদেশে বর্ষার ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত। ইতিমধ্যেই ৬০টি রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে, বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহও ব্যাহত। কিন্নরে মেঘভাঙা বৃষ্টির কারণে জাতীয় সড়ক ৫ বন্ধ। কুলু, মান্ডি এবং চম্বা জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

শুক্রবারও হিমাচল প্রদেশে ভারী বৃষ্টি থামেনি। এর জেরে রাজ্যের সাধারণ জীবনযাত্রা একেবারে নাজেহাল। স্টেট এমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার (SEOC)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ৬০টি রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে, বেশ কয়েকটি জেলায় বিদ্যুৎ পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েক ডজন জল সরবরাহ প্রকল্প বিকল হয়ে পড়েছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

মূল ঘটনা এবং রাস্তা বন্ধ

শুক্রবার সকাল ১০টায় SEOC-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্যাপক বৃষ্টি এবং বিভিন্ন জায়গায় দুর্যোগের কারণে রাজ্যের পরিবহন ও জরুরি পরিষেবা बुरीভাবে प्रभावित হয়েছে। কিন্নর জেলার নিচর সাব-ডিভিশনে মেঘভাঙা বৃষ্টির কারণে হড়পা বান এসেছে এবং প্রচুর ধ্বংসস্তূপ রাস্তায় জমেছে। এর ফলে চোলিং মিডল স্কুলের কাছে জাতীয় সড়ক-০৫ (NH-05) বন্ধ হয়ে গেছে। রাস্তা পরিষ্কারের কাজ চলছে। প্রশাসন থেকে চালকদের সাবধানে যাতায়াত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, লাহুল এবং স্পিতিতেও খারাপ আবহাওয়ার কারণে উত্তর পোর্টাল এবং সারচুর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ATR রুটটি যান চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

কোন জেলায় কী অবস্থা?

রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে মোট ৬০টি রাস্তা এখনও বন্ধ। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা কুলু জেলার, সেখানে ৩০টি রাস্তা বন্ধ। এরপর সিরমৌরে ১৪টি এবং চম্বায় ৭টি রাস্তা বন্ধ রয়েছে। উনা জেলার আজোলি-সানোলি সড়কেও সাময়িকভাবে যান চলাচল অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জলের সংকট

বিদ্যুৎ পরিকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রাজ্যজুড়ে মোট ৪৮টি ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফর্মার রিজিয়ন (DTR) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু মান্ডি জেলাতেই ৩৮টি DTR বিকল, ফলে অনেক জায়গায় কারেন্ট নেই।

পানীয় জলেরও সমস্যা দেখা দিয়েছে। রাজ্যজুড়ে ২৭টি জল সরবরাহ প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে সবকটিই চম্বা জেলার।

ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ

সরকারি হিসেব অনুযায়ী, এই বর্ষায় এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬৯.৬৫ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে মান্ডি জেলায়, প্রায় ২৪.১০ লক্ষ টাকা।

প্রশাসনের প্রস্তুতি ও সতর্কতা

রাজ্য প্রশাসন, জেলা কর্তৃপক্ষ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দলগুলিকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলিতে রাস্তা পরিষ্কার, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং জলের পাইপলাইন সারানোর জন্য দল পাঠানো হয়েছে।

প্রশাসন থেকে সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের অপ্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়, বিশেষ করে ধসপ্রবণ হাইওয়ে বরাবর যাতায়াত করতে বারণ করা হয়েছে। স্টেট এমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার তার ২৪x৭ হেল্পলাইন নম্বর (১০৭০) দিয়ে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।