
এবার বাঙ্কার বাস্টার বোমার পরীক্ষা চালাতে পারে ভারত। সবকিছু ঠিকঠাক এগোলে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) এবং ভারতীয় বিমান বাহিনী (আইএএফ) ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে এসইউ-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমানে (Su-30MKI) দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি পিজিবি-৫০০ বোমার (PGB-500 Bombs) ফ্লাইট পরীক্ষা করবে। ৫০০ কিলোগ্রামের এই ওয়ারহেডটি সুরক্ষিত বাঙ্কার, কমান্ড সেন্টার এবং কৌশলগত কাঠামো ধ্বংস করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
বাঙ্কার বাস্টার (Bunker Buster) হল এক ধরনের বিশেষ গাইডডেড বোমা বা ক্ষেপণাস্ত্র, যা মাটির অনেক গভীরে থাকা সুরক্ষিত সামরিক ঘাঁটি, বাঙ্কার বা পরমাণু কেন্দ্র ধ্বংস করতে তৈরি করা হয়েছে। সাধারণ বোমার মতো ওপরের স্তরে না ফেটে এটি অত্যন্ত শক্ত ইস্পাতের খোলসের সাহায্যে ড্রিলের মতো মাটি ও কংক্রিট ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করে এবং সঠিক সময়ে বিস্ফোরিত হয়।
এই পরীক্ষায় অ্যারোডাইনামিক ভারসাম্য এবং নিরাপদ নিক্ষেপ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হবে। এর গাইডেন্স সিস্টেমে জিপিএস/আইএনএস-এর মাধ্যমে নির্ভুল টার্মিনাল টার্গেটিং অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। পিজিবি-৫০০ হল দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি নির্ভুল লক্ষ্যভেদী বোমার একটি অংশ। এটি একটি ভারী অস্ত্র, যা অত্যন্ত নির্ভুলতার সঙ্গে সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এর ফলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ বা মায়ানমারের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা সন্ত্রাসবাদীদের বাঙ্কার বা ভূগর্ভস্থ গোপন আস্তানা এখন সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা যাবে। এসইউ-৩০এমকেআই বিমানটিতে ইতিমধ্যেই ব্রহ্মস, অস্ত্র এবং রুদ্রমের মতো অস্ত্র রয়েছে। এই বোমাটি যুক্ত হওয়ার ফলে বিমানটির আঘাত হানার ক্ষমতা আরও বাড়বে। পরীক্ষা সফল হলে এটি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর ফলে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং আত্মনির্ভরশীলতা জোরদার হবে।
প্রথমে, বহন পরীক্ষা চালানো হবে, যেখানে বোমাটি বিমানের পাইলনে স্থাপন করা হবে। এই পরীক্ষাগুলিতে অ্যারোডাইনামিক লোড, ড্র্যাগ এবং হ্যান্ডলিং পরীক্ষা করা হবে। পরবর্তী রিলিজ টেস্টে নিরাপদ বিচ্ছিন্নতা, নেভিগেশন ব্যালেন্স এবং গাইডেন্স অ্যাকুরেসি মূল্যায়ন করা হবে। এই পরীক্ষাগুলি ডিআরডিও এবং আইএএফ যৌথভাবে করবে। সফল পরীক্ষার পর অপারেশনাল মূল্যায়ন করা হবে। এই অস্ত্রটি এসইউ-৩০এমকেআই-এর মতো মাল্টি-রোল প্ল্যাটফর্মে নেটওয়ার্ক-সেন্ট্রিক যুদ্ধেও কার্যকর হবে।
এই প্রকল্পটি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র একটি অংশ। ডিআরডিও হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড এবং বেসরকারি শিল্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। দেশীয় উৎপাদন সাপ্লাই চেনকে শক্তিশালী করবে এবং খরচ কমাবে। ভারতের নির্ভুল আঘাত হানার ক্ষমতা বাড়বে, যা সীমান্ত নিরাপত্তা এবং কৌশলগত প্রতিরোধকে শক্তিশালী করবে। অন্যান্য দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি এটি বিমান বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করবে। সফল পরীক্ষার পর অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।