
আইপ্যাক মামলায় নয়া মোড়। রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারকে সাসপেন্ড করার আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আরেকটি আবেদন করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এদিকে, আজই আইপ্যাক কাণ্ডে তাদেরই করা মামলার শুনানি রয়েছে শীর্ষ আদালতে। শুনানির আগেই রাজীব কুমারকে সাসপেন্ড করার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। ইডি দাবি করেছে যে, গত ৮ জানুয়ারি কলকাতায় আই-প্যাকের ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাসভবনে তল্লাশির সময় রাজীব কুমার এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্তারা হস্তক্ষেপ করেছিলেন। ইডি তার আবেদনে রাজীব কুমারের আচরণের কথা উল্লেখ করে বলেছে যে, তিনি যখন কলকাতা পুলিশের কমিশনার ছিলেন, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ধরনায় বসেছিলেন।
আই-প্যাকের কলকাতা অফিসে তল্লাশি অভিযানে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ইডির দায়ের করা আবেদনের শুনানি আজ সুপ্রিম কোর্টে হবে। সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে দায়ের করা এই আবেদনটি বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চে উঠবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও, ইডি এই মামলায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার, রাজীব কুমার, কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ কুমার ভার্মা এবং ডিসি সাউথ প্রিয়ব্রত রায়কে পার্টি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
গত সপ্তাহে একটি ঘটনা থেকে এই আবেদনের সূত্রপাত। কয়লা পাচার মামলায় যুক্ত অর্থ পাচার তদন্তের অংশ হিসেবে ইডি কর্তারা কলকাতার আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। কেন্দ্রীয় সংস্থাটির মতে, তল্লাশির সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিনিয়র তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে আসেন এবং কর্তব্যরত আধিকারিকদের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। ইডি আরও অভিযোগ করেছে যে, মুখ্যমন্ত্রী কিছু ফাইল নিয়ে চলে যান। যা তদন্তকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে। ইডি তার আবেদনে যুক্তি দিয়েছে যে, তল্লাশির স্থানে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি আধিকারিকদের জন্য একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করেছিল এবং সংস্থার স্বাধীনভাবে তার আইনানুগ দায়িত্ব পালনের ক্ষমতাকে ব্যাহত করেছে। সংস্থাটি তদন্ত চলাকালীন রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার বাধা এবং অসহযোগিতার অভিযোগও করেছে।
এই ঘটনার পর পুলিশ ইডি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করে, যা রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার মধ্যে সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এই ঘটনাগুলোর কথা উল্লেখ করে ইডি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে এবং সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) দ্বারা একটি স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ চেয়েছে। ইডি যুক্তি দিয়েছে যে, রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে একটি নিরপেক্ষ কেন্দ্রীয় সংস্থার প্রয়োজন। সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার আগে, ইডি একই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সুরক্ষা এবং উপযুক্ত নির্দেশনার জন্য কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। বুধবার কলকাতা হাইকোর্ট তৃণমূল কংগ্রেসের দায়ের করা একটি পিটিশনের নিষ্পত্তি করে, যেখানে ইডি জানায় যে তারা আইপ্যাকের কার্যালয় বা প্রতীক জৈনের কাছ থেকে কোনও নথি বা উপকরণ বাজেয়াপ্ত করেনি। অন্যদিকে, ইডি-র করা মামলাটির শুনানি মুলতুবি করে দেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। যেহেতু সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছে, তাই হাইকোর্টে মামলায় মুলতুবির জন্য আদালতকে বলেছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার আইনজীবী।