FCRA New Amendment Bill: বৈদেশিক অর্থায়ন এবং এনজিও পরিচালনায় এইসিআরএ আইনে বড় বদল আনছে ভারত সরকার। আর তাতেই যেন তেড়েফুড়ে উঠেছে বিভিন্ন এনজিও গোষ্ঠীগুলি। কিন্তু কেন? কী এই এফসিআরএ আইন? বিশদে জানতে দেখুন সম্পূর্ণ ফটো গ্যালারি…
এফসিআরএ বিল কী? কেন এই বিলের সংশোধন করতে চাইছে সরকার?
ভারত সরকার বৈদেশিক অর্থায়ন এবং এনজিও (NGO)-গুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে এফসিআরএ আইনে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করেছে । সরকারের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি অর্থায়ন ব্যবহার করে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে এবং উন্নয়নের কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবিত এই বিলটি মূলত 'লাস্ট মাইল রিফর্ম' বা চূড়ান্ত সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভারতের বিদেশি তহবিল নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর করবে।
26
বিরোধিতার কারণ ও উদ্বেগ
রাজনৈতিক বিরোধিতা:- মিজোরাম কংগ্রেস এটিকে 'কালো দিবস' হিসেবে অভিহিত করেছে এবং বিধানসভায় বিশেষ অধিবেশনের দাবি জানিয়েছে। কেরালা বিধানসভাও এই আইনের বিরোধিতা করে প্রস্তাব পাস করেছে । অনেক খ্রিস্টান সংস্থা ও সিভিল সোসাইটি গ্রুপ অভিযোগ করেছে যে, এই সংশোধনীর লক্ষ্য মূলত ধর্মীয় ও সামাজিক এনজিওগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া।
36
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এবং কেন এই আইন গুরুত্বপূর্ণ?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতারা, যেমন মার্কো রুবিও, এই আইনটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং একে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে না দেখে মানবাধিকারের প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন। সরকার এবং সমর্থকরা মনে করেন, বিদেশি অর্থায়নের নামে অনেক সময় দেশবিরোধী কার্যক্রম চালানো হয়। উন্নয়ন প্রকল্পে বাধা- কুডনকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, অরুণাচল প্রদেশের বাঁধ প্রকল্প এবং গ্রেট নিকোবার প্রকল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় উন্নয়নমূলক কাজে বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত এনজিওগুলো পরিবেশ রক্ষার দোহাই দিয়ে বাধা সৃষ্টি করছে
এই এফসিআরএ-র ফলে ২০১৪ সালের একটি আইবি (IB) রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত এনজিওগুলো ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে প্রায় ২-৩% পর্যন্ত বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
56
এই বিলে কী কী পরিবর্তন আনা হয়েছে?
বর্তমান আইনে এফসিআরএ লাইসেন্স বাতিল হলে ভবিষ্যতে বিদেশি তহবিল পাওয়া বন্ধ হয়, কিন্তু আগের তহবিলে কেনা সম্পত্তি বা অর্থ উদ্ধার করা কঠিন ছিল। নতুন বিলে একটি 'ডেজিগনেটেড অথরিটি' গঠনের কথা বলা হয়েছে, যারা লাইসেন্স বাতিল হওয়া এনজিওর সম্পত্তি ও তহবিল সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেবে।
66
স্বচ্ছতা ও মনিটরিং
এনজিওগুলোকে এখন তহবিলের ব্যবহার সম্পর্কে কঠোর স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। যে উদ্দেশ্যে অর্থ নেওয়া হয়েছে, ঠিক সেই কাজ ও নির্দিষ্ট এলাকাতেই তা খরচ করতে হবে। উন্নত দেশগুলোতে (যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া) বিদেশি হস্তক্ষেপ নিয়ন্ত্রণের জন্য যেমন আইন রয়েছে, বর্তমানে ভারত সরকারও সেই আদলে নিজস্ব কাঠামো তৈরি করছে