
তেজস লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফট (LCA) Mk1A যুদ্ধবিমানের সরবরাহ দীর্ঘদিন ধরে বিলম্বিত ছিল। তবে, হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL) এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ আপডেট দিয়েছে। HAL চেয়ারম্যান এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডঃ ডি কে সুনীল সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে পাঁচটি তেজস Mk1A বিমান (Tejas Mk1) সম্পূর্ণরূপে তৈরি হয়ে গিয়েছে। বিমানের ফায়ারিং এবং মিসাইল পরীক্ষাও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোম্পানি শীঘ্রই ভারতের বিমান বাহিনীর (Indian Air Force) হাতে এই পাঁচটি বিমান তুলে দেবে। জানা যাচ্ছে, আগামী মার্চের মধ্যেই এই পাঁচটি বিমান বায়ুসেনার হাতে তুলে দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে, তেজস Mk1A বিমান সরবরাহের মূল সমস্যা ছিল GE Aerospace থেকে F404 ইঞ্জিন সরবরাহে দেরি। তবে, এখন ইঞ্জিনের সরবরাহ ঠিক হয়েছে। HAL পাঁচটি বিমানে ইঞ্জিন লাগিয়ে ফেলেছে। HAL জানিয়েছে যে আরও কিছু ছোটখাট পরীক্ষা শীঘ্রই সম্পন্ন করা হবে। এর পরে, এই বিমানগুলি IAF-এর কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ভারতীয় বিমান বাহিনীর নতুন যুদ্ধবিমানের প্রয়োজন
বর্তমানে, ভারতীয় বিমানবাহিনীর কাছে অনুমোদিত ৪২টির পরিবর্তে মাত্র ২৯টি স্কোয়াড্রন রয়েছে। মিগ-২১-এর মতো পুরনো বিমান অবসরে যাচ্ছে। যা বাহিনীর যুদ্ধক্ষমতার উপর প্রভাব ফেলছে। এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং বারবার বলেছেন যে তিনি তেজস এমকে১এ-এর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। গত বছর, অ্যারো ইন্ডিয়াতে তিনি খোলাখুলিভাবে বিমানের সরবরাহে দেরি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।
তেজস এমকে১এ-এর আধুনিক ফিচার (Tejas MK1A Features)
তেজস এমকে১এ পুরনো এমকে১-এর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত। এতে AESA রাডার, উন্নত ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা, উন্নত এভিওনিক্স এবং আকাশে জ্বালানি ভরার ক্ষমতা রয়েছে। এই ফিচারগুলি এটিকে আরও মারাত্মক এবং আধুনিক করে তোলে। এই বিমানগুলি ভারতীয় বিমানবাহিনীর ভবিষ্যতের মেরুদণ্ড তৈরি করবে। ইতিমধ্যেই মোট ১৮০টি অর্ডার অর্ডার করা হয়েছে। আইএএফ ২০২৯ সালের মধ্যে ৮৩টি চুক্তিবদ্ধ তেজস এমকে১এ যুদ্ধবিমান পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ৯৭টি বিমানের জন্য পৃথক অর্ডারের ডেলিভারি ২০২৭-২৮ সালে শুরু হতে পারে এবং ২০৩৩-৩৪ সালের মধ্যে শেষ হতে পারে। অধিকন্তু, আরও উন্নত তেজস এমকে২ বিমানের ট্রায়াল ২০২৭ সালে হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তেজস যুদ্ধবিমানের সরবরাহে বিলম্বের কারণে আরও রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার জন্য ফ্রান্সের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ভারত। প্রথম ৩৬টি রাফাল বিমানবাহিনীর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। তাই আরও ১১৪টি রাফাল বিমান কেনার চুক্তি করতে পারে ভারত। তেজস যুদ্ধবিমানের উৎপাদন পুরোপুরি শুরু না হওয়া পর্যন্ত তাতে বিমান বাহিনীর স্কোয়াড্রনের সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পাবে।