
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল বেঙ্গালুরুতে। শহরে প্রধানমন্ত্রীর কনভয় যে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, সেই এলাকার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে জিলেটিন স্টিক এবং বিস্ফোরক সামগ্রী। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে প্রশাসনিক স্তরেও। যদিও এখনও পর্যন্ত তদন্তকারীদের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে “হত্যার ছক” তত্ত্ব নিশ্চিত করা হয়নি, তবে গোটা ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েই দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সন্দেহজনক একটি ব্যাগ থেকে বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বম্ব স্কোয়াড, ডগ স্কোয়াড এবং উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা। দ্রুত এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালানো হয়। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল জিলেটিন স্টিক এবং ডেটোনেটর জাতীয় উপকরণ। তদন্তকারীদের অনুমান, এগুলি বিস্ফোরণে ব্যবহার করা সম্ভব।
ঘটনার তদন্তে নেমে এক সন্দেহভাজন যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কীভাবে ওই বিস্ফোরক সামগ্রী সেখানে এল, কারা এর সঙ্গে যুক্ত এবং এর পিছনে বড় কোনও ষড়যন্ত্র ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
যদিও পুলিশের একাংশের দাবি, উদ্ধার হওয়া জিলেটিন স্টিকগুলি অবৈধ খনি বা পাথর ভাঙার কাজেও ব্যবহার হতে পারে, তবুও প্রধানমন্ত্রীর সফরের সঙ্গে ঘটনাটির সময়কাল মিলে যাওয়ায় নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলিও গোটা ঘটনায় নজর রাখছে বলে সূত্রের খবর।
এর আগে বেঙ্গালুরুতে বিস্ফোরক উদ্ধার বা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তাই এবার কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ঘিরে SPG এবং স্থানীয় পুলিশের তরফে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিরোধীদের একাংশ কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে যে কোনও হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত এবং দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তদন্তকারীরা এখনও নিশ্চিত করে কিছু না বললেও, বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেঙ্গালুরুতে যে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এখন নজর পুলিশের তদন্তে— আদৌ এর পিছনে বড় কোনও নাশকতার ছক ছিল, নাকি এটি অন্য কোনও অপরাধমূলক কার্যকলাপের অংশ, সেটাই জানার অপেক্ষা।
উল্লেখ্য, বেঙ্গালুরুতে অতীতে জিলেটিন স্টিক ও ডেটোনেটর উদ্ধারের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে এবং সেগুলির তদন্তও করেছে পুলিশ।