
জিএসটি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
বৃহস্পতিবার পণ্য ও পরিষেবা করের বিভিন্ন ধাপ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। মন্ত্রিগোষ্ঠী জিএসটি-র একাধিক ধাপ বিলুপ্ত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে এবার ৯০ শতাংশ পণ্য ও পরিষেবার খরচ কমতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সারা দেশের সাধারণ মানুষের সুবিধা হতে চলেছে। উৎসবের মরসুমের আগে এই সিদ্ধান্তে সারা দেশের মানুষ খুশি হতে পারেন।
জিএসটি-র গুরুত্বপূর্ণ ধাপ
পণ্য ও পরিষেবা করের চারটি ধাপের নিয়ম বিলুপ্ত করে দিয়ে এবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই ধাপ হিসেবে ৫ ও ১৮ শতাংশকে রাখার প্রস্তাব দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। সেই প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে মন্ত্রিগোষ্ঠী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। বেশিরভাগ পণ্য ও পরিষেবার উপর করের বোঝা কমে গেলে সবারই সুবিধা হওয়ার কথা। ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্ত সারা দেশের মানুষের জন্যই ভালো।
জিএসটি-র নতুন ধাপ
এতদিন পণ্য ও পরিষেবা করের চারটি ধাপ ছিল। বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবার উপর ৫ শতাংশ, ১২ শতাংশ, ১৮ শতাংশ ও ২৮ শতাংশ করে কর নেওয়া হত। বৃহস্পতিবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, ১২ শতাংশ ও ২৮ শতাংশ করের ধাপ বিলুপ্ত করে দেওয়া হচ্ছে। এখন থেকে অধিকাংশ পণ্য ও পরিষেবার উপর ৫ শতাংশ বা ১৮ শতাংশ হারে কর নেওয়া হবে। ফলে বেশিরভাগ পণ্য ও পরিষেবার খরচই কমে যেতে চলেছে।
বেশিরভাগ পণ্যেই কমছে কর
কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এতদিন যে সব পণ্য ও পরিষেবার উপর ১২ শতাংশ কর নেওয়া হত, এখন থেকে সেরকম ৯৯ শতাংশ পণ্যের উপর ৫ শতাংশ কর নেওয়া হবে। এতদিন যে পণ্য ও পরিষেবাগুলির উপর ২৮ শতাংশ করে কর নেওয়া হত, এবার থেকে সেরকম ৯০ শতাংশ পণ্যের উপর ১৮ শতাংশ কর নেওয়া হবে। ফলে এই পণ্য ও পরিষেবাগুলি সস্তা হতে চলেছে।
পাপের পণ্যে বেশি কর
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কিছু পণ্যকে 'পাপের পণ্য' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলি হল তামাকজাত পণ্য। এই ধরনের পণ্যের উপর ৪০ শতাংশ কর নেওয়া হবে। ফলে বিড়ি, সিগারেটের দাম বাড়তে চলেছে। দামী গাড়ির উপরেও ৪০ শতাংশ কর নেওয়া হবে। ফলে পণ্য ও পরিষেবা করের নতুন ধাপে নেশা করা এবং বিলাসবহুল পণ্য কেনার খরচ বেড়ে যেতে চলেছে।
জিএসটি-তে সম্মত পশ্চিমবঙ্গ সরকার
পণ্য ও পরিষেবা করের নতুন ধাপ চালু করার বিষয়ে মন্ত্রিগোষ্ঠীর বৈঠকে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। চেয়ারম্যান হিসেবে ছিলেন বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। এছাড়া ছিলেন উত্তরপ্রদেশের অর্থমন্ত্রী সুরেশ কুমার খান্না, রাজস্থানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী গজেন্দ্র সিং, কর্ণাটকের রাজস্ব মন্ত্রী কৃষ্ণ বাইরে গৌড়া ও কেরলের অর্থমন্ত্রী কে এন বালাগোপাল। সবাই জিএসটি-র নতুন ধাপ চালু করার ক্ষেত্রে সম্মতি জানিয়েছেন।