
Food Poisoning at Wedding: গুজরাটে দাহোদে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। দাহোদ জেলার বিভিন্ন এলাকায় খাদ্যে বিষক্রিয়ার জেরে বহু মানুষের অসুস্থ হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটেছে দাহোদ জেলার আভলোদ গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে, যেখানে ভোজ খাওয়ার পর ৪০০-রও বেশি মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। আক্রান্তদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, বিয়েবাড়ির খাবার থেকেই এই বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে ঠিক কোন খাবার থেকে সমস্যা হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ঘটনার পর স্বাস্থ্য দফতর তদন্ত শুরু করেছে এবং নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অসুস্থদের মধ্যে অনেকেরই বমি, ডায়রিয়া ও পেটের সমস্যার মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে। দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। উল্লেখ্য, পূর্ব গুজরাতের এই জনজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলে এর আগেও এমন ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এর আগেও রাজ্যের অন্যত্র একই ধরনের একটি ঘটনা সামনে আসে। গত ৫ এপ্রিল, আহমেদাবাদের মেমনগর এলাকায় একটি মেয়েদের হোস্টেলে খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন বহু ছাত্রী। মোট ৫৭ জন ছাত্রী বমি, ডায়রিয়া ও বমিভাবের সমস্যায় আক্রান্ত হন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আক্রান্তদের একটি বড় অংশ চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন।
দেখুন ভিডিও
গুজরাতের রাজপুরা গ্রামে ৯ এপ্রিল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে খাবার খেয়ে প্রায় ১০০ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। জানা গিয়েছে, অনুষ্ঠানে পরিবেশিত 'সেভ খামানি' খাওয়ার পরেই একে একে বহু মানুষের মধ্যে অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেয়। আক্রান্তদের মধ্যে অন্তত ৩৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পাশাপাশি আরও ২১৪ জনকে সতর্কতামূলক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, যাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ না হয়।
দেখুন ভিডিও
খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনার পর প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। ঘটনার পর স্বাস্থ্য দফতর সক্রিয় হয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনও পুরো বিষয়টি নজরে রেখেছে। স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ধরনের ঘটনা এড়াতে খাবারের মান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত এলাকাগুলিতে মেডিক্যাল টিম পাঠানো হয়েছে এবং অসুস্থদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সন্দেহজনক খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে, যাতে বিষক্রিয়ার সঠিক কারণ চিহ্নিত করা যায়। এই ধরনের তিনটি পৃথক ঘটনারই তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। পাশাপাশি নতুন করে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া আটকাতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বস্তির খবর, চিকিৎসকদের মতে সব রোগীর অবস্থাই বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে।