
কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী সম্প্রতি জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ফেরেদুন ফেশারাকির সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেল, এলএনজি (LNG) এবং এলপিজি (LPG)-র বাজার এখন কোন দিকে এগোচ্ছে, তা নিয়েই মূলত আলোচনা হয় তাঁদের মধ্যে। আমেরিকা থেকে তেলের জোগান বৃদ্ধি, বিশ্বজুড়ে চাহিদার ঘাটতি এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে কথা বলেন তাঁরা।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শনিবার এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে জানান, বিশ্বজুড়ে জ্বালানির চাহিদা ও জোগানের পরিবর্তন নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা এখন রেকর্ড পরিমাণ অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করছে। নতুন নতুন সাপ্লাই সেন্টার তৈরি হচ্ছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও বিশ্বের বেশিরভাগ জায়গায় তেলের চাহিদা সেভাবে বাড়ছে না।
তবে ভারতের ছবিটা একেবারেই আলাদা। পুরীর মতে, তেলের চাহিদার দিক থেকে ভারত এখন বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল এবং বৃহত্তম বাজার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীতে অশান্তির প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এর ফলে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে এবং বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে।
একদিকে নতুন সাপ্লাই সেন্টারগুলো থেকে উৎপাদন বাড়ছে, অন্যদিকে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে জ্বালানি পরিবহনের প্রধান রুটগুলো বাধা পাচ্ছে। এই দুই বিপরীতমুখী শক্তির প্রভাবেই আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজার এখন ওঠানামা করছে।
ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় তেল ব্যবহারকারী দেশ। তাই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা এবং জ্বালানি সরবরাহে বাধা ভারতের কাছে বেশ চিন্তার বিষয়। কারণ এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আমদানি খরচের ওপর।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ। তাই ওই অঞ্চলে কোনও অশান্তি হলে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ এবং দামের ওপর তার বড় প্রভাব পড়ে। বর্তমান এই অস্থির পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেল, এলএনজি এবং এলপিজি বাজারের দিকে কড়া নজর রাখাটা আরও বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাজারের স্থিতিশীলতা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে যখন নানা আলোচনা চলছে, ঠিক সেই সময়েই এই বৈঠকটি হল। এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ওপেক-ইন্ডিয়া এনার্জি ডায়ালগের (OPEC-India Energy Dialogue) সপ্তম উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভারত এবং অর্গানাইজেশন অফ দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ (OPEC)-এর মধ্যে হওয়া ওই বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন হরদীপ সিং পুরী এবং ওপেকের সেক্রেটারি জেনারেল হাইথাম আল ঘাইস।
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের মতে, ওই বৈঠকে মূলত তেলের বাজারের স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, তেল শিল্পে বিনিয়োগ এবং বাজারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।