Himachal Pradesh: বর্ষার তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হিমাচল, মৃতের সংখ্যা কমপক্ষে ৭০

Saborni Mitra   | ANI
Published : Aug 11, 2026, 10:02 PM IST
Shooting Stones fall on road in Himachal Pradesh (Photo/ANI)

সংক্ষিপ্ত

হিমাচল প্রদেশে বর্ষার দাপট কমছেই না। গত ৪৩ দিনে বৃষ্টি ও ধস সংক্রান্ত ঘটনায় ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যজুড়ে ২০০-র বেশি রাস্তা বন্ধ হয়ে আছে। সব মিলিয়ে সরকারি সম্পত্তির প্রায় ৯১০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্টেট ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার।

হিমাচল প্রদেশে বর্ষার তাণ্ডব থামার নামই নিচ্ছে না। গত ৪৩ দিনে একটানা ভারী বৃষ্টি, ধস এবং মেঘভাঙা বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনজীবন বিপর্যস্ত। স্টেট ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার (SEOC)-এর সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, এই সময়ে ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যজুড়ে এখনও ২০৪টি রাস্তা বন্ধ এবং সরকারি সম্পত্তির মোট ক্ষতির পরিমাণ ৯১০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৩০ জুন থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত এই ৪৩ দিনের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এই সময়ে বারবার ভারী বৃষ্টি, ধস এবং মেঘভাঙা বৃষ্টির কারণে রাস্তা, বিদ্যুৎ পরিকাঠামো, পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এখনও পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ২০৪টি রাস্তা বন্ধ রয়েছে, যার মধ্যে দুটি জাতীয় সড়ক NH-154 এবং NH-21-ও রয়েছে। মান্ডি জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, সেখানে ৮০টি রাস্তা বন্ধ। মান্ডি-কুল্লু রুটের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাও জালোগি দ্বাডায় ধসের কারণে বন্ধ হয়ে আছে। কুল্লুতে ৫৬টি এবং সিরমৌর জেলায় ২৩টি রাস্তা বন্ধ রয়েছে।

রাস্তা বন্ধ থাকায় এক জেলার সঙ্গে অন্য জেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে জরুরি জিনিসপত্র পাঠানো এবং উদ্ধারকারী দল পৌঁছনোর ক্ষেত্রে বড় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বর্ষার কারণে রাজ্যের বিদ্যুৎ এবং পানীয় জল পরিকাঠামোও ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে ৪৫টি ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফর্মার রিজিয়ন (DTR) অকেজো হয়ে আছে। এর মধ্যে ৪১টিই সিরমৌর জেলার নাহান সাবডিভিশনে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, হিমাচল প্রদেশ জুড়ে প্রায় ৮২টি জল সরবরাহ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সিরমৌরে সবচেয়ে বেশি, ৩১টি প্রকল্প বন্ধ। এরপর হামিরপুরে ১১টি এবং মান্ডিতে ৮টি প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহ স্বাভাবিক করা এখন প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

SEOC-র তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুন থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত এই ৪৩ দিনে সরাসরি দুর্যোগের কারণে ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ধসের কারণে ১৪ জন, এবং খাড়া ঢাল, পাথর বা গাছ থেকে পড়ে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সাপের কামড়ে ৭ জন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৬ জন এবং মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সরাসরি দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে লাহুল এবং স্পিতি জেলায়। এরপর কাংড়া জেলায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

শুধু সরাসরি দুর্যোগেই নয়, এই সময়ে পথ দুর্ঘটনায় আরও ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চম্বা জেলায় সবচেয়ে বেশি ১৬ জন, কুল্লুতে ১৩ জন, সিরমৌরে ১২ জন এবং সিমলায় ১১ জন মারা গেছেন। এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দেয় যে, বর্ষার সময় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা, ধস এবং পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াতের ঝুঁকি কতটা বেড়ে যায়।

সরকারি হিসেব অনুযায়ী, সরকারি সম্পত্তির মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৯১০.৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের, প্রায় ৬৮,৬৩৬.৪৩ লক্ষ টাকা। বিদ্যুৎ দপ্তরের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২০,৩৮৯.৫১ লক্ষ টাকা। রাজ্যের ১২টি জেলাতেই বাড়িঘর, ব্যক্তিগত সম্পত্তি, গবাদি পশু এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের উপর অর্থনৈতিক বোঝা আরও বাড়িয়েছে।

রাজ্য প্রশাসন, বিভিন্ন দপ্তরের দল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে দিনরাত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ধস সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করা, বিদ্যুৎ ও পানীয় জল সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরায় চালু করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে, একটানা বৃষ্টি এবং নতুন করে ধসের আশঙ্কা উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Prashant Kishor: ১০ হাজার বেকার পাবেন চাকরি! জয়ের পরেই বিহারে বিরাট ঘোষণা পিকের
PMMVY: সন্তান জন্মালেই ৫ হাজার টাকা, কারা পাবেন এই সরকারি সুবিধা? জানুন আবেদন পদ্ধতি