Himachal Pradesh: হিমাচল প্রদেশে হড়পা বান-ধস, প্রাণ গেল অন্তত ১৫৭ জনের

Published : Aug 11, 2026, 03:23 PM IST
Himachal Pradesh floods

সংক্ষিপ্ত

Himachal Pradesh Rains: এবারের বর্ষাতেও (Monsoon 2026) পাহাড়ি রাজ্য হিমাচল প্রদেশে প্রকৃতির তাণ্ডব দেখা যাচ্ছে। ভূমিধস, হড়পা বানের ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। বহু মানুষের প্রাণ যেমন গিয়েছে, তেমনই বাড়ি ভেঙে গিয়েছে, রাস্তারও ক্ষতি হয়েছে। বর্ষা যতদিন চলবে হিমাচলে এরকমই আবহাওয়া থাকতে পারে।

DID YOU KNOW ?
উত্তরাখণ্ডেও দুর্যোগ
হিমাচল প্রদেশের পাশাপাশি উত্তরাখণ্ডের বিভিন্ন জেলাতেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

Himachal Pradesh News: যত দিন যত যাচ্ছে, ততই ভয়াবহ হচ্ছে হিমাচল প্রদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্রবল বৃষ্টি, ভূমিধস এবং বৃষ্টিজনিত নানা ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যজুড়ে ২৫৯টি রাস্তা বন্ধ হয়ে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৯০০টি সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি এবং বিভিন্ন পরিকাঠামো। মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৮৬ কোটি টাকা, জানিয়েছে স্টেট ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার। সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, ৩০ জুন থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত রাজ্যে ভূমিধস ও হড়পা বন্যার মতো ঘটনায় ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৮৯ জন। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ২৫৭ জন। দুর্ভোগের এখানেই শেষ নয়। আগামী দিনে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় রাজ্যের পাঁচ জেলায় কমলা সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর (IMD)।

বিঘ্নিত বিদ্যুৎ পরিষেবা

অবিরাম বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ পরিষেবাতেও। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কুলু ও মান্ডি জেলা। রাজ্যে প্রায় ১৬১টি ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফর্মার এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বিকল হয়ে রয়েছে। এর মধ্যে মান্ডিতে ৭৭টি ট্রান্সফর্মার অকেজো হয়ে পড়েছে। সিমলায় ৪৩টি এবং কুলুতে ৪০টি ট্রান্সফর্মার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষার সময়ে হিমাচলে ভারী বৃষ্টি হলেও এ বছর পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। কুলু জেলায় নদী ও পাহাড়ি ঝর্ণাগুলিতে আচমকাই জলস্তর বেড়ে গিয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পাহাড় থেকে ধসে পড়া মাটি ও পাথরের স্রোত নীচে নেমে আসছে। হড়পা বন্যার জলে ভেসে যাচ্ছে গাড়ি এবং অস্থায়ী সেতু।

ধসে রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি

হিমাচল প্রদেশে ভূমিধসের কারণে ২৫৯টি রাস্তা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মান্ডি-কুলু হাইওয়েও রয়েছে। সবচেয়ে বেশি রাস্তা বন্ধ রয়েছে মান্ডিতে। এই জেলায় ১২০টি রাস্তা বন্ধ। চাম্বায় ৪২টি, কুলুতে ৪০টি এবং সিমলায় ৩০টি রাস্তা বন্ধ রয়েছে। প্রশাসনের দাবি, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রাস্তা পরিষ্কার করে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার কাজ চলছে। কিন্তু পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে ধস নামা এবং ভারী বৃষ্টি উদ্ধার ও মেরামতির কাজে বারবার বাধা তৈরি করছে। বর্ষার দাপটে হিমাচলে পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে ৫৪টি জল সরবরাহ প্রকল্প ক্ষতির মুখে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সিমলা—৩৩টি প্রকল্প। চাম্বায় ১৬টি এবং হামিরপুরে পাঁচটি জল সরবরাহ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিমলার আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্র কাংড়া, মান্ডি, হামিরপুর, শিমলা এবং সিরমৌর জেলায় ভারী বৃষ্টির জন্য কমলা সতর্কতা জারি করেছে। চাম্বা, কুলু, সোলান এবং বিলাসপুরেও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা, বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক করার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে নতুন করে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা, এই দুইয়ের মোকাবিলা করতে হচ্ছে হিমাচল প্রশাসনকে।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

PREV
২৫৭
হিমাচল প্রদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ২৫৭ জন নিখোঁজ।
৩০ জুন থেকে ৯ অগাস্টের মধ্যে হিমাচল প্রদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে অন্তত ২৫৭ জন নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন।
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

e-KYC: ১৫ না ১৬ অগস্ট? কত তারিখের মধ্যে গ্যাসের e-KYC না করালে বন্ধ হবে সিলিন্ডার, রইল সঠিক তারিখ
Netaji's Ashes: বাবার চিতাভস্ম দেশে ফেরাতে চান অনিতা, কেন্দ্রের মতামত জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট